জগদীশ সারস্বত স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও অর্থ আতœসাতের অভিযোগ | | ajkerparibartan.com জগদীশ সারস্বত স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও অর্থ আতœসাতের অভিযোগ – ajkerparibartan.com
জগদীশ সারস্বত স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও অর্থ আতœসাতের অভিযোগ

3:06 pm , October 23, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ফেনীর সোনাগাছি মাদ্রাসা কান্ডের মতো অভিযোগ উঠেছে নগরীর জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের একাধারে মহিলা শিক্ষক ও কর্মচারীদের যৌন নিপিড়ন এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে মাত্রারিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে চলছে চরম অসন্তোষ। বিঘিœত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম। সম্প্রতি ১০ লাখেরও বেশী টাকা আতœসাতের অডিট আপত্তি এসেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তারপরও অদৃশ্য ইশারায় এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন প্রতিষ্ঠানটিতে ম্যানেজিং কমিটি না থাকার সুযোগটা পুরোপুরি নিচ্ছেন অধ্যক্ষ শাহ আলম। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন শাহ আলম। ওই সভাপতির ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানিটিতে শুরু করেন নিজ স্বেচ্ছাচারিতা। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত একাধিক নারী শিক্ষক ও কর্মচারীর সাথে বিরামহীন ভাবে শুরু করেন যৌন হয়রানী ও নিপিড়ন। এ ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ৪ জন নারী শিক্ষক ও ৮ জন নারী কর্মচারী অধ্যক্ষ শাহ আলমের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় অসৌজন্যমুলক আচারন, যৌন হয়রানী এবং চাকুরি থেকে বরখাস্তের হুমকি প্রদানের অভিযোগ এনে ৮ টি সাধারন ডায়েরী করেন। বিষয়টি নিয়ে থানা থেকে সরেজমিন তদন্ত হয়। কিন্তু সেখানেও বাধ সাজে ম্যানেজিং কমিটির ওই সভাপতি। তারপরও তদন্তকারী কর্মকর্তা সতর্ক করেন অধ্যক্ষ শাহ আলমকে। লজ্জিত হয়ে এই অধ্যায় শেষ করলেও এরপরই শুরু করেন অর্থ আতœসাতের নতুন অধ্যায়। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে আতœসাত করতে শুরু করেন মোটা অংকের অর্থ। ২০১৭ সালের সালের শেষের দিকে ম্যানেজিং মেয়াদ শেষ হবার পর নিজ ক্ষমতা বলে ব্যাংকে ব্যক্তিগত হিসাব খুলে নিজ মতো প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয় পরিচালণা করতে শুরু করেন। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির এডহক কমিটিকে অভ্যন্তরীন অডিট করার নির্দেশ দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী এডহক কমিটির সভাপতি রাবেয়া খাতুন ৫ সদস্যের একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে দেন। যে কমিটি গত ২৭ আগষ্ট নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেন এডহক কমিটির কাছে। প্রতিবেদনে অর্থ আতœসাতের নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদন আবার পর্যালোচানা করে প্রতিবেদন এডহক কমিটির সভাপতি রাবেয়া খাতুনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গত ৩ অক্টোবর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধ্যক্ষ শাহ আলম প্রতিষ্ঠানের ভবন উন্নয়ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে, শিক্ষার্থীদের জন্য ডায়েরী তৈরী করে তা বিতরন না করে এবং বৈদ্যুতিক কাজে বিল প্রদান বাবদ অতিরিক্ত বিল দাখিল করে সর্ব মোট ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ টাকা আতœসাত করেছেন। যে কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, অডিট আপত্তির অনুলিপি আমরা পেয়েছি। বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে নির্দেশনা আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূলত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসব ধরনের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে ম্যানেজিং কমিটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন অধ্যক্ষ শাহ আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারনে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার। না হলে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ধ্বংস অনিবার্য।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT