পুলিশের চাকুরির স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে এসে রিফাত হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার | | ajkerparibartan.com পুলিশের চাকুরির স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে এসে রিফাত হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার – ajkerparibartan.com
পুলিশের চাকুরির স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে এসে রিফাত হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

3:26 pm , June 30, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনাকারী মো. সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরগুনা পুলিশ লাইন্সএ কনস্টেবল পদে চাকুরীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গেলে সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। রিফাতের প্রধান ঘাতক নয়ন বন্ড’র ফেসবুকে পরিচালিত “০০৭” গ্রুপের সদস্য সাগর। ইতিমধ্যে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরীর জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ১০৮। পিরোজপুর সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী শাহনেয়াজ, ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান ও বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকায় সাগরের নাম ১৮ নম্বরে রয়েছে। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত সাগর বরগুনা উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফ মাস্টারের ছেলে। বর্তমানে তারা বরগুনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আমতলার পাড় সড়কে বসবাস করেন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত সাগর হত্যার পরিকল্পনা হওয়া ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ ০০৭ এর সদস্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে সে ঘটনার সময় ওই স্থানে ছিলো না বলে দাবী করছে। কিন্তু রিফাত হত্যা মামলায় তাকে পরিকল্পনাকারী হিসেবে আসামী করা হচ্ছে।
জানাগেছে, রিফাত হত্যার পরিকল্পনা হয় ০০৭ নামক ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে। হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ ০০৭-এর কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়। ওই স্ক্রিনশটে দেখা যায়, রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের দিন ২৬ জুন বুধবার সকাল ৮টা ৬ মিনিটে রিফাত হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী গ্রুপে লেখেন, ‘০০৭ এর সবাইরে কলেজে দেখতে চাই।
উত্তরে মোহাম্মদ নামে একজন লেখেন, ‘কয়টায়।’ নয়ন ফরাজির লেখেন ‘০০৭ এর সবাইরে কলেজে দেখতে চাই’- এর উত্তরে বরগুনায় পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ মো. সাগর সম্মতিজ্ঞাপনসূচক এবং বিজয়ের প্রতীক ‘ভি’ চিহৃ দিয়ে উত্তর দেন। এরপর মোহাম্মাদ আবার রিফাত ফরাজীকে উদ্দেশ্যে করে লেখেন ‘কয়টায় ভাই।’ রিফাত ফরাজী উত্তরে লেখেন ‘৯টার দিকে।
এ প্রসঙ্গে মো. সাগর মোবাইল ফোনে জানান, আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। গত ২২ জুন পুলিশে চাকুরির জন্য বাছাই পর্বে লাইনে দাড়ানোতে বরগুনায় এসেছি। রিফাত শরীফের উপর হামলার আগের দিন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভুত চিকিৎসায় আবদুল্লাহ নামে একজনের মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে আমরা সবাