মেঘনার ভাঙ্গনের তীব্রতায় বিলিনের পথে ভোলার ঢালচর | | ajkerparibartan.com মেঘনার ভাঙ্গনের তীব্রতায় বিলিনের পথে ভোলার ঢালচর – ajkerparibartan.com
মেঘনার ভাঙ্গনের তীব্রতায় বিলিনের পথে ভোলার ঢালচর

3:20 pm , September 13, 2019

মো: আফজাল হোসেন,ভোলা ॥ ভোলার মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভোলার তজুমদ্দিন ,মনপুরা ও চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন ঢালচরসহ বিস্তির্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। ঘর-বাড়ি হারা হচ্ছে হাজারো পরিবার আর বিলিন হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাট-বাজার।
দ্বীপ জেল ভোলার বিচ্ছিন্ন অপরদ্বীপ মনপুরা ও ঢালচর। এখানে কয়েক হাজার পারিবার এর বসবাস। সেই চরের ৯০ বছরের বৃদ্ধ মো: সাহেব আলী মিয়া। ঢালচর যখন নতুন চর তখন থেকেইে যুদ্ধ করে বসবাস শুরু এইসব মানুষ গুলোর। নিজ চোখে সব হারয়ে যেতে দেখে অবাক দৃস্টি যেন খুজে বেরায় সেইসব পুরনো স্মৃতি। তাইতো তিনি নদী ভাঙ্গনের মুখে ভেঙ্গে নেয়া একটি সাই¯ে¬ান সেল্টারের উপর বসে অবাক দৃস্টিতে তাকিয়ে আছেন মেঘনার দিকে।
ভাঙ্গনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এমনদৃশ্য দেখে এগিয়ে গেলে তিনি জানালেন,এই সাইক্লোন সেল্টার থেকে অনেক দুরে ছিলো তাদের বাড়ি। পানিতে অনেক কস্ট করেছি পুরো পরিবার নিয়ে। পড়ে বন্যার সময় এই সাইক্লোন সেল্টারেই আশ্রয় নিয়েছিলাম পুরো পরিবারসহ। এখন সাইক্লোন সেল্টারো নাই, ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে নেয়ার সাথে সাথে নেই কোন নিরাপত্তাও। অসহায় অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে আছি বলে জানালেই এই বৃদ্ধ। তিনিসহ একই অবস্থা এলাকার অনেক পরিবারের।
অনেক আগ থেকে নদীর ভাঙ্গন থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে নদীর ভাঙ্গনের তীব্রতা একটু বৃদ্ধি পেয়ছে। কারন হিসেবে জানাযায়,বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন স্থানের পানি মেঘনা নদী দিয়ে নামতে শুরু করায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর,মনপুরা ও তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। ফলে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে সাগড় মোহনায় অবস্থিত ইউনিয়ন ঢালচরসহ এসব এলাকা।
মেঘনা নদীর পানি এখান দিয়ে সাগড়ে যাওয়ার কারনে নদীর স্রোতটা এখানেই বেশি। যার ফলে বেশি হুমকির মুখে সাগড় মোহনার ঢালচর ইউনিয়নটি। প্রায় কয়েক হাজার পাবিার এর অন্তত ২০হাজার মানুষের বসবাসের এই ইউনিয়নটি এখন বিলিনের পথে। ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি থাকায় যে যে ভাবে পারছে ঘর-বাড়ি,শিক্ষা আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে নিচ্ছে। তাইতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঠাই ইউনিয়ন পরিষদের নিচে। শিক্ষার্থীদের সেখানেই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষক মো: আনিচুর রহমান বল্লেন, দ্রুত ভাঙ্গতে হচ্ছে তাদেও মাদ্রাসাটি। নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে ভেঙ্গে সরিয়ে নেয়ার লোকজন আর অর্থও পাওয়া যাচ্ছে না। ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন যা নিজ চোখে না দেখালে বুঝার উপায় নেই।
ঢালচর ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সকারী প্রিন্সিপাল মো: জাকির হোসেন বলেন,আমাদের মাদ্রাসাটি ভেঙ্গে নিতে হচ্ছে। নদীতে দ্রুত বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এর আগে ৩বার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছিলাম। তখন শিক্ষকরা নিজেদর টাকায় ভেঙ্গে নতুন করে শুরু করেছি। এখন কিভাবে আবার সরিয়ে নিব,সেই চিন্তায় পড়েছি। সামনে ছেলে-মেয়েদের এসএসসি পরীক্ষা। কি ভাবে ওরা পড়াশুনা করবে ভাবছি। শুধু শিক্ষক নয় আতংক কাজ রয়েছে শিক্ষারথীদের মাঝেও। তাইতো নিজের আতংকের কথা জানালেন,সানজিদা আখতার ও মো: কালিমুল্লাহ। স্কুলসহ ঢালচরকে রক্ষা করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার দাবী এসব কোমলমতি শিক্ষারথীদের।
অপরদিকে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আর ঘর বাড়ি সরিয়ে নিয়ে নতুন করে ঘর তুল্লেও যারা অসহায় তারা হচ্ছেন এলাকা ছাড়া। আর এসব পরিবারগুলোর ঠাই হচ্ছে দুরের কোথাও কোন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ঢালে। প্রায় প্রতিদিন এলাকা থেকে চলে যাওয়া পরিবার এর সংখ্যা বেড়েছে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন আর ধারদেনা করে নতুন করে ঘর তুলে মাথা গোজার ঠাইর চেস্টা করছেন কেউ কেউ। এছাড়া নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা থেকে বাচাঁর জন্য আন্দোলনে নেমেছেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ্য হাজারো নারী-পুরুষসহ পুরো ঢালচরবাসী। নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ্যরা। শুধু তারাই নয় আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো।
ভোলার সর্বদক্ষিনের চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার। ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আওলাদার বলেন,দীর্যদিন ধরেই নদী ভাঙ্গন হলেও বর্তমানে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি। যার ফলে অন্তত এক থেকে দের হাজার পরিবার ভিটে-মাটি হারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে যত্রতত্র বসবাস করছে। একই সাথে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়ার কথাও স্বিকার করে নেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ ভোলা নদী ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে বলেন, মনপুরা ও ঢালচরকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯শত ৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। এটি বাস্তবাায়ন হলে শতভাগ নদী ভাঙ্গন রোধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT