ফেরি ঘাটে ৩ সহস্রাধিক যানবাহন আটকা | | ajkerparibartan.com ফেরি ঘাটে ৩ সহস্রাধিক যানবাহন আটকা – ajkerparibartan.com
ফেরি ঘাটে ৩ সহস্রাধিক যানবাহন আটকা

3:25 pm , August 8, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চল সহ উপকুলীয় এলাকার নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার মুখে বৃস্পতিবার বিকেল থেকে রাজধানী সহ চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখি মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের সাথে ঐসব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার বেশীরভাগই নৌপথ নির্ভর। ফুসে ওঠা সাগর উজানের পানি গ্রহন না করায় কীর্তনখোলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে খোদ বরিশাল মহানগরীর নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নবগ্রাম রোডের বেশ কিছু এলাকা বুধবার সকাল থেকে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মেঘনা, তেতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, বলেশ্বর সহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি ছোট-বড় নদ-নদী দুকুল ছাপিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবারের মত বুধবার মধ্যরাতেও দেড় শতাধীক নৌযান চাঁদপুর ও বরিশালের মধ্যবর্তি মেঘনা অতিক্রমকালে চরম দূর্যোগের কবলে পড়ে। ঝড়ো হাওয়ার সাথে মাঝারী বৃষ্টির মধ্যে এসব নৌযানের হাজার হাজার যাত্রী চরম আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলÑআমীনকে ডাকতে থাকেন। অপরদিকে পদ্মা ও মেঘনায় প্রবল স্রোতে ফেরি চলাচলও যথেষ্ঠ ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দূর্র্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বুধবার সকাল ও দুপুর থেকে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর, মাওয়ার কাঠালবাড়ীÑশিমুলিয়া এবং চাঁদপুরÑশরিয়তপুর রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশের প্রধান ফেরি সেক্টরগুলোতে যানবাহন পারাপার মাত্র ৯ হাজারে নেমে আসার পাশাপাশি অপেক্ষমান ছিল আরো প্রায় ৩ হাজার। যার মধ্যে রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের মাওয়া সেক্টরেই সহস্রাধীক যানবাহন আটকে ছিল। বুধবার দুপুর থেকে ঐ সেক্টরের কাঠালবাড়ীÑশিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত যানবাহন পারাপার মাত্র ৭২০টিতে নেমে আসে। বুধবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলেও মাওয়া সেক্টরের দুপ্রান্তে সহস্র্রাধীক যানবাহন আটকে ছিল। ঈদের ভীড়কে সামনে রেখে ফেরি সেক্টরের পরিস্থিতি সামাল দেয়া দুরুহ হয়ে পড়েছে। বুধবার সকালের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় আরিচা সেক্টরের পাটুরিয়াÑদৌলতদিয়া রুটে প্রায় ৭ হাজার ৭৫০ টি যানবাহন পারাপার হলেও অপেক্ষায় ছিল আরো প্রায় ৭শ। চাঁদপুরÑশরিয়তপুর সেক্টরে ৫টি কে-টাইপ ফেরি থাকলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বুধবার সকাল পর্যন্ত মাত্র আড়াইশর মত যানবাহন পারপার সম্ভব হয়। ফলে অপেক্ষমান ছিল আরো পৌনে ৪শ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে চট্টগ্রামÑবরিশালÑখুলনা মহাসড়কের ভোলাÑলক্ষ্মীপুর সেক্টরে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে এ সেক্টরেও প্রায় দেড়শ যানবাহন আটকা পড়ে। বুধবার সকাল পর্যন্ত পারাপার হয়েছে মাত্র ১৫টি যানবাহন। ঐ মহাসড়কেরই ভোলা ও বরিশালের মধ্যবর্তি লাহারহাটÑভেদুরিয়া রুটে ৪টি ইউটিলিটি ফেরি প্রায় ৩শ যানবহান পারাপার করলেও আরো ২শতাধীক আটকা পড়েছিল বুধবার সকাল পর্যন্ত। এদিকে ঈদ উল আজহার আগে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসের পরে রাজধানী সহ চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চচলের ঘরমুখি মানুষের যাত্রা শুরু হলেও শুক্রবার সকাল থেকে তা জনস্রোতের রূপ নেবে। পাশাপাশি রাজধানী থেকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগ সহ ফরিদপুর অঞ্চলের ২১টি জেলার যানবাহনও দেশের প্রধান ফেরি সেক্টরগুলো পারাপার হবে। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে এসব ফেরি সেক্টরে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যাবে তা বলতে পারছেন না কতৃপক্ষ। তবে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান প্রনয় কান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘সংস্থার ৫০টি ফেরিই যানবাহন পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ৫টি যাত্রীবাহী নৌযানও সচল আছে’ বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অসময়ে ছাড়ায় বিআইডব্লিউটিসি’র দুটি নৌযানই ধারন ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা ত্যাগ করে। যাত্রীর আধিক্য না থাকলেও শুধুমাত্র কেবিন যাত্রীদের জন্য বৃহস্পতিবার সংস্থার দুটি নৌযান ঢাকা ছেড়েছে। অথচ ১১আগষ্ট সর্বাধীক ভীড়ের দিন ঢাকা থেকে সংস্থার কোন বিশেষ সার্ভিস থাকছেনা। সংস্থাটির নৌযানে অনেক আগে বুকিং দিয়েও সাধারন যাত্রীগন কেবিন টিকেট পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদের ভাষায় ‘ভিআইপিদের টিকেট দিতেই তারা হীমশীম খাচ্ছেন’। তবে ভিআইপি কারা ? তা বলতে পারেন নি কেউ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT