শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ফের মজুদ ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার | | ajkerparibartan.com শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ফের মজুদ ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার – ajkerparibartan.com
শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ফের মজুদ ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার

3:01 pm , September 18, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আবারও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে মজুদকৃত বিপুল সংখ্যক ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাসপাতালের চতুর্থ তলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের স্টোরে রোগীদের না দিয়ে মজুদকৃত ওইসব সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সাইজের সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, নরমাল স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক ইনজেকসন। তবে এর মধ্যে মজুদকৃত ইনজেকসন ও ক্যানুলার পরিমান বেশি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ মে হাসপাতালের ওই একই ওয়ার্ড থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মজুদকৃত চোরাই ওষুধ জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় ওয়ার্ডটির ইনচার্জ বিলকিছ বেগমকে আটক এবং পরবর্তীতে তাকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ‘রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী সঠিকভাবে বন্টন হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি’র খোঁজ খবর নিতে সকালে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান পরিচালক। এসময় তিনি হাসপাতালের নার্সিং ডিউটি রুমের মধ্যে থাকা স্টোর পরিদর্শনকালে বিপুল পরিমান ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা তল্লাশী এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে রোগীদের ওষুধ না দিয়ে তা মজুদ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পাশাপাশি ওইসব ওষুধ উদ্ধার করেন। সরকারি ওষুধ উদ্ধার অভিযান শেষে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি তিন মাস পর পর ওয়ার্ড গুলোর স্টোর ভিজিট করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ঝামেলার কারনে বিগত তিন মাস ধরে স্টোরগুলো ভিজিট করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘বুধবার সকালে ফিমেল (মহিলা) মেডিসিন ওয়ার্ড ভিজিট করতে গিয়ে মজুদকৃত ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী কিছু বেশি মনে হয়েছে। এগুলোর তালিকা করে আপাতত জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ওষুধ ইন্ডেন এর তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। সেখানে কোন গড় মিল থেকে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পরিচালক বলেন, ‘যেসব ওষুধ জব্দ করা হয়েছে তার পরিমান এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে জব্দকৃত চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে ৫০ সিসি, ৫ সিসি ও ৩ সিসি সিরিঞ্জ এবং বিভিন্ন সাইজের ক্যানুলার সংখ্যাই বেশি। যেগুলো বাক্সবন্দি করে জব্দ রাখা হয়।
তিনি বলেন, ‘মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডটিতে মোট ৪টি ইউনিট রয়েছে। এখানে ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীর চাহিদাও বেশি। কিন্তু সেখানে এত পরিমান চিকিৎসা সামগ্রী মজুদ থাকাটা চিন্তার বিষয়। তাছাড়া আমরা প্রতি দিনের ওষুধ প্রতিদিন ইন্ডেন দিয়ে থাকি। সেখানে এক সপ্তাহের ওষুধ বা চিকিৎসা সামগ্রী এক সাথে ইন্ডেন দেয়ার সুযোগ নেই।
পরিচালক বলেন, ‘এতগুলো ওষুধ সামগ্রী মজুদ রাখার বিষয়টিতে ইনচার্জ ও নার্সদের গাফেলতী পাওয়া গেছে। এতে এর পেছনে তাদের কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো বা রয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কোন ত্রুটি পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের প্রধান ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স হোসনেয়ারা খানম বলেন, ‘এখানে আমাদের কোন অনিয়ম বা খারাপ উদ্দেশ্য নেই। ওয়ার্ডটিতে আমরা মোট ৫ জন ইনচার্জ। এখানে রোগীর বেশি হওয়ায় ওষুধের চাহিদাও বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৭শ সিরিঞ্জ এবং দুই’র মত ক্যানুলার প্রয়োজন হয়।
এ কারনে প্রতিদিন ইন্ডেন না করে আমরা এক মাসের জন্য ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী ইন্ডেন করে রেখেছি। গত মাসের ইন্ডেন করা ওষুধই এখনো রয়ে গেছে। ফলে চলতি মাসে নতুন করে আর ইন্ডেন (চাহিদাপত্র) দেইনি। তাছাড়া ওয়ার্ডটিতে কাজের চাপ এতটাই বেশি যে প্রতিদিনের ইন্ডেন প্রতিদিন করা সম্ভব হয় না।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডটিতে ইতিপূর্বে হোসনেয়ারা খানম ছাড়াও সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা আক্তার, পুতুল সরকার, সামসুন্নাহার সাজু ও রহিমা বেগম ইনচার্জ পৃথক চারটি ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন। ইনচার্জ হিসেবে দুই বছর সময় অতিক্রম হওয়ায় চলতি মাসের প্রথম দিকে ইউনিট ১ এর ইনচার্জ পুতুল সরকার, ২ এর ইনচার্জ সামসুন্নাহার সাজু ও ৩ এর ইনচার্জ রহিমা বেগমকে সরিয়ে পর্যায়ক্রমে সিনিয়র নার্স সনিয়া আক্তার, বিথীকা এব অরিতাকে ইনচার্জ এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
পূর্বের তিনজন ইনচার্জ এর দায়িত্ব নতুনদের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই চলে যান। ফলে ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণে কোন অনিয়ম থেকে থাকলে তার দায়ভার ওই পুর্বের তিন ইনচার্জকেও নিতে হবে বলেও দাবি সাধারণ নার্সদের।এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ‘পুরো বিষয়টিই আমরা খতিয়ে দেখছি। এখানে কারোর কোন অনিয়ম বা অন্য কোন উদ্দেশ্য খুঁজে পেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT