ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা | | ajkerparibartan.com ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা – ajkerparibartan.com
ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা

3:17 pm , September 11, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সদর উপজেলার চরমোনাইতে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে ধর্ষকের পক্ষাবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এজন্য তারা শিশুটি ধর্ষণের শিকার হলেও মামলা নিয়েছে ধর্ষণ চেষ্টার। পরবর্তীতে শিশুটিকে শেবাচিম হাসপাতালের ওসিতেতে ভর্তি করা হলে ধর্ষণ মামলা নিতে বাধ্য হয় কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। যদিও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবী শিশুর পরিবারই ধর্ষণের বিষয়টি আড়াল করে। এমনকি তারা মামলা করতেও চায়নি বলে দাবী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, চলতি মাসের গত ২ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বুখাইনগর ইছাগুড়া এলাকায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এক জেলে কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়। একই এলাকার মৃত ইউসুফ আকন এর ছেলে আব্দুল জব্বার আকন (৪২) মেয়েটিকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। যা দেখে ফেলেন প্রতিবেশী এক নারী। ওই নারী বিষয়টি প্রতিবেশীদের জনালে তারা এসে আব্দুল জব্বার আকনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
শিশুর পরিবার অভিযোগ করেছেন, ঘটনার রাতে কোতয়ালী মডেল থানার এএসআই শরিফ ও তার টিম ঘটনাস্থলে পৌছে শিশুটিকে উদ্ধার ও ধর্ষককে আটক করে। এসময় এএসআইকে প্রত্যক্ষদর্শী ও শিশু নিজেও ধর্ষণের অভিযোগ করে। কিন্তু থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উল্টে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টায় রূপ নেয়।
তারা অভিযোগ করেন, থানার ওসি এবং এসআইকে ধর্ষণের বিষয়ে স্বীকারক্তি দেয়া হয়। কিন্তু তারা ধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা গ্রহন করে। ওই মামলায় আব্দুল জব্বারকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তবে ধর্ষিতা শিশুর পরিবার নিতান্তই গরিব এবং অসহায় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পায়নি। পরবর্তীতে শিশুর স্বজনরা ধর্ষণের ঘটনা জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সমীরন মন্ডলকে অবহিত করে। কিন্তু তিনি অভিযোগ পাত্তা দেননি।
এজন্য ধর্ষণের ঘটনার চারদিন পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলে ধর্ষণের আলামত খুঁজে পায় ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ। এজন্য শেষ পর্যন্ত পূর্বের ধর্ষণ চেষ্টা মামলার বাইরে আরো একটি ধর্ষণ মামলা নিতে বাধ্য হয় মডেল থানা পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে ওসিসি’র দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এইচএম শাহিন বলেন,‘শিশুটি ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আমাদের এখানে ভর্তি হয়। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ধর্ষণ হয়েছে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি বলন, বিষয়টি নিয়ে পূর্বে একটি মামলা হয়েছে। কিন্তু সেই বিষয়টি ধর্ষিতার পরিবার আমাদের জানায়নি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। শিশুর পরিবারের ভাস্যমতে, যেদিন ধর্ষক আটক হয়েছে সেদিন ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়নি। তবে পূর্বে শিশুটিকে বহুবার ধর্ষণ করা হয়। কিন্তু লোকলজ্জা এবং শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঘটনাটি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে।
ধর্ষণ মামলা না নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম এর বক্তব্য জানতে তার সরকারি নম্বরে দু’দিন ধরে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সমীরন মন্ডল বলেন, এখানে পুলিশের কোন দোষ নেই। কারন শিশুর পরিবার ধর্ষণতো দুরের কথা তার কোন অভিযোগ করতেই রাজি ছিলো না। ওসি স্যার নিজে শিশু ও তার পরিবারকে আলাদাভাবে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছে, তখনও তারা ধর্ষণ হয়নি বলে দাবী করে। তার পরেও শিশুর পরিবারের অমতেই ধর্ষণ চেষ্টা মামলা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুর বাবাকে ডেকে এনে আরো একটি ধর্ষণ মামলা নেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT