স্মৃতির পাতায় মাইনুল হাসান | | ajkerparibartan.com স্মৃতির পাতায় মাইনুল হাসান – ajkerparibartan.com
স্মৃতির পাতায় মাইনুল হাসান

2:54 pm , October 2, 2019

শাকিল মাহমুদ বাচ্চু ॥ আমাকে সাংবাদিকতায় হাত ধরে টেনে এনেছিল। একাধিকবার বিপদে আমার পাশেও দাড়িয়েছিলেন। নীতি ও সততা নিয়ে সাংবাদিকতা করা বা পেশাদার সাংবাদিকতা কি? তা তিনিই শিখিয়েছেন। আজ আমি তার শিখিয়ে বা দেখিয়ে যাওয়া পথে হাটি হাটি পা পা করে চলার চেষ্টা করছি। আধুনিক সাংবাদিকতার পথ প্রর্দশক ও বরিশাল শহরের সৃজনশীল সাংবাদিকতার নক্ষত্র একজন মাইনুল হাসানের কথা বলছি। ২ অক্টোবর ছিল তার মৃত্যু বার্ষিকী ২০০৪ সালে হঠাৎ তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন বরিশাল বাসীকে কাঁদিয়ে দেখতে দেখতে আজ ১৫ টি বছর চলে গেলো মাইনুল হাসান বিহীন। একজন সৎ আর্দশবান সাংবাদিক মাইনুল হাসান। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করলেও তিনি বৃহত্তর দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদকর্মীদের ছিলেন বটবৃক্ষ। বিপদের সময় ছায়া দিতেন । মফস্বলের কোথাও কোন সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা হলে মাইনুল হাসান দ্রুত সেই সাংবাদিকের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে সবার সংবাদকর্মীকে উদ্ধার করতেন নিজ সন্তানের মতো করে। আমি নিজে সাংবাদিকতায় মাইনুল হাসানের একজন সন্তান পরিচয় দিতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবো। কারন মাইনুল হাসান ছিলেন একজন খাঁটি সাংবাদিক। সেই ৯০ দশকে সাংবদিকতার শত প্রতিকুলতার মধ্যেও মাইনুল হাসান চেষ্টা করেছেন মহান পেশায় ভাল মেধাবীরা ও সততা নিয়ে কাজ করা সৎ মানুষরা এ পেশায় এগিয়ে আসুক । তার সেই চেষ্টা বাস্তবে রুপ নিয়েছে অল্প সময়ের ব্যাবধানে । বরিশাল শহরে বেশ কজন তরুন মেধাবী সাংবাদিক তাদের মেধা বিকাশ ঘটিয়েছে। মাইনুল হাসান তার জীবদ্দশায় সেই কজনকে নিয়ে বরিশাল শহরের সাংবাদিকতায় এক ভিন্নতা সৃষ্টি করেছিলো । তার দেখিয়ে যাওয়া সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের সমন্বয়ের সেতু বন্ধনের পথ চলা সৃষ্টি হওয়া কালচার এখনো অটুট রয়েছে বরিশাল শহরে। আমি আজও ভুলতে পরিনা মাইনুল হাসানের সেই সব স্মৃতি উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর বন্দরের পাশের গ্রামটি আমার জন্মস্থান। শিকারপুর ফেরিঘাটের কারনে বরিশাল শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভাল ছিল। আমি সময় Ñঅসময়ে বরিশাল শহরে গেলেই বরিশালের সদর রোড়ের বিবির পুকুর পার দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে যেতাম অহরহ। মাইনুল হাসানের ভালবাসার ¯েœহ সাংবাদিকতার স্টাইলে আমি মুগ্ধ হয়ে তার আদেশে টেলিফোনে এলাকার খবর তাকে দিতাম। পরদিন পত্রিকার পাতায় সেই সব খবরগুলো দেখে নিজেকে সাংবাদিক ভাবতে শুরু করলাম। এরপর দিনে দিনে বরিশালের বেশ ক’জন সাহসী ও মেধাবী সাংবাদিকদের ছোঁয়া পেয়ে নিজে সাংবাদিকতার খাতায় নাম লিখিয়েছি। মাইনুল হাসান ছিলেন মহান উদার মনের মানুষ। তার সাথে যে সব মানুষ একবার সঙ্গী হয়েছেন সে কখনো তাকে ভুলতে পারবে না এটা আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো। উজিরপুরের বেশ কয়েকটি ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ন ঘটনার সরোজমিনে মাইনুল হাসানের সফর সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তিনি একজন খাটি সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার সাথে থাকা সহকর্মীদের তিনি সব সময় সৎ ভাবে চলতে নীতি ও অর্দশবান সাংবাদিকতা করতে আদেশ করতো । কোথাও সফর সঙ্গীদের নিয়ে লাঞ্চ করতে হলেও তিনি তার বেতনের সেই টাকা দিয়ে বিল পরিশোধ করে বলতো তোমরা তো আমার সন্তান তাই বিলটাতো আমারই দেয়া উচিত। মাইনুল হাসানের মৃত্যুর আগে তিনি উজিরপুরের ওটরার ভবনীপুর এলাকায় গিয়েছিলেন তার সাথে আমিও ছিলাম । আমার লেখা দৈনিক দক্ষিনাঞ্চল পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশের কারনে ভবানীপুর নান্না গাজী নামক এক লোকের রক্তচক্ষুর শিকার হতে চলছিলাম। তখন মাইনুল হাসান এমন প্রতিবাদ করলো ,নান্না গাজী ঘটনাস্থল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলো। এছাড়াও আমার উপর নানা সময়ে হামলা মামলায় মাইনুল হাসান পাশে ছিলেন তার উপকারের চিত্র বেশকদিন লিখলেও শেষ হবে না। আমি ছাড়াও আগৈলঝাড়ায় সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে মাইনুল হাসান সেই ভূমিকা আজও মনে পড়ে।তিনি নিজেই আগৈলঝাড়া থানার সামনে মিছিলের স্লোগান ধরে দূর্নীতিবাজ সেই পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামানের বিরুদ্বে প্রকাশ্যে কথা বলে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যু আমারা সংবাদকর্মীরা এবং আমিও যেন পিতা হারানোর শোক অনুভব করছি। গতকাল ২ অক্টোবর রোজ বুধবার মাইনুল হাসানের ১৫তম মৃত্যু বার্ষিকী দিনটি বিশেষ করে আমার কাছে বড় বেদনাদায়ক দিন। কথা দিলাম আমি পৃথীবিতে যতোদিন বাচবো ততো দিন মাইনুল হাসানকে স্বরন করবো। মাইনুল হাসান তুমি আছো মোর অন্তর জুড়ে… কোথায় গেলে আমি পাবো তারে…?

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT