ঝালকাঠিতে যুবলীগের দুই নেতাকে আটকের খবরে দু'গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে মহাসড়ক অবরোধ | | ajkerparibartan.com ঝালকাঠিতে যুবলীগের দুই নেতাকে আটকের খবরে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে মহাসড়ক অবরোধ – ajkerparibartan.com
ঝালকাঠিতে যুবলীগের দুই নেতাকে আটকের খবরে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে মহাসড়ক অবরোধ

3:27 pm , August 27, 2019

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠিতে যুবলীগের দু’গ্রুপের উত্তেজনায় জাকির ও মিলন নামে দু’যুবলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। এতে উত্তেজিত হয়ে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের কলেজ মোড় অবরোধ করে জাকির সমর্থকরা। এসময় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ২ ঘণ্টা সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখে অবরোধকারীরা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বশির গাজী, সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়ে সাড়ে ৩ টার দিকে যুবলীগ নেতাদের মুক্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জানাগেছে, সরকারী কলেজ, ফায়ার সার্ভিস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ফেস্টুন ছেড়াকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, জেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলর রেজাউল করীম জাকির এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি যুবলীগ নেতা সৈয়দ মিলনের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে সাগর নামে সৈয়দ মিলনের এক অনুসারীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। মঙ্গলবার সকালের এ ঘটনার পর ১১টার দিকে জাকির বাসমালিক সমিতিতে গেলে সৈয়দ মিলন ও তার সমর্থকরা হামলা করার প্রস্তুতি নেয়। এসময় বাসমালিক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও ভৈরবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে উস্কানীমূলক কথা বলা হয়। এ কারনে পুলিশ রেজাউল করীম জাকির ও সৈয়দ মিলনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এতে জাকির সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের কলেজ মোড়ে রাস্তায় ট্রাক ও গাড়ি দাড় করিয়ে অবরোধ করে। টায়ারে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে মিছিল করতে থাকে জাকির সমর্থকরা। অবরোধকারীদের আন্দোলনে ৮টি রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বিঘœ সৃষ্টি হয়। অবরোধ স্থানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মহাসড়কের দু’পাশে প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মোঃ বশির গাজী, ডিবি পুলিশ পরিদর্শক ইকবাল বাহার খানসহ ডিবি পুলিশের একটি দল, সদর থানা পুলিশের একটি দল এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুন কর্মকার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ইতিমধ্যে এমপি আমির হোসেন আমু’র মিমাংসার আশ্বাসে যুবলীগ নেতা জাকির ও সৈয়দ মিলনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। যুবলীগ নেতা জাকির কলেজ মোড় পৌছলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয় তার অনুসারী ও সমর্থকরা।
এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ মিলন’র সাথে কথা বলার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সৈয়দ মিলন অনুসারী ঝালকাঠি সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম অপু জানান, সাগর নামে এক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মঙ্গলবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে সেখানে জাকির সমর্থকরা বেদম মারধর করে। তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে জাকির ভাইকে ফোনে জানতে চাইলে তিনি আমাদের বাস মালিক সমিতিতে যেতে বলেন। আমরা সেখানে গেলে তিনি সমিতিতে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আমাদের কথা শুনেন নি। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে দু’জনকেই থানায় নিয়ে যায়। পরে এমপি ও আমাদের অভিভাবক আমির হোসেন আমু’র মিমাংসার কথা বললে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।
জেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করীম জাকির বলেন, আমি বাস মালিক সমিতিতে গেলে আমাকে ঘেরাও করা হয়। সেখান থেকে আমাকে থানায় নেয়া হয়। আমি জনসাধারনের যে ভালোবাসা পেয়েছি তাতে তাঁদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মোঃ বশির গাজী জানান, যুবলীগের দু’গ্রুপের উত্তেজনা বিরাজ করায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিলো। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT