অতিরিক্ত সিটি টোল আদায়ের প্রতিবাদে নগর ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে ট্রাক চালক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অতিরিক্ত সিটি টোল আদায়ের প্রতিবাদে নগর ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ট্রাক শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার দুপুর দুইটা থেকে পৌনে তিনটা পর্যন্ত সড়কের উপর এলোমেলো ভাবে ট্রাক রেখে এই ধর্মঘট পালন করে তারা। পরবর্তীতে বিসিসি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের লাইন সম্পাদক মাসুম খান জানান, বরিশাল নগরীর গড়িয়ারপাড়, কালিজিরা এবং রূপাতলী এলাকায় তিনটি টোল ঘরে সিটি টোল আদায় করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিটির বাইরে থেকে কোন ট্রাক লোড অবস্থায় নগরীতে প্রবেশ করলে টোল দিতে হবে। একবার নগরীতে টোল দিয়ে প্রবেশ করলে সারাদিন নগরীর মধ্যে মালামাল পরিবহন করা যাবে। কিন্তু টোল আদায়কারীরা সে নিয়ম উপেক্ষা করে ট্রাক শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। যা বিসিসি’র হাট বাজার এবং স্টল শাখার তত্ত্বাবধায়ক নূরুল ইসলামের নির্দেশেই হয়ে আসছে। কেননা অতিরিক্ত টাকার অংশ বিশেষ নূরুল ইসলাম পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন ট্রাক শ্রমিকরা।
লাইন সম্পাদক মাসুদ বলেন, টোল ঘর নগরীর মধ্যেই। আমরা নগরীর মধ্যে মালামাল পরিবহন করছি। যে কবার আসা যাওয়া করছি, সেই কবার ৫০ টাকা করে টোল দিতে হচ্ছে। তাছাড়া ছোট ট্রাক প্রতি ৩০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হলেও টোল আদায়কারীরা ৫০টাকা করে রাখছে।
অভিযোগ করে মাসুদ খান বলেন, ইতোপূর্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করে শ্রমিকরা হামলার শিকার হয়েছে। রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা এবং ২৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কর্মকার পিংকু তার লোকজন নিয়ে শ্রমিকদের পিটিয়ে আহত করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিকবার লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু বিসিসি কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি। যে কারনে বাধ্য হয়ে তারা ট্রাক দিয়ে নগর ভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ এবং নগর ভবন ঘেরাও করে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন।
বিসিসি’র স্টল কাম হাট বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নূরুল ইসলাম জানান, তিনটি টোল প্লাজার কোনটিই ইজারা দেয়া হয়নি। বিসিসি’র কর্মচারীরাই টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করছে। তাদের সাথে স্থানীয় কিছু লোকজনও রয়েছে। তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ ইতোপূর্বে কেউ করেনি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার দাস জানান, শুরু থেকেই ছোট লোড ট্রাক ৩০ টাকা এবং বড় লোড ট্রাক ৫০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়। একবার টোল দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করলে পরবর্তীতে আর টোল দিতে হবে না। তবে নগরী থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে মালামাল নিয়ে নগরে প্রবেশ করতে হলে পুনরায় টোল দিতে হবে। দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা এ নিয়েম এখনো অব্যাহত আছে। বিসিসি থেকে কোন প্রকার টোল বৃদ্ধি করা হয়নি।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা আমার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। শ্রমিকদের তিনি লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য বলেছেন। তাছাড়া টোল প্লাজায় দু’জন পরিদর্শককে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তারা অতিরিক্ত টোল আদায় কিংবা কোন প্রকার অনিয়ম হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি করবে।