অতঃপর ভিসি’র আশ্বাসে ববি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে টানা আট দিনের মাথায় দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমঝোতা বৈঠক শেষে প্রত্যাহারের এ ঘোষনা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র শামিম রহমান সোহাগ।

তিনি বলেন, অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ৮টা হতে তারা ক্যাম্পাসে সকল পরীক্ষা এবং ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বসেন। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতা বৈঠকের জন্য প্রস্তাব দেন। সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র সাথে তার কার্যলয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমঝোতা বৈঠক হয়। এসময় ভিসি চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দেয়া, দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া এবং লাইব্রেরী চালুকরণ, আবাসিক হলে ম্যাচেস পদ্ধতি চালু এবং ভর্তুকির ব্যবস্থা করন সহ শিক্ষার্থীদের ২২ দফা দাবী পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন ভিসি। আর তাই দুপুর ১টার দিকে সমঝোতা বৈঠক শেষে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষনা করেন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। তবে দাবী মেনে নেয়ার বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণে থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবী না মানা হলে পুনরায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যাবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান তিনি। এর পাশাপাশি গত ৮ দিনের আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস এবং পরীক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে তা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাধানের বিষয়ে কথা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীদের সেশন জটে না পড়তে হয় সে জন্য শুক্রবার বন্ধের দিনেও পরীক্ষা নেয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে তিনি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফয়সাল মাহমুদ রুমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতে সমঝোতা হয়েছে। এর পূর্বে রোববার রাতে নগরীর সার্কিট হাউসে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এবং সৌহার্দ্যপুর্ণ আচরনের বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সার্কিট হাউসে সভা হয়েছে। এখানে উপাচার্য এবং সংসদ সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও মুক্তিযোদ্ধারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। তাছাড়া কোটা নয়, নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতা বৈঠক করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো শোনেন উপাচার্য। পরে তাদের দাবীগুলো যথাযথভাবে মেনে নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্থ করার পাশাপাশি তাদেরকে একাডেমিক কার্যক্রমে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য। সে অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীরা পূর্বের ন্যায় নিয়মিত ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশ নিবেন বলেও জানিয়েছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা।

উলে¬খ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ পদে নিয়োগ কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরন না করার অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হক এর পদত্যাগের দাবীতে গত ১৭ জুলাই থেকে আন্দোলনে নামে বরিশালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ৬টি সংগঠন। পরবর্তীতে ভিসির অপসারন দাবীর আন্দোলন শক্তিশালী করতে ওই সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ১৯ জুলাই একটি সংগ্রাম কমিটি গঠন এবং মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন অর্থাৎ ২০ জুলাই ভিসি’র অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাল্টা মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। তবে সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাদের ব্যনার ছিনিয়ে নিয়ে কর্মসূচি পন্ড করে দেয়। এর পর ২৩ জুলাই থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগের আন্দোলন কর্মসূচি। ওইদিন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ এবং পরের দিন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছিলো শিক্ষার্থীরা। একটি পর্যায়ে সাধারন শিক্ষার্থীরা তাদের ২২ দফা দাবী নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়। এর মধ্যে উপাচার্য তাদের দাবী মেনে নেয়ার বিষয়টি জানিয়ে চিঠি প্রদান করলেও তা প্রত্যাহার করেছিলো শিক্ষার্থীরা।