বিচারের জন্য কমিশন গঠন করা হোক-স্মৃতিচারণে হাসানাত আবদুল্লাহ | | ajkerparibartan.com বিচারের জন্য কমিশন গঠন করা হোক-স্মৃতিচারণে হাসানাত আবদুল্লাহ – ajkerparibartan.com
বিচারের জন্য কমিশন গঠন করা হোক-স্মৃতিচারণে হাসানাত আবদুল্লাহ

3:10 pm , August 31, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবিক্ষণ কমিটির মন্ত্রী পদমর্যাদায় আহ্বায়ক ও সাবেক চীফ হুইপ আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি বলেছেন, ‘ ১৫ই আগস্ট বাঙ্গালী জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। তার কারন ১৫ই আগস্ট রাতের অন্ধকারে যারা সেদিন স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনাই স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা ছিলেন সেই সমস্ত রাজাহার আলবদল, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এবং তার সাথে কিছু উৎশৃঙ্খল সামরিক অফিসার রাতের অন্ধকারে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ওরা হত্যা করে বেগম মুজিব সহ তার ছেলেদের। তার পুত্র বধুদের তার নাবালক শিশুদের। খুনিরা কিন্তু এখানেই খ্যান্ত হয়নি। তারা হত্যা করে আমাদের এই অঞ্চলের কৃষক কুলের নয়ন মনি আমার মরহুম পিতা কৃষি মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, আমার ভাই বোনকে আমার নাবালক শিশুকে। তারা মনে করেছিলো যে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হত্যা করা হলেই এই দেশকে পাকিস্তানে করা যাবে।
গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাত ও স্মৃতিচারণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে ৩রা নভেম্বর যারা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন সেই জাতীয় চার নেতাকে তারা জেল খানার মধ্যে হত্যা করে এবং যেটা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা জঘন্ন কলঙ্ক জনক অধ্যায়। সারা পৃথিবীর কোথায় জেল খানার মধ্যে নেতাদের হত্যা করা হয়েছে এই ধরনের ইতিহাস আমার জানা নেই। তারা মনে করেছিলো এটাকে পাকিস্তান বানাবে। তাদের নিদের্শনা আপনারা দেখেন সরকার গঠনের পর প্রথম যাকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছিলো তিনি আর কেউ না, তিনি ওই মুসলিম লীগের শাহ আজিজুর রহমান, প্রথম যাকে মন্ত্রি করা হয়েছিলো রাজাকার আলবদরের প্রধান জয়পুর হাটের আব্দুল হালিম, তার পরে যাকে মন্ত্রী করেছিলো মাওলানা মোহাম্মদ নিজামী। এদেরকে মন্ত্রী করেছিলো।
আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ওনারা চেয়েছিলো এটাকে পাকিস্তান বানানো যায়কিনা। তার পরে তারা খুন করেছিলেন জাতির জনককে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, যার জন্ম না হলো এ দেশ স্বাধীন হতো না, যিনি জীবন যৌবনের ১৪টি বছর এ দেশের ভুখাডাঙ্গা মানুষের জন্য কারা অন্ধকারে কাটিয়েছেন, যিনি ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও জীবনের জয়গান গেয়েছেন, সেই মহান নেতাকে তারা হত্যা করলো। উদ্দেশ্য একটাই যারা ওই পাকিস্তানি দোষররা তারা চেয়েছিলো এ দেশটাকে একটা মিনি পাকিস্তান বানানো যায় কিনা।
তিনি বলেন, কথাগুলো আমি এ কারনেই বলছি, যেই মাটিতে যার জন্ম না হয়, যেই মাটির প্রতি ভালোবাসা ভালোবাসা থাকে না, যেই মাটির প্রতি মমতা থাকে না, সেই মানুষের প্রতি তাদের মহব্বত থাকে না।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, পৃথিবির কোন সভ্য দেশে হত্যাকান্ডের বিচার হবে না এ ধরনের কোন আইন রয়েছে। তারা সেই আইন ইন্ডেমনেটি বিলও তারা পাশ করেছে। একটা জাতির ললাটে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করা হলো। এটা আমাদের জাতির জন্য যে কতটা কলঙ্কজনক অধ্যায়। একদিন ইতিহাস থেকে হয়তো আগামী জেনারেশনকে এর জবাব দিতে হবে। আর কি করলেন, ওইসমস্ত খুনিদের পুরস্কৃত করা হলো। যারা সেদিন লন্ডনে প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলো আমরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছি। এই আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার না পুরস্কৃত করা হলো বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে।
