হালিমা খাতুন স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্ন পরিবর্তন করে বিপাকে প্রধান শিক্ষক | | ajkerparibartan.com হালিমা খাতুন স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্ন পরিবর্তন করে বিপাকে প্রধান শিক্ষক – ajkerparibartan.com
হালিমা খাতুন স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্ন পরিবর্তন করে বিপাকে প্রধান শিক্ষক

2:47 pm , December 2, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রাইভেটে শিক্ষকের সাজেসনের নামে প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বার্ষিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষকের দেয়া সাজেসন অনুযায়ী তৈরি করা প্রশ্ন পাল্টে দেয়ায় অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তখন শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়ার আশ্বাসে শান্ত হয় অভিভাবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার দুই বিষয়ের পরীক্ষার পর গত রোববার ও গতকাল সোমবার। ওই দুইদিন বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর অংক এবং ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে। জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট বা কোচিং করে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার পূর্বে সাজেশন দিয়ে দিতেন শিক্ষকরা। তার শতভাগই কমন পেত পরীক্ষার্থীরা। বিষয়টি টের পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রশ্ন পাল্টে দেন তাই স্বাভাবিক ভাবেই কমন আসেনি পূর্ব নির্ধারিত প্রশ্ন বা সাজেশন। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভাল হয়নি। আর তাতেই চটেছেন অভিভাবকরা। শেষমেশ অভিভাবকদের তোপের মুখে সকল শিক্ষার্থীকে পাশ করে দেবার আশ^াস দেন প্রধান শিক্ষক।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ইংরেজী ও গনিত পরীক্ষায় সাজেসনের প্রশ্ন পত্র কমন পায়নি পরীক্ষার্থীরা। তাই তাদের পরীক্ষা ভাল না হওয়ায় বেশীর ভাগেরই ফেল বা অকৃতকার্য হওয়ার হুমকিতে রয়েছে। তাই অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে বেশ উত্তেজিত হন। সমাধান চাওয়া হয় প্রধান শিক্ষকের কাছে। তাই প্রধান শিক্ষকও উপায়য়ন্ত না পেয়ে এই দুই শ্রেনীর সবাইকে ইংরেজী ও গনিত বিষয়ে পাশ করিয়ে দেবার আশ^াস দিয়েছেন।
নাম গোপন রাখার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, পরীক্ষার পূর্বে হুবহু সাজেশন দিয়ে দেয়া এক ধরনের প্রশ্ন পত্র ফাঁসই বলা চলে। কোচিং ও প্রাইভেট বানিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষক টাকা হালাল করার জন্য এই কাজ সব সময়ই করে আসছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি টের পেয়ে প্রধান শিক্ষক শুধু গনিত ও ইংরেজী বিষয়ের প্রশ্ন পরিবর্তন করে দেন। সিলেবাসের মধ্যে প্রশ্ন করে তা শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। ওই শিক্ষক বলেন প্রধান শিক্ষক প্রশ্নে ২ লেখা ছিলো সেটাকে ৪ করে দিয়েছেন। আর এতেই উত্তেজিত হয়ে উঠেন অভিভাবকরা। পরে শুনেছি প্রধান শিক্ষক সবাইকে পাশ করে দেবার কথা বলে অভিভাবকদের সামাল দিয়েছেন। তিনি বলেন মান সম্মত শিক্ষার প্রশ্নে বিষয়টি একদিকে যেমন অনাকাঙ্খিত ও উদ্ভেগের তেমনি দুঃখজনকও। কারন এতে শিক্ষদের পাশিাপাশি অভিভাবকদেরও নৈতিক অবক্ষয় রয়েছে। তারাই এ কাজে শিক্ষকদের উৎসাহিত করছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন স্যারের উদ্যোগটি কার্যকরী ও মহৎ ছিলো। এ বিষয়ে এক অভিভাবক বলেন পরীক্ষার পূর্বে সাজেশন ছোট বড় সব শিক্ষার্থীরই দরকার। কারন একটি নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য সাজেশন ভাল প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে। কিন্তু সাজেশন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে যদি মোটেও কমন না আসে তখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা কেমন করে। ওরা তো আর মেধা খাটিয়ে লেখার মত বড় নয়। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন তার চেয়ে ভাল কোন সাজেশন না দেয়া তাহলে আমরা ছেলেমেয়েদের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুত করব। তবে ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT