প্রচার-প্রচারনায় নেই আ'লীগ ও বিএনপি'র বঞ্চিত নেতারা | | ajkerparibartan.com প্রচার-প্রচারনায় নেই আ’লীগ ও বিএনপি’র বঞ্চিত নেতারা – ajkerparibartan.com
প্রচার-প্রচারনায় নেই আ’লীগ ও বিএনপি’র বঞ্চিত নেতারা

6:47 pm , July 6, 2018

রুবেল খান ॥ আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। তাই নির্বাচনের সময় যতটাই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা ততটাই সরব হচ্ছে। ভোটের জন্য মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে ভোটের মাঠে এখনও দেখা মিলছে না আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সেই নেতাদের। দলের মনোনিত প্রার্থীদের নাম ঘোষনার পর থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে আছেন তারা। ফলে দলীয় ওইসব নেতা এবং তাদের অনুসারীদের ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না দেশের সর্ববৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের।
সূত্রমতে আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী হতে দৌড়ঝাপ শুরু করেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র একঝাক নেতা। পূর্বে থেকেই ওইসব নেতারা দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে স্ব স্ব দলের রাজনীতিতে নিজেদের সক্রিয় অবস্থান জানান দিতে দল এবং জাতীয় কর্মসূচিতে যোগদান, ব্যানার, ফেস্টুন টানানো থেকে শুরু করে তৃনমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এসবের মাধ্যমে প্রার্থী হিসেবে নিজেদের আলোচনায় নিয়ে আসেন তারা। যাদের সর্বশেষ দেখা মেলে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া পর্যন্ত। কিন্তু প্রার্থী ঘোষনার পর থেকেই ফের পূর্বের অবস্থানে ফিরে গেছেন তারা। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও প্রচার প্রচারনা কিংবা দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় দেখা মিলছে না তাদের।
জানাগেছে, বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে সামিল হয়েছিলেন ১৪ নেতা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এ্যাড. খান আলতাফ হোসেন ভুলু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্ণেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদুল হক খান মামুন ও বরিশাল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মীর আমিন উদ্দিন আহমেদ মোহন।
এছাড়া বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন- বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাড. মজিবর রহমান সরওয়ার, বর্তমান মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, মহানগর বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা এ্যাড. আলী হায়দার বাবুল, বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। দুই দলেরই যারা মনোনয়ন পাননি তাদের মাঠে নামানোর ব্যাপারেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে দুই দল থেকে ১৪ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিলে তাদের মধ্যে থেকে তরুন প্রজন্মের নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মজিবর রহমান সরওয়ারকে মনোনিত করে বিএনপি’র হাই কমান্ড। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র এই দুই নেতাই মনোনয়ন নিয়ে বরিশালে ফিরে নির্বাচনের মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু দলের মনোনিত প্রার্থী’র নাম ঘোষনার পর থেকেই লাপাত্তা মনোনয়ন বঞ্ছিত দুই দলের সিনিয়র নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোনয়ন পেয়ে বরিশালে এসে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র মনোনিত দুই প্রার্থী। তাদের অনুপস্থিতিতে দুই দলের প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এসময় পূর্বে মনোনয়ন প্রত্যাশী কোন নেতাকেই দেখা যায়নি। তাছাড়া গত ২৮ জুন নিজেরা উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাদিক ও বিএনপি’র সারওয়ার। তখনও দেখা মেলেনি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্ছিত সেই নেতাদের। যদিও বিএনপি’র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ’র পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব ও মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে ছিলেন না মনোনয়ন বঞ্ছিত বিসিসি’র বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল। যদিও মেয়র পদে থাকায় প্রকাশ্যে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এছাড়াও ছিলেন না বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব এবায়েদুল হক চাঁন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতউল্লাহ ও মহানগর বিএনপি’র নেতা এ্যাড. আলী হায়দার বাবুল।
ঠিক একই ভাবে সেরনিয়াবাস সাদিক আবদুল্লাহ’র মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ-বীর বিক্রম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম ও সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পাশে ছিলেন না মনোনয়ন বঞ্ছিত খান আলতাফ হোসেন ভুলু, জাহিদ ফারুক শামীম, মাহমুদুল হক খান মামুন কিংবা মীর আমীন উদ্দন আহমেদ মোহন।
অপরদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, মনোনয়ন পেয়ে বরিশালে এসে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করেন মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। একই ভাবে কাউনিয়াস্থ নিজ বাস ভবনের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে একাধিক প্রস্তুতি সভা করেন বিএনপি’র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার। দুই প্রার্থীর পৃথক ওই সভায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনের বিষয়ে স্ব স্ব দলের প্রার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। কিন্তু দুই দলের দুই প্রার্থীর কোন প্রস্তুতি সভায় আসেননি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্ছিত ওই নেতারা। অবশ্য গতকাল স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। অথচ দলের মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার পূর্বে সকল নেতাই স্ব-স্ব দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন ঘোষনার পরে নেতাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃনমুল নেতা-কর্মীরাও।
অবশ্য মনোনয়ন বঞ্ছিত ওই নেতাদের অনুপস্থিতি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র দুই প্রার্থী এবং সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হলেও হতাশা বিরাজ করছে। এর কারন জানতে চাইলে দুই দলের একাধিক নেতা বলেন, যারা মনোনয়ন বঞ্ছিত হয়েছেন তাদের দলীয় এবং ব্যক্তিগত ভোট রয়েছে। কম বেশি যাই হোক প্রার্থীরা যেদিকে বলবেন সেদিকেই ঝুকতে পারেন সেইসব ভোটাররা। এর ফলে দুই দলের প্রার্থীর ভোটের ফলাফলেই প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিজ নিজ দলের প্রার্থী থেকে দুরে থাকা মনোনয়ন বঞ্ছিত নেতাদের কাছে ভেরানো প্রার্থীদের জন্য একটি জরুরী বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে হাই কমান্ডের সাথে যোগাযোগ এবং দিক নির্দেশনার গ্রহনের জন্য স্ব স্ব দলের প্রার্থীদের পরামর্শ দেন নেতা-কর্মীরা। অন্যথায় দুই দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সুযোগ অন্য দলের প্রার্থীরা ভোগ করতে পারে বলেও আশংকা করছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT