অদৃশ্য শক্তিতে চলছে কাশিপুর দিঘির পাড়ে জুয়া আর অশ্লীল কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পুলিশ প্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নগরীর কাশিপুর দিঘির পাড়ের আনন্দ মেলার নামে জুয়া আর অশ্লীল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ নেতারা প্রশাসনের একটি মহলকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে জুয়া আর অশ্লীলতা মাসের পর মাস টিকিয়ে রেখেছে। যার ফলে দিঘির পাড়ের এই অশ্লীল ও অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে কারো কোন পদক্ষেপ নেই।
সরোজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস পূর্বে নগরীর কাশিপুর চৌমাথা বাজার এলাকার দিঘির পাড়ে আনন্দ মেলার নামে যাত্রা জুয়ার আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং শ্রমিক লীগ নেতারা। নগর শ্রমিক লীগের সভাপতি আফতাব আহম্মেদ, তার সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা কবির ও হাকিমের নেতৃত্বে আনন্দ মেলার নামে এখানে শুরু প্রকাশ্য জুয়া আর যাত্রা ও বিচিত্রা অনুষ্ঠানের নামে নগ্নতা।
নগরীর চার পাশে প্রকাশ্য অশ্লীলতা আর জুয়া চললেও প্রশাসনের একটি মহল মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশের পর সাধারন মানুষের পক্ষে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কাউনিয়া এবং বানিজ্য মেলার অশ্লীল যাত্রা, বিচিত্রা অনুষ্ঠান এবং জুয়া বন্ধ করে দেন। এতে করে নগরীবাসী তাকে সাধুবাদ জানান। এর প্রায় এক মাসের মাথায় সম্প্রতি বানিজ্য মেলার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় র‌্যাফেল ড্র সহ সকল আয়োজন। এর আরো পূর্বে বন্ধ হয় কাউনিয়ার আনন্দ মেলা। কিন্তু এখানো চলছে নগরীর কাশিপুর চৌমাথা বাজার সংলগ্ন দিঘির পাড়ের আনন্দ মেলা ও সেখানকার জুয়া এবং অশ্লীলতা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শ্রমিক লীগ নেতা আফতাব হোসেন ও স্থানীয় ক্ষমতাসিন দলের হাকিম এবং কবিরের নেতৃত্বাধিন আনন্দ মেলার যাত্রা, বিচিত্রা অনুষ্ঠান ও হাউজি সহ অন্যান্য জুয়া কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে মাসের পর মাস বহাল তবিয়তে চলে আসছে জোনাকী র‌্যাফেল ড্র নামের জুয়ার আসর। বরং নগরীর আশপাশের র‌্যাফেল ড্র এবং মেলা বন্ধ হওয়ার পর কাশিপুর দিঘির পাড়ের জোনাকী র‌্যাফেল ড্র’র প্রচার প্রচারনা আরো বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকটি পূর্বে ১০ টাকায় টিকেট বিক্রি করা হলেও জুয়ার আসর জমে উঠায় জোনাকী র‌্যাফেল ড্র’র টিকেটের মূল্য করা হয়েছে ২০ টাকায়।
শুধু মাত্র নগরী কেন্দ্রিক নয়, তাদের লটারির টিকেট বিক্রির প্রচার গাড়ি পৌছে গেছে ঝালকাঠি, নলছিটি, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলায়। এমনকি দেখানো হচ্ছে স্থানীয় ক্যাবেল নেটওয়ার্কের স্যাটেলাইট চ্যানেলে। প্রতিদিন ড্র এবং মোটর সাইকেল, স্বর্ণালংকার, ফ্রিজ, টিভি সহ বিভিন্ন লোভনিয় পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
যাত্রা এবং বিচিত্রা অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলে হাকিম এবং পরিমলের নেতৃত্বে দেহ ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে পূনরায় যাত্রা এবং সকল প্রকার জুয়ার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন কাশিপুর দিঘির পাড়ের আনন্দ মেলার আয়োজকরা।
এদিকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় র‌্যাল ড্র এবং যাত্রা জুয়ার বিষয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম র‌্যাফেল ড্রর নামে প্রকাশ্য জুয়া এবং স্থানীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলে তা প্রচারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত সবাই। কিন্তু সভায় সিদ্ধান্ত হলেও এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এমনটি অভিযোগ করেছেন আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, এখনো সেই লটারীর নামে প্রকাশ্য জুয়া এবং টিভিতে প্রচার এবং নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে। তারা আরো বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারাও এর কোন এ্যাকশন নিচ্ছে না। যার ফলে চরম হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা।
অপর দিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, র‌্যাফেল ড্র পরিচালনার জন্য মহানগর ছাত্রলীগ প্রতি রাতে দুই লক্ষ টাকা করে ঘুষ গ্রহন করছে। এছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং শ্রমিক লীগ সেখান থেকে গত প্রায় ৩/৪ মাসে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে। এমনকি দিন হিসেবে উৎকোচ নিচ্ছেন এয়ারপোর্ট থানা এবং মহানগর পুলিশের একটি মহল।