জাল ভরে ইলিশ উঠার লোভে প্রান গেছে জেলেদের | | ajkerparibartan.com জাল ভরে ইলিশ উঠার লোভে প্রান গেছে জেলেদের – ajkerparibartan.com
জাল ভরে ইলিশ উঠার লোভে প্রান গেছে জেলেদের

3:01 pm , November 12, 2019

শহিদুল ইসলাম জামাল চরফ্যাশন ॥ ঘূর্নিঝড় বুলবুলের কবলে পরে ডুবে যাওয়া মাছ ধরা ট্রলারসহ নিখোঁজ চরফ্যাসনের ১০ জেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। মহাবিপদ সংকেতের মধ্যে নিরাপদে না এসে ইলিশ ছিল তোফায়েল মাঝির “আম্মাজান-২” নামের ট্রলারটি। একদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অন্যদিকে জাল ভরে উঠছে ইলিশ। শেষ পর্যন্ত জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিরাপদে না এসে ইলিশ শিকার করে। ১২৫ মন ইলিশ নিয়ে প্রায় দুদিন উত্তাল ঢেউ ভেঙ্গে বিক্রী করতে যায় চাঁদপুরের মোকামে। মোকাম থেকে মাছ বিক্রির সাড়ে ১৯ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই দূর্ঘটনায় পড়ে ১০ জনের সলিল সমাধি ঘটে। রোববার দুপুরে ভোলার ইলিশার মেঘনা নদীতে ওই ট্রলার ডুবির পর তাৎক্ষণিক ১৩ জেলে জীবিত উদ্ধার হয়। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে মো. নাসিম নামের এক জেলে। এদিকে দূর্ঘটনার ২দিন পর সোমবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনার বাহাদুরপুর পয়েন্টে থেকে নিমর্জ্জিত ট্রলার সহ ৯ জেলেকে উদ্ধার করে পুলিশ ও কোস্টগার্ড। এর আগে রোববার আরও একজনকে উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো- ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার আবুবক্করপুর এলাকার কামাল দালাল (৩৫), একই এলাকার মফিজ মাতুব্বর (৩৫), নূরাবাদ এলাকার হাসান মোল্লা (৩৮), একই এলাকার নুরুন্নবী বেপারী (৩০), ফরিদাবাদ এলাকার নজরুল ইসলাম (৩৫), একই এলাকার কবির হোসেন (৪০), আব্দুল্লাহপুর এলাকার মো. বিল্লাল (৩২) ও একই এলাকার খোরশেদ (৪০), চরফ্যাশন থানার উত্তর শিবা এলাকার আব্বাস মুন্সি (৪৫), একই এলাকার রফিক বিশ^াস (৫৫)। এছাড়া রোববার রাতে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম খোরশেদ।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতদের নিজ এলাকা চরফ্যাশনে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ভোররাতে লাশবাহি ট্্রলারটি মেহেন্দীগঞ্জ থেকে চরফ্যাশন আবদুল্লাহপুরের মৃর্ধার খাল ঘাটে আসলে স্বজনদের আহাজারীতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অপরদিকে মৃতদের প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক। জীবিত উদ্ধার হওয়া চরফ্যাসনের আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবা গ্রামের জামাল মাঝি, আমজাদ ও সালাউদ্দিন জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আগে তারা ২১ জন মাঝি মাল্লা তোফায়েল মাঝির “ আম্মাজান-২” ট্রলারে সাগরে মাছ ধরতে যায়। দুই দিনে ওই ট্রলারে প্রায় ১শ’ ২৫ মন ইলিশ ধরা পড়ে। ওই ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি সাগর থেকে সরাসরি চাঁদপুর মোকামে চলে যায়। সেখানে সাড়ে ১৯ লাখ টাকার মাছ বিক্রী করে রোববার নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এসময় তাদের সাথে আরও ৩জনকে সাথে নিয়ে আসেন। ওইদিন দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকা এসে ঝড়ে কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝি সবাইকে সর্তক করে। কিন্তু ঝড়োবৃষ্টির কারণে অতিথি সহ ২১ মাঝি মাল্লা ট্রলারের ইঞ্জিন রুমের মধ্যেই থেকে যায়। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময় ১০ জন বের হতে পারলেও বাকীরা ইঞ্জিণ রুমে আটকা পড়ে। দূর্ঘটনার সময় ওই ট্রলারে নগদ ১০ লাখ টাকা ছিল।
পুলিশ ও কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দূর্ঘটনার পরদিন নিমর্জ্জিত ট্রলার সহ খোরশেদ নামের এক জেলের লাশ উদ্ধার করে। সোমবার বিকালে উদ্ধার করা ট্রলারের ভিতর থেকে একে একে বেড়িয়ে আসে আবদুল্লাহপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসান মোল্লা, রফিক বিশ্বাস, আব্বাস মাঝি ও বিল্লাল হোসেন, আহম্মদপুর গ্রামের নুরনবী, খোরশেদ, নুরাবাদের কবির, মফিজ ও কামালের লাশ। আইনী প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখনও নিখোঁজ রয়েছে চর যমুনা গ্রামের মো. নাসিম। দুর্ঘটনার পর পর উদ্ধার হয় ট্রলারের মাঝি তোফায়েল, আমজাদ, সালাউদ্দিন, হোসেন, জামাল মাঝি, কালু বিশ্বাস, হেজু, জাকির,ফয়সাল ও আজাদ। এদের সবার বাড়ি চরফ্যাসনে। গতকাল বিকালে নিখোঁজ মো. নাসিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারে লোকজন এখনও তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। স্ত্রী নুরতাজ বেগম, মেয়ে সাথী ও মা বিবি ফাতেমা আহাজারী করছেন। তারা জানিয়েছেন, গত ২দিন ধরে নাসিমের বড় ছেলে শাহিন মেঘনা পাড়ে পাড়ে ঘুরছে বাবার লাশের সন্ধানে। জীবিত অথবা মৃত যাই হোক নাসিমকে ফিরে পেতে সরকারের সাহায্য চেয়েছে স্বজনরা।
স্থানীয় আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল এমরান জানিয়েছেন, নিহতের মধ্যে অনেকই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। এদের জন্য সরকারি সহায়তা পেলে ভালো হবে। অপরদিকে দুপুরে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক। তিনি আরও জানান, নিহতদের জেলে কার্ড থাকলে মৎস্য বিভাগ থেকে আরও এক লাখ টাকা করে সহায়তা করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT