অতিরিক্ত যাত্রী আর ভাড়া নিয়ে ছাড়ছে লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার যুদ্ধটা জমেছে বৃহস্পতিবার থেকেই। এদিন সরকারি অফিস ছুটি হয়। আর রাজধানীবাসী এদিন বিকেল থেকেই বাড়ির পানে ছুটে চলে। শুক্রবার থেকে তাদের এই ছুটে চলার পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাস-ট্রেন আর নদীপথে ছুটছেন মানুষ। প্রিয় মানুষ-পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করতে রাস্তায় ঝুঁকিও নিচ্ছেন তারা। দেশের প্রধান নৌ-রুট সদরঘাট এ জনমানুষের স্রোত সন্ধ্যা থেকেই। শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, এতো মানুষের এ সমাগমের সুযোগ নিচ্ছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তুলছেন তারা। এমনকি লঞ্চের ছাদেও যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়াও। ঈদ উৎসবে এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে। অবশ্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীরা অনেকটা জোর করেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে উঠছেন। এদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের অপরাধে শনিবার চারটি লঞ্চকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)। বিআইডব্লিওটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন জানান, লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার অপরাধে এ চারটি লঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজ (শনিবার) সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৩৫টি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়ে পৌঁছবে। ভোর ৫টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৯০টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে রাজধানী ছেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুট তথা ঢাকা থেকে চাঁদপুর, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন শহরে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে শেষ মুহূর্তে এসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে তিন থেকে পাঁচশ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।
তবে সদরঘাটে লঞ্চের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ঈদের আগ মুহূর্তে কিছু অতিরিক্ত টাকা নেয়া অনেকটা নিয়ম হয়ে গেছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া কেবিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে সদরঘাট নৌরুটে ঈদ উৎসবগুলোতে কত যাত্রী রাজধানী ছেড়ে গ্রামে যান তার হিসাব নিয়ে বেশ কৌতূহলও রয়েছে অনেকের মাঝে। তবে নৌ পরিবহন মালিক সমিতির দাবি মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দুই ঈদে প্রায় ৩০ লাখ লোক সদরঘাট হয়ে ঢাকা ছাড়েন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নাল আবেদিন বলেন, যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে যাত্রীদের চাপ বেশি হওয়ায় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ঠেকানো যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন থেকে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও আগাম টিকিট ক্রয় করতে সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি। পাশাপাশি হাতেগোনা তিন-চারটি লঞ্চ ছাড়া বাকি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের কাউন্টারও খুলেননি।
জানা গেছে, মূলত এই রুট দিয়ে নদীপথে যাতায়াতকারীরা অগ্রিম টিকিট কিনতে অভ্যস্ত নন। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা-খানেক আগে আসলেই লঞ্চ পাওয়ার নিশ্চয়তার কারণে আগাম টিকিট কেনার প্রবণতা তৈরি হয়নি। তবে কেবিনের যাত্রীরা বিভিন্ন পক্রিয়ায় যোগাযোগ করে কেবিনের টিকিট আগাম ক্রয় করে রাখেন। এসব টিকিটের মধ্যে কিছু টিকিট চলে যায় আবার কালোবাজারিদের হাতেও।