আজকে আমার দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমাদের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। দেখেন বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেন নাই। যিনি জীবন যৌবন সারা জীবন এ দেশের মানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে তাকে সাড়ে তিন বছরও ক্ষমতায় থাকতে দিলো না।
পরবর্তীতে যিনি আসলেন, তিনি ওই খুনিদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। আমাদের পবিত্র সংসদে তাদেরকে বসানো হলো। দুর্ভাগ্য এই জাতির। এর পর পর যারা ক্ষমতায় আসলো তারাও একই কাজ করেছে। ১০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেয়া হলো। সেনাবাহীনিকে বিদ্রোহী করার জন্য তাদের ফাঁসি দিয়ে দেয়া হলো।
তার পরে আসলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তিনি আবার এই খুনিদের আমাদের পার্লামেন্টে বসালেন। পুরস্কৃত আরো ডাবল করলেন। এরকম পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ ২১টি বছর এই দেশের মানুষের ওপর জুলুম অত্যাচার চালিয়েছে। এই একুশ বছরে আমাদের ২৬ হাজার নেতা-কর্মীদের ওরা হত্যা করেছে। আমরাও তো ক্ষমতায়, ১৫ বছর যাবত। যদি আজকে মনে করি বিরোধীদল তো ভালো এই রাস্তা দিয়ে কেউ হাটতে পারবে না।
ওরা আমাদের কিবরিয়া সাহেব এবং এমপি সহ অনেককে মেরেছে। আমরা কিবরিয়া সাহেবকে চিকিৎসা করাতে ঢাকায় নেয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার চেয়েছিলাম। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই হেলিকপ্টারটি পর্যন্ত দেয়নি। অথচ আমরা দেখলাম সিরিজ বোমা হামলার নেতা সায়েখ আব্দুর রহমানকে সিলেট থেকে ঢাকায় আনা হলো। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দু’জন জড়িত ছিলো। তাদের বিচার করা দরকার। আজকে এই স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আবার দাবী তুললাম বিচারের জন্য কমিশন গঠন করা হোক, এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের বিচার করা হোক আইনের মাধ্যমে।
একই ধারাবাহিকতায় ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলো। ২৪ জন লোক মারাগেলো। আমাদের রাষ্টপ্রতি’র সহধর্মীনি আইভি রহমানকে হত্যা করা হলো। বিরোধী দলকে মাঠে বক্তৃতা দিতে দেয় না। ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় খালেদা জিয়া বলল, ‘ওদের তো সভা করতে দিবই না বরং সায়েস্তা করা হবে। এ থেকেই বোঝা যায় বেগম খালেদা জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেডেন হামলার সাথে জড়িত রয়েছে। তারও বিচার করা হোক।
তিনি বলেন, সবাই দেখেছে আপনারা ৪০ দিন পর্যন্ত টিভিতে ভাঙা সুটকেস দেখিয়েছেন। এখন এতো টাকা কোথা থেকে আসলো। স্বামীর নাম করে এতিমদের টাকা খেয়ে ফেলেছেন। তার বিচারও আদালত করেছে। অথচ তারাই আবার বলছে সরকার তার জামিন আটকে রেখেছে। আদালত সব কিছু যেনে বুঝেই তার জমিন দিচ্ছে না।
আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি সব কিছু হারিয়ে আপনাদের মধ্যে বাবা-ভাই এর প্রতিচ্ছবি খুজে পাই। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। বরিশালে স্বতন্ত্র মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা আপনাদের সব দিয়েছেন। তাই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT