নগরীতে চলছে বিজয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋন প্রকল্প সমিতির অবৈধ কার্যক্রম | | ajkerparibartan.com নগরীতে চলছে বিজয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋন প্রকল্প সমিতির অবৈধ কার্যক্রম – ajkerparibartan.com
নগরীতে চলছে বিজয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋন প্রকল্প সমিতির অবৈধ কার্যক্রম

2:38 pm , October 15, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অফিস নেই, নেই নিবন্ধন। নেই বৈধতার কোন চিহ্ন। তারপরও বৈধবেশে বেশ দাপটের সাথেই কার্যক্রম পরিচালণা করছে নগরীর বিজয় ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋন প্রকল্প সমিতি। নামের সাথে ক্ষুদ্র শব্দটি যুক্ত থাকলেও বৃহৎ পরিসরে ঋন বিতরন ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে চলছে এই প্রতিষ্ঠানটি। নিজের আখের গোছাতে ও ঋনের বিপরীতে বড় অংকের সুদ হজম করতেই প্রতিষ্ঠানটির এই অপব্যবসায়িক কৌশল। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বাপ্পী অবশ্য নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন তার প্রতিষ্ঠানের কোন রেজিষ্ট্রেশন বা নিবন্ধন নেই। তবে তিনি আরো বলেছেন নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা করার বৈধতা তাকে দেয়া হয়েছে। গ্রাহকদের প্রদান করা সঞ্চয় ও ঋনের পাশ বইয়ে অফিসের ঠিকানা লেখা হয়েছে শুধু হাটখোলা রোড, বরিশাল। অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কোন অফিস নেই। নগরীর দপ্তরখানায় প্রোপাইটার বাপ্পী তার নিজ বাসায় বসে পরিচালনা করেন অফিসের কার্যক্রম। জানা গেছে, ব্যবসার জন্য গ্রাহক ধরতে নগরীর খ্যাতনামা মহসিন মার্কেটকে বেছে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বাপ্পী। মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে তার ঋন দেয়া আছে। তিনি ছোট বা ক্ষুদ্র ঋন প্রদান করেন না। নূন্যতম ১ লাখ থেকে শুরু হয় তার ঋন বিতরন কার্যক্রম। ব্যবসায়ীরা জানান লাখ প্রতি ২০ হাজার টাকা সুদ নিয়ে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে মার্কেটে কিস্তি (ঋনের বিপরীতে অর্থ উত্তোলন) নিতে আসেন বাপ্পী। অসুবিধার কারনে কোন ব্যবসায়ী তথা ঋন গ্রহীতা একদিনের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে গালমন্দ করা সহ খুব খারাপ ব্যবহার করেন বাপ্পী। এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বাপ্পী বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই। তারপরও আমি কার্যক্রম চালাতে পারব। কারন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে রেখেছি। নিবন্ধনের শর্ত হিসাবে আমাকে সদস্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তাই সদস্য সংগ্রহে কাজ করছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋন দিতে পারব। ঋন প্রদান ও প্রতিষ্ঠান চালাতে নিয়ম নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপনাকে বলতে আমি বাধ্য নই। এর পরই নিজেকে বরিশাল পূজা উদযাপন কমিটির প্রভাবশালী সদস্য নারায়ন চন্দ্র নারু তার কাকা হয় জানিয়ে দম্ভোক্তি করে বলতে শুরু করেন এসব অভিযোগ করে লাভ নেই কিছুই করতে পারবেন না। পরে এক সংবাদকর্মীসহ আরো দু একজনের নাম উল্লেখ করে বলেন তারা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভাল করেই জানেন। এই প্রতিবেদককে তাদের কাছ থেকে তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য বলেন। জানতে চাইলে জেলা সমবায় অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির নামের সাথে সমবায় শব্দটি নেই। সেহেতু এটা আমাদের দেখবালের মধ্যে পড়ে না। অফিস ও নিবন্ধন ছাড়া ঋন প্রদানের ব্যবসা এক ধরনের সুদের ব্যবসার এবং এ ব্যবসায় গ্রাহক ঝুকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন এটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT