ডেঙ্গু জ¦রে বেশী মৃত্যু ঘটেছে শিশু ও বৃদ্ধ'র | | ajkerparibartan.com ডেঙ্গু জ¦রে বেশী মৃত্যু ঘটেছে শিশু ও বৃদ্ধ’র – ajkerparibartan.com
ডেঙ্গু জ¦রে বেশী মৃত্যু ঘটেছে শিশু ও বৃদ্ধ’র

3:00 pm , October 12, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে নিহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশী। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ১০ থেকে ১৮ এর মধ্যে আর বৃদ্ধ রয়েছে ৪৫ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত। বিভাগে ডেঙ্গু জ¦রে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ৪ জন রয়েছে যুবক। যাদের বয়স ২৪ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তবে নিহতদের একজনও নগরীর বাসিন্দা নেই। বিভাগের ৬ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের বাসিন্দা এরা। এদের মধ্যে অনেকে নিজ নিজ বাড়িতে ও অনেকে আবার কর্মস্থল থেকে ডেঙ্গু জ¦র নিয়ে এসেছেন। আর কর্মস্থল উল্লেখ করতে গিয়েৎ ঢাকার নামটিই বলেছেন বেশীর ভাগ রোগীর স্বজনরা। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১১ জনেরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটেছে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ৩০ জুলাই গৌরনদীর আশুকাঠি গ্রামের বৃদ্ধা আলোয়া বেগমের (৫৫) মৃত্যু দিয়ে শুরু হয় এ বছরের বরিশালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু। যার মৃত্যু ঘটে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ওই দিনই শেবাচিম হাসপাতালে মৃত্যু ঘটে দুই যুবকের। একজন বাকেরগঞ্জের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী যুবক আসলাম খান এবং অপর জন পিরোজপুরের কাউখালীর সোহেল নামের ১৮ বছরের এক যুবক। এর পর ৮ দিন বিরতি দিয়ে ৯ আগষ্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটে আরো ২ জনের। এরা দুজনেই বরগুনার বাসিন্দা। একজনের নাম মজিবর (৫৫) অপর জন তাওহীদ (১৮ মাস)। এদের মধ্যে মজিবর রহমান (৫৫) বরগুনা সদরের চরকলোনী এলাকার এবং তাওহীদ সদরের লাকুরতলা এলাকার। বরগুনায় বসেই মৃত্যু ঘটে উভয়ের। ১০ আগষ্ট শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে রাজাপুরের ১০ বছর বয়সী কিশোর রুশার। আবারো এক সপ্তাহের বিরতি দিয়ে ১৯ আগষ্ট মারা যায় পটুয়াখালীর দুমকির কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া। পরের দিন মারা যায় বরগুনার আমতলীর ৩ নং ওয়ার্ডেও বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী আসমা বেগম। ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে ২২ আগষ্ট মৃত্যু ঘটে মেহেন্দীগঞ্জের রুকুনদী এলাকার যুবক মনির হোসেনের। পরের দিন মৃত্যু ঘটে গৌরনদীর গৃহবধূ ৩৪ বছর বয়সী নাসিমা বেগমের। ২৪ অক্টোবর মৃত্যু ঘটে পিরোজপুরের তেজদাসকাঠি এলাকার মমতাজ বেগমের। যার বয়স ছিলো ৪৫। আগষ্টের শেষের সপ্তাহে ডেঙ্গু জ¦রে আর কোন রোগীর মৃত্যু ঘটেনি বরিশালে। ১১ সেপ্টেম্বর মুলাদীর চর লক্ষিপুর গ্রামের কিশোর জিহাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুরু হয় আবার ডেঙ্গু রোগী মৃত্যু। পরের দিন বরগুনার পাথরঘাটার প্রত্যন্ত অঞ্চল পদœা গ্রামের স্কুল ছাত্রী ১৪ বছর বয়সী সুরাইয়ার মৃত্যু ঘটে। একই ভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু ঘটে পটুয়াখালী সদরের জৈনকাঠি এলাকার বৃদ্ধ সৈয়দ বরু এবং বরগুনার বেতাগীর জোয়ার বরুনা এলাকার ৪৫ বছর বয়সী সাধনা রানীর। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন বলেন, আমি মনে করি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না নেয়া তথা হাসপাতালে ভর্তি না হওয়াটাই মৃত্যুর অন্যতম কারন। তিনি বলেন ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্তের শুরুতেই সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করা হলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হতো। যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তারা সবাই মুমুর্ষ অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের উপ পরিচালক ডাঃ বাসুদেব কুমার দাস বলেন বরিশাল বিভাগে তুলনামূলক ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কমই ঘটেছে। আর কোন স্থান থেকে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এখন পরিস্থিতি সারা দেশের মত বরিশালে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT