দেশী বিদেশী পর্যটকদের নজর কেড়েছে দূর্গাসাগর দিঘীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য | | ajkerparibartan.com দেশী বিদেশী পর্যটকদের নজর কেড়েছে দূর্গাসাগর দিঘীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য – ajkerparibartan.com
দেশী বিদেশী পর্যটকদের নজর কেড়েছে দূর্গাসাগর দিঘীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য

3:09 pm , December 1, 2019

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দূর্গাসগর দিঘি এখনো দেশ-বিদেশের বিভিন্নস্থানের পর্যটকদের নজর কারে। ভ্রমন পিপাসুরা এ দিঘির পাড়ে এসে একটু জিরিয়ে নিয়ে মন প্রানে ভিন্ন মাত্রার শ্রান্তি খুজে পান। অনেকেই নগর জীবনের কোলাহল থেকে সাময়িক মূক্তি লাভের জন্যও এ দিঘির পাড়ে প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটিয়ে মনকে প্রফুল্ল করেন। বিশাল এ দিঘির মাঝে একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরী করা হয়েছে। যেখানে দেশ বিদেশের শীতের পরিজায়ী পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় খুজে নেন। তবে এক অজানা কারনে গত কয়েক বছর ধরে এ দিঘিতে পাখিদের আগমন যথেষ্ট কমে গেছে।
প্রায় ৭৭ একর জমি নিয়ে দূর্গাসাগর দিঘিটি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত বদ্ধ জলাশয়। ১৯৭৪ সালে দিঘিটি পুণঃখনন করে বর্তমান রূপ দেয়া হয়েছে। এর মাঝের কৃত্রিম দ্বীপটিও সে সময়ে তৈরী করা হয়। দিঘিটি খনন করতে গিয়ে উদ্ধার হয়েছে বিশালাকৃতির ঘোড়ার কষ্টিমূর্তি। যা বর্তমানে বরিশাল যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
’৭৪ সালে দূর্গাসাগর দিঘি পুঃখননের সময় এর চার ধারে পাড় বাধাই সহ পশ্চিম পাড়ে একটি ছোট বিশ্রামাগার নির্মান করা হয়। এর তিন পাড়ে ঘাটলা সংস্কার ও পুণঃ নির্মান করা হয়। এর পর থেকেই দূর্গাসগরে পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। ১৯৯৮-৯৯ সালে দিঘির সীমানা নির্ধারন করে প্রাচির ও গেট নির্মান করা হয়। এখানে প্রবেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা হয়। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নামমাত্র প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে দিঘিটিতে প্রবেশের অনুমোদন মেলে ।
তবে দূর্গাসাগর দিঘিকে ঘিরে সাবেক পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন কিছু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করে গেছেন। ইতোমধ্যে সে প্রকল্প মন্ত্রনালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন শেষে অবকাঠামো নির্মান শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। ২০২১-এর জুনের মধ্যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দূর্গাসাগরে বিশ্রামাগার, রেষ্ট্রুরেন্ট, পিকনিক স্পট নির্মান ছাড়াও পুরনো ঘাটনাগুলো সংস্কার ও পুণঃ নির্মান করা হবে। সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব একটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে দূর্গাসাগর দিঘি। প্রাথমিকভাবে দিঘিটির পূর্ব ও দক্ষিন পাড়কে ঘিরে এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এজন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় জমিও পর্যটন করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ইতোমধ্যে। দূর্গাসগরের প্রকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাধীক অগ্রাধিকার দিয়ে এখানে পর্যটন উপযোগী উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হবে বলে দাবী করেছন পর্যটন করপোরেশনের দায়িত্বশীল মহল।
সতের’শ সালের শেষ দিকে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ বা বাকলাÑচন্দ্রদ্বীপ রাজ বংশের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়নের মৃত্যুর পরে জেষ্ঠপুত্র লক্ষ্মী নারায়ন রাজত্ব গ্রহন করলেও তারও অকাল মৃত্যু ঘটে। ফলে রাণি দূর্গাবতি রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে প্রজাদের কল্যানে বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকান্ড শুরু করেন। তারই অংশ হিসেবে প্রজাদের সুপেয় পানির কষ্ট লাঘবের লক্ষে বর্তমান বরিশাল মহানগরী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মাধবপাশায় প্রায় ৭৭ একর জমি নিয়ে একটি দিঘি খনন করেন। রানির নামানুসারেই ঐ বদ্ধ জলাশয়ের নামকরন করা হয় ‘দূর্গাসাগর দিঘি’।
সে থেকে ঐ এলাকার প্রজা সাধারন দূর্গাসাগরের পানি পান করে জীবন ধারন করে আসছিলেন। তবে কালের বিবর্তনে রাজবংশের পতনের ফলে সে দিঘি আর সংরক্ষন না হওয়ায় একসময়ে তা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। জমিদারী প্রথারও বিলুপ্তি ঘটে। পুরো দূর্গাসাগর সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। স্বাধীনতার পরে সংস্কারের ফলে দূর্গাসাগর দিঘি আবার তার পুরনো রূপ ফিরে পেয়েছে। তা ইতোমধ্যে একটি আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।
বরিশাল মহানগরীর কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড থেকে বানরীপাড়াÑছারছিনা-নেছারাবাদগামী বাস বা থ্রীÑহুইলারে করে মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই পৌছে যাওয়া যায় দূর্গাসাগর দিঘির পশ্চিম পাড়ের প্রধান ফটকে। সেখানে টিকেট সংগ্রহ করেই ভেতরে প্রবেশ করে ঘুরে বেড়ান যাবে দূর্গাসাগরের চারিধারে। এমনকি দিঘির ঘাটলায় গোসলও কারা যায়। তবে এক্ষেত্রে শিশু, নারী ও সাঁতার না জানা যে কাউকে দিঘির পানিতে নামতে বারন করা হয়। কিন্তু সে বিধি নিষেধ অমান্য করে অনেকেই বেকায়দায়ও পড়েন।
তবে এসব কিছুর পরেও দূর্গাসাগর এখনো পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থান। প্রকৃতির মাঝে নিজেদের হারিয়ে ফেলতে শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ ছুটে আসছেন বরিশালের দূর্গাসাগর দিঘির পাড়ে। ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে পাখির কলকাকলিতে মন হারিয়ে যায় প্রকৃতির মাঝে। দূর্গাসাগর থেকে অঅরো ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে শের বাংলা এক ফজলুল হক-এর পৈত্রিক নিবাস। তার প্রতিষ্ঠিত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে রয়েছে শের এ বাংলা জাদুঘর। যেখানে শের এ বাংলা ও তার বংশের অনেক দুস্প্রাপ্য সামগ্রী সংরক্ষিত আছে। আছে দক্ষিণাঞ্চলের আরো বেশ কিছু প্রতœতত্ব নিদর্শনও। দূর্গাসাগর দেখে শের এ বাংলা জাদুঘরও ঘুরে দেখতে ভোলেন না অনেক পর্যটক।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT