ঝালকাঠির শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সভাপতি আ'লীগের নেতা বনে কোটি টাকার মালিক! | | ajkerparibartan.com ঝালকাঠির শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সভাপতি আ’লীগের নেতা বনে কোটি টাকার মালিক! – ajkerparibartan.com
ঝালকাঠির শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সভাপতি আ’লীগের নেতা বনে কোটি টাকার মালিক!

2:50 pm , December 2, 2019

 

ঝালকাঠি প্রতিবেদক ॥ নলছিটিতে এক শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সভাপতি এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, কুলকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুলকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে লুটপাটের মাধ্যমে মাত্র ১৫ বছরে কয়েকটি বাড়ি, ফ্ল্যাট, বহু জমি ও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নেতার নাম এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু।
জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পাওতা গ্রামের মৃত্যু কৃষক জহির উদ্দিনের পুত্র এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু ১৯৯২ সনে নলছিটি পৌরসভা ছাত্র শিবিরের সভাপতি এবং ১৯৯৪ সনে নলছিটি উপজেলা ফ্রিডম পার্টির সভাপতি নিযুক্ত হন। কিছুদিন খুলনায় একটি পত্রিকায় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পর এক প্রকার নিঃস্ব অবস্থায় ১৯৯৮ সনে নলছিটিতে আসে। এবং পরিত্যক্ত বিআইপির একটি কক্ষ অবৈধ দখল করে সেখানে বসবাস করে। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে ২০০০ সনে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর(শিবিখা) কুশঙ্গল ইউনিয়নের ডিলার নিযুক্ত হয়ে ১০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ণীতির মাধ্যমে ১৫ কেজির পরিবর্তে ১০/১২ কেজি গম বিতরণ করেন। যা নিয়ে ওই সময়ে অভিযোগ ওঠে এবং পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর সে ২০০৩ সনে তার দুমাউস নামক পারিবারিক এনজিওর মাধ্যমে উপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের “মানব উন্নয়নের জন্য স্বাক্ষরতা-উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প ০১(পিএলসি-০১) এর কাজ পেয়ে হরিলুট চালিয়েছে। যা ওই সময়ে পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয় এবং ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত হয়। তদন্তে অর্থ আত্মসাত প্রমাণিত হয় কিন্তু অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু দুমাউস এনজিওর মাধ্যমে ও তার স্ত্রী, আতœীয়-স্বজনের নাম দিয়ে আরো কয়েকটি সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে অনুদান এনে আত্মসাৎ করে অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়েছে। এরপর ২০০৪ সনে আওয়ামী লীগে যোগদান করে কুলকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। এবং নিজেকে তৎকালীন মন্ত্রীর পুত্র পরিচয় দিয়ে অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২০১১ সনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। মন্ত্রীর কাছের লোক হিসেবে এই শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সভাপতি নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুলকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে দু’টি পদ লাভ করেন। পাশাপাশি ২০১৬ সনে পুনরায় কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়ে সরকারি বরাদ্দ হরিলুট চালাচ্ছেন।
এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চুর নিজের ব্যক্তিগত আয়ের কোন উৎস না থাকলেও অবৈধভাবে ও অনিয়ম-দুর্ণীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা দিয়ে নলছিটি শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস সড়কে সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি দখল করে সেখানে একটি ৪তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ওই ভবনের নাম দিয়েছেন “দুমাউস ভবন”। মাত্র দেড় শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে কিভাবে এত বড় ভবন নির্মাণ করলো? আর পৌরসভা সেই ভবন নির্মাণে কিভাবে প্লান পাশ করলো সেটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এছাড়াও ওই ভবন নির্মাণে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই টাকার উৎস কোথায়? নলছিটি শহরের নান্দীকাঠী বাইপাস সড়কে ৬শতাংশ জমি ক্রয় করে বালু দিয়ে ভরাট ও দোকান ঘর উত্তোলন করেছেন,সেখানেও কমপক্ষে ২৫/৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। নলছিটি শহরের ফেরিঘাট এলাকায় আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসার পার্শ্বে ৪১ শতাংশ জমি ক্রয় করে বালু দিয়ে ভরাট করে সেখানে আধাপাকা ৬টি ঘর উত্তোলন করে ভাড়া দিয়েছে। এখানেও জমি ক্রয়, বালু দিয়ে ভরাট ও ঘর উত্তোলনে দেড় কোটি টাকার উপরে ব্যয় হয়েছে। নলছিটি উপজেলার পাওতা বাজারের সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি দখল করে সেখানে দ্বিতল একটি ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। এখানেও প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে।
এছাড়াও নলছিটির সরই গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের(পাটিকর পরিবারের) ৮/১০ বিঘা জমি ক্রয় করে সেখানে সে বাগান বাড়ি করেছে। সরকারি টাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের জমি ভরাটের নামে তার ওই জমিতে বালু দিয়ে ভরাট করে সেখানে একটি টিনসেড ভবন নির্মাণ করেছে। তার ওই বাগান বাড়িতে সরকারি টাকায় ইট সলিংয়ের রাস্তা, মাছের ঘেরে সরকারি টাকায় একটি ঘাটলা নির্মাণ, সরকারি টাকায় টিউবওয়েল, বাগান বাড়িতে কেহ না থাকলেও সেখানে সরকারি টাকায় অনেকগুলো খাম্বা দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিয়েছে এবং সোলার লাইট স্থাপন করেছে। বিকপাশা গ্রামের ফজু মৌলভীর ২ বিঘা জমি তার স্ত্রী লাভলী বেগমের নামে ক্রয় করেছে। এতেও প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তার মরহুম শ্বশুর ইউসুফ আলীর পাওতা গ্রামের বাড়িতে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে, এবং শ্বশুরের নলছিটি শহরের বিআইপির সম্মুখের জমিতে আরেকটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ চলছে, যার অর্থায়নও তিনি করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু অবৈধ ক্ষমতার দাপটে নলছিটি উপজেলা বিআরডিবি অফিসটিকে নিজের মতো পরিচালিত করছেন এবং তার শালা সাইফুলকে সেখানে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার স্ত্রী লাভলী বেগমকে অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দেলদুয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী দিয়েছে। এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বরিশালে অনেক জমি ক্রয় এবং ঢাকায় ২/৩ টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছে এবং তার নিজের,স্ত্রী ছেলে-মেয়ের নামে ৭০/৮০ কোটি টাকার এফডিআর আছে বলেও নলছিটিতে ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে।
বর্তমানে ৬ ডিসেম্বর নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। এবারের কাউন্সিলে তিনি নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন। কারন তিনি নাকি হাইকমান্ডের সবুজ সংঙ্কেত পেয়েছেন। অপরদিকে নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের দাবী এই শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সভাপতিকে এবারের কাউন্সিলে বয়কট করা হলে বিজয়ের মাসে আরেকটি বিজয় হবে নলছিটি উপজেলাবাসীদের। এজন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি কামনা করেছেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT