আগৈলঝাড়ায় স্বেচ্ছা শ্রমে সু-দৃশ্য নয়নাভিরাম তোরণ পদ্মা সেতুর আদলে দেড়শ ফুট লম্বা সেতু নির্মান | | ajkerparibartan.com আগৈলঝাড়ায় স্বেচ্ছা শ্রমে সু-দৃশ্য নয়নাভিরাম তোরণ পদ্মা সেতুর আদলে দেড়শ ফুট লম্বা সেতু নির্মান – ajkerparibartan.com
আগৈলঝাড়ায় স্বেচ্ছা শ্রমে সু-দৃশ্য নয়নাভিরাম তোরণ পদ্মা সেতুর আদলে দেড়শ ফুট লম্বা সেতু নির্মান

3:05 pm , October 7, 2019

কে,এম আজাদ রহমান, আগৈলঝাড়া ॥ বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা হচ্ছে আগৈলঝাড়ায়। দর্শনার্থীদের মধ্যে আলোরন সৃষ্টি করেছে বারপাইকা সার্বজনীন পূজা উৎযাপনের আয়োজন। স্বেচ্ছা শ্রমে তিন হাজার শ্রমিক দুই মাস কাজ করে নির্মান করেছে সু-দৃশ্য নয়নাভিরাম তোরণ, পদ্মা সেতুর আদলে দেড়শ ফুট লম্বা পদ্মা সেতু, প্রবেশদারে তিনদিকে পাহার সু-দৃশ্য সুরঙ্গপথে বিভিন্ন দেব দেবির মন্দির এবং মহাদেবের বিশাল মুর্তি। আরএ আয়োজন দেখতে ভারত থেকেও লোক এসেছে। প্রতিদিন আগৈলঝাড়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলার হাজার হাজার ভক্তবৃন্দসহ দর্শনার্থীরা ভির করছে বারপাইকা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন পূজা মন্ডপে। মন্দির কমিটির সভাপতি নিহার রঞ্জন রায় জানান, ১৯৬৭ সাল থেকে রতœপুর ইউনিয়নের বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে সার্বজনীন দুর্গা পূজা হয়ে আসছে। বারপাইকা যুবসমাজের উদ্যোগে বিগত সাত বছর যাবৎ এর আয়োজন ব্যাপকতা লাভ করছে। চলতি বছর দুর্গা পূজা উপলক্ষে দুই মাস আগে থেকে মন্দিরের সামনে সুদৃশ্য নির্মান শৈলী কাজ শুরু করে এলাকাবাসী। প্রতিদিন ৫০-৬০ জন স্বেচ্ছা শ্রমের দুই মাসে ৩-৪ হাজার শ্রমিক রাত দিন কাজ করে সু-দৃশ্য নয়নাভিরাম তোরণ (গেট), পদ্মা সেতুর আদলে দেড়শ ফুট লম্বা পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর এক দিকে রেলিংএ রয়েছে প্রধান মন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র এবং অপর পার্শে রয়েছে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া চিত্র। প্রবেশদারে তিনদিকে পাহার সু-দৃশ্য সুরঙ্গপথে বিভিন্ন দেব দেবির মন্দির এবং বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরী মহাদেবের বিশাল আকৃর্তির মুর্তি। এতে লক্ষাধিক টাকার কাপড়, ৫মন লোহা, দুই হাজার কেজি দরি (সুতলী) প্রয়োজন হয়েছে। নির্মান কাজে মূল কারিগর ছিলেন, বারপাইকা গ্রামের বিবেক সরকার, প্রিয়লাল বিশ্বাস, হরবিলাশ সরকার, গৌরঙ্গ মন্ডল এবং এদের সহযোগীতায় ছিলেন ঐ গ্রামের ৫০-৬০ জন যুবক। এ আয়োজন দেখতে সু-দুর ভারত থেকে এসেছেন সরস্বতী বেপারী ও রঙ্গলাল বাড়ৈ। পূজা চলাকালিন প্রতিদিন মনমুদ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রতিদিন আগৈলঝাড়াসহ পার্শ্ববর্তী উজিরপুর, কোটালীপাড়, গৌরনদী, কালকিনি, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকারার হাজার হাজার ভক্তবৃন্দসহ দর্শনার্থীরা ভির করছে বারপাইকা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন পূজা মন্ডপে। মন্দির আঙ্গীনায় কথা হয় পটুয়াখালী থেকে আসা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জীর সাথে, তিনি পূজা উপলক্ষে এসেছেন। ঢাকা থেকে আসা পলাশ সরকার বলেন, বারপাইকা পূজা কমিটির আয়োজন দেখে সত্যিই আমি মুগ্ধ। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর বাড়ৈ জানান, পূজা উলক্ষে যে আয়োজন হয়েছে তাতে প্রায় ১৫-২০ লক্ষ্য টাকা খরচ হতো। তবে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় স্বেচ্ছশ্রমে কাজ করায় খরচ অনেক কম হয়েছে। এ আয়োজনের সাথে বারপাইকা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন সম্পৃক্ত রয়েছে। মন্দিরসহ সাজসজ্জার কাজে গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৫শতাধিক বাঁশ ও ২৫টি গাছ মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এ আয়োজন বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড়। পানি উন্নয় বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা খোকন কির্ত্তনীয়া জানান, আমাদের এলাকার যুবকদের প্রচেস্টায় সাত বছর যাবৎ এ আয়োজন হয়ে আসছে। এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার বাড়ৈ বলেন, বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৪টি মন্দিরে পূজা হচ্ছে আগৈলঝাড়ায়। এর মধ্যে বারপাইকা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন পূজা মন্ডপে বিগত কয়েক বছর যাবৎ নয়নাভিরাম আয়োজন করে আসছে। যা হিন্দু ধর্মালম্বিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT