বরগুনার জেলা জজ আদালতে আজ মিন্নির জামিন শুনাণী | | ajkerparibartan.com বরগুনার জেলা জজ আদালতে আজ মিন্নির জামিন শুনাণী – ajkerparibartan.com
বরগুনার জেলা জজ আদালতে আজ মিন্নির জামিন শুনাণী

2:54 pm , July 29, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান স্বাক্ষী নিহতের স্ত্রী মিন্নির জামিন আবেদনটির শুনাণী মঙ্গলবার বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন খারিজের পরে গত মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আবেদন করা হলে, তা নথিভূক্ত করে নিম্ন আদালতের নথি তলব সহ জামিনের শুনানীর জন্য ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেন বিজ্ঞ জেলা জজ। মিন্নির বাবা-মা সহ পুরো পরিবার তাদের মেয়ের কারামুক্তির প্রহর গুনছেন। বিষয়টির প্রতি নজর বরগুনাসহ সারা দেশবাসীর। স্থানীয় পুলিশ-এর পরিবর্তে পিবিআই’কে দিয়ে এ মামলার তদন্তের দাবীও বরগুনাবাসীর।
এদিকে রিফাত হত্যাকান্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে নিহত রিফাতের স্ত্রীকে ফাঁসানের অপচেষ্টা চলছে বলে বরগুনা সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে রিফাত হত্যাকা-ে ‘মূল আসামীদের চেয়ে মিন্নিকে নিয়ে পুলিশ যেন অতি উৎসাহ না দেখায়’ সে ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছেন।
রিফাত হত্যাকান্ডে বাবার দায়ের করা মামলায় স্ত্রী মিন্নি এক নম্বর সাক্ষী হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে সে ইতোমধ্যে আসামী হয়েছে বলে অভিযোগ বরগুনাবাসীর। রিফাতের বাবা মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করে মামলা দায়ের করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাকেই দোষী সাব্যস্ত করেন তিনি। এমনকি সন্ত্রাসী ও খুনিদের বিচারের পরিবর্তে কতিপয় লোক বরগুনা শহরে মানববন্ধন করে মিন্নির ফাঁসি দাবী করেছে। রিফাতের বাবার ঐ সংবাদ সম্মেলন এবং মানব বন্ধনে স্থানীয় এমপি পুত্র সুনাম দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। তিনি মানব বন্ধনে বক্তব্যও রাখেন। অথচ রিফাতের ঘাতক নয়ন বন্ড সহ অন্য সন্ত্রাসীদের লালন করার জন্য বরগুনাবাসীর অভিযোগের আঙুল ঐ সুনামের বিরুদ্ধেই।
এদিকে ম্যাজিষ্ট্রেট-এর খাশ কামরায় মিন্নি জবানবন্দি দেয়ার পরে তাকে আদালতে তুলে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ না দিয়ে সরাসরি জেলখানায় পাঠান হয় বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রীম কোর্ট বার-এর সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার মতে, “যদি কাউকে রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়, তাকে অবশ্যই বিচারিক আদালতে উপস্থিত করতে হবে। যেন সে বলতে পারে রিমান্ডে থাকাকালে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতন যদি করা হয়ে থাকে, তাহলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে- এটা আমাদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা’ বলেও দাবী করে তিনি বলেন, ‘ কথিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরে তাকে আদালতে না নিয়ে সরাসরি জেলখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হল। তার আইনজীবী আবেদন করে বলল যে, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে চাই। তাকে আদালতে আনা হোক। কিন্তু তাকে আনা হল না- এভাবেই আইনের বরখেলাপ হচ্ছে’ বলে দাবী করেন বরগুনার সন্তান খন্দকার মাহবুব।
এমনকি মিন্নিকে আদালতে হাজির করার সময় তার পক্ষে কোন আইনজীবী দাঁড়ায়নি। মিন্নির বাবার অভিযোগ, তিনি তিনজন আইনজীবীর সাথে কথা বলেছিলেন। তারা মিন্নির পক্ষে আদালতে দাড়াবার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা করেন নি। মিন্নিকেই আদালতে কথা বলার সুযোগ দেন । সেখানে মিন্নি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে “আমার স্বামী রিফাত শরীফ, আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। হত্যাকা-ে আমি জড়িত নই। আমাকে এ মামলায় ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে’ বলেও দাবী করেন মিন্নি। এর পর বিজ্ঞ আদালত মিন্নির ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে রিফাত-এর স্ত্রী মিন্নিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি এসব ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন একজন সংসদ সদস্য। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে শুক্রবার বিকালে মিন্নিকে ম্যাজিষ্ট্রেট-এর সামনে হাজির করা হয়। সেখানে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ জানায় । তবে মিন্নির বাবার অভিযোগ, ‘পুলিশ যা বলতে বলেছে মেয়ে তাই বলেছে’ বলে তাকে জানিয়েছে।
সেদিন মিন্নির বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন আদালত প্রাঙ্গণে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘জোর জবরদস্তি ও নির্যাতন করে’ তার মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন, ‘মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ’? ‘এসব কিছুই শম্ভু বাবুর খেলা’ বলে দাবী করে ‘তার ছেলেকে সেইভ করার জন্য আমাদের বলি দেওয়া হচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন মিন্নির বাবা। তিন আইনজীবী শুনানিতে না দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে ওকালতনামায় সই না হওয়ার কথা বললেও মিন্নির বাবা ‘প্রতিপক্ষের ভয়েই’ আইনজীবীরা তার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াননি বলেও অভিযোগ করেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েক’শ মানুষের সামনে ১২-১৪টি বখাটে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করলেও কেউ এগিয়ে না আসার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধীক ব্যাক্তি জানিয়েছেন, ‘হামলাকারী নয়ন বন্ড সহ তার সহযোগীদের ‘গড ফাদার’ বরগুনা শহরে এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ ঐসব খুনিদের কাছ থেকে রিফাতকে উদ্ধারে এগিয়ে যাবার সাহস করেনি’।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT