নগরীতে মদ্যপানে তিন বন্ধুর মৃত্যু | | ajkerparibartan.com নগরীতে মদ্যপানে তিন বন্ধুর মৃত্যু – ajkerparibartan.com
নগরীতে মদ্যপানে তিন বন্ধুর মৃত্যু

3:06 pm , October 10, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে অতিরিক্ত মদ্যপানে তিন বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দু’জন এবং অপরজনের বুধবার দিবাগত রাতে মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডস্থ দপ্তরখানা এলাকার বাসিন্দা জোসিস প্রকাশ রায় এর ছেলে সিদ্ধার্থ রায় মিঠু (৩২), একই এলাকার বাসিন্দা নরেন্দ্র নাথ কর্মকারের ছেলে বিকাশ চন্দ্র রায় (৩২) ও মহানগরীর বিমানবন্দর থানাধীন গণপাড়ার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র দাস এর ছেলে রতন চন্দ্র দাস (২৫)। হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ‘মৃত্যু হওয়া তিন জনের মধ্যে বিকাশ রায় বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে ভর্তি হলে বেলা ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের একই ইউনিটে ভর্তি হওয়া সিদ্ধার্থ রায় মিঠু দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অপরজন রতন দাস ৯ অক্টোবর সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-২ এর অধীনে ভর্তি হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন রাত রাত ৮টার দিকে মারা যায়। মদ্যপানে এই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানালেও এদের মধ্যে রতন দাস ও বিকাশ চন্দ্র দাসকে হৃদ রোগ ও বমি সমস্যা উল্লেখ করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সিদ্ধার্থ অ্যালকোহল পানে অসুস্থ হয়েছে বলে ভর্তি হয়। তথ্য নিশ্চিত করে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনজন অতিরিক্ত মদ্যপানে মৃত্যু হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তিনটি লাশই তথ্য গোপন করে হাসপাতাল নিয়ে এসে সৎকারের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা কোথায় কখন এবং কিভাবে মদ্যপান করলো সে বিষয়টি এখনো স্পস্ট নয়।
এদের মধ্যে নিহত সিদ্ধার্থ রায় মিঠুনের ভাই বিপ্লব চন্দ্র রায় বলেন, ‘সিদ্ধার্থ হাটখোলা এলাকায় হোগলা ও সাজির ব্যবসা করে। শুনেছি দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বে দপ্তরখানায় বন্ধুরা মিলে চোলাই মদ পান করে। এতে তাদের মধ্যে তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে বিকাশ ও সিদ্ধার্থকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিন্তু অবস্থা বেগতিক হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অবশ্য রতন ওদের বন্ধু কিনা সে নিশ্চিত নন বিপ্লব।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা বলেন, ‘তিনটি মৃতদেহের মধ্যে দুটি কোতয়ালী থানার মধ্যে। অপরটি এয়ারপোর্ট থানার অধীনে। এরই মধ্যে কোতয়ালী থানা এলাকার দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া অপর লাশটির বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ বিন আলম জানান, রতনের মৃত দেহটি বুধবার রাতেই তড়িঘরি করে সৎকার সম্পন্ন করেছে স্বজনরা। তবে হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যুর প্রমান পত্র অনুযায়ি রতন বারবার বমি ও হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে। উদ্ধার হওয়া অপর দুই লাশের সাথে রতনের লাশের কোন সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সে বিষয়টি কোতয়ালি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তাছাড়া ঘটনা যেহেতু কোতয়ালি থানা এলাকায় সেহেতু আইনি ব্যবস্থা নেয়া হলে তারাই নেবে।
এদিকে উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভ’ঁঞা বলেন, ‘দুইটি মৃতদেহ’র ময়না তদন্ত করে মৃত্যুর বিষয়টি ভালোভাবে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া ওদের সাথে আরো কারা মদ্যপান করেছে, কোথায় বসে করেছে এবং কোথা থেকে মদ সংগ্রহ করেছে, কারা বিক্রি করছে সে বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT