২২ দিন মাছ শিকার করবে না তজুমদ্দিনের মৎস্যজীবীরা | | ajkerparibartan.com ২২ দিন মাছ শিকার করবে না তজুমদ্দিনের মৎস্যজীবীরা – ajkerparibartan.com
২২ দিন মাছ শিকার করবে না তজুমদ্দিনের মৎস্যজীবীরা

3:33 pm , October 8, 2019

তজুমদ্দিন প্রতিবেদক ॥ আজ ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও পাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়। একই সাথে ইলিশের প্রধান এই প্রজনন মৌসুমে মাছ মজুদ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের উপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরে তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বিভিন্ন মৎস্য ঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সচেতনতা মূলক সভা সমাবেশ করছে। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, এসময়ে ইলিশ মাছ মিঠা পানিতে এসে ডিম পাড়ে। তাই এই সময়ে মা ইলিশ যাতে নিবিঘেœ ডিম ছাড়তে পারে এজন্য ২২ দিন মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আইন অমান্যকারীরা কমপক্ষে এক বছর থেকে দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। এই উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং, ব্যানার টানানো, লিপলেট বিতরণের পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে স্লুইজ ঘাট, চৌমহনী ঘাট, গুরিন্দা বাজারসহ বিভিন্ন মাছ ঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সভা করা হয়। এসব সভায় উপস্তিত ছিলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহজুর রহমান, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমি হোসেন, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফারুক আহম্মেদ, কোষ্ট গার্ড কন্টিজেন্ট কমান্ডার মোঃ জাহিদ মিয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাট ঘুরে জেলেদের মধ্যেও সচেতনতা লক্ষ করা গেছে। কালাম মাঝি, মফিজ মাঝি, আলমগীর মাঝিসহ একাদিক জেলেরা জানায়, বছরের অধিকাংশ সময়ে নদীতে মাছ ধরা পড়ে না। গত দুই মাস ধরে নদীতে বেশ ভালোই মাছ ধরা পড়ছে। কিন্তু টানা ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর তারা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ে। তবুও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখবেন।
উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার ৭ জন জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দিবে সরকার। এছাড়া মা ইলিশ রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে প্রধান প্রজনন মৌসুমের ২২ দিন জেলেদের নামে প্রদত্ত ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে ব্যাংক ও এনজিওগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে নদীতে যাতে কেই মাছ ধরতে না পারে সেজন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর, কোষ্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে ৪টি টিম সার্বক্ষনিক নদীতে টহলে থাকবে। এছাড়া নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার, লঞ্চ, বরফ কল, মৎস্য আড়ৎগুলোতে মাছ ক্রয় বিক্রয় ও মজুদ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা এই আইন আমান্য করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT