হল সুপারের উত্যক্তের প্রতিবাদে বনমালী গাঙ্গুলীর ছাত্রীদের বিক্ষোভ তদন্ত কমিটি গঠন | | ajkerparibartan.com হল সুপারের উত্যক্তের প্রতিবাদে বনমালী গাঙ্গুলীর ছাত্রীদের বিক্ষোভ তদন্ত কমিটি গঠন – ajkerparibartan.com
হল সুপারের উত্যক্তের প্রতিবাদে বনমালী গাঙ্গুলীর ছাত্রীদের বিক্ষোভ তদন্ত কমিটি গঠন

3:13 pm , September 11, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ছাত্রী উত্যক্তের প্রতিবাদে বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের সহকারী সুপার ও কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের পরেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সোমবার রাত ১১টার দিকে নগরীর নতুন বাজার সংলগ্ন বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস চত্ত্বরে ওই শিক্ষকের অপসারণ সহ দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ করে। এদিকে, এ ঘটনার পরদিন সহকারী হল সুপারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে আবাসিক কিছু ছাত্রীরা। এই দুই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএম কলেজ কতৃপক্ষ চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। কলেজের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক কল্পনা রানী নাগকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়েছে।
ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম মেয়েদের দিকে কু-দৃষ্টিতে তাকায়। সে রাত ১১টার পরে হুট করে কিছু না বলেই মেয়েদের রুমে প্রবেশ করে। রাতে টয়লেটে বসে মেয়েদের ডাকা দেয়, ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর কথা বলা, তল্লাশী করার ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানী করে।
তারা বলেন, উল্লেখিত বিষয় সহ ২১টি অভিযোগ তুলে শিক্ষক নেতা ও সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম এর বিচার চেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ’র বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এর আগে হল সুপার আবু সাদেক মো. শাহ আলমকেও একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা ছাত্রীদের অভিযোগের গুরুত্ব দেয়নি।
যে কারণে গত শুক্রবার রাতে শিক্ষক আব্দুর রহিম বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে এক ছাত্রীর রুমে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। যা প্রকাশ পেলে ক্যাম্পাস জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি সোমবার সকালে ছাত্রীরা পুনরায় কলেজ অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান সিকদার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরোয়ার ও হল সুপার অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসে। সেখানে অভিযোগ উত্থাপন করা মাত্রই ছাত্রীদের প্রতি চড়াও হন অভিযুক্ত সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম। এক পর্যায় উত্তেজিত হয়ে প্রকাশ্যেই তিনি শিক্ষার্থীদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি। এতে ছাত্রীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে হল চত্ত্বরে সহকারী হল সুপারের বিচার দাবীতে বিক্ষোভ করে। পরে কলেজ অধ্যক্ষর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক ও সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম বলেন, ‘ছাত্রীরা রুমের মধ্যে অবৈধভাবে হিটার ব্যবহার করতো। যা আমি বন্ধ করতে বাধ্য করেছি। এ কারনে যেসব ছাত্রীরা হিটার ব্যবহার করতে পারছে না সেইসব ছাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার করেছে।
এ প্রসঙ্গে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুর রহমান সিকদারের বলেন, আমরা সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ছাত্রীনিবাসে ছিলাম। বিক্ষুদ্ধ ছাত্রীদের শান্ত করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের করা অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসাথে কলেজের সকল বিভাগের জেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে এই বিষয়ে সভা করা হয়েছে। এছাড়াও গঠিত তদন্ত কমিটির কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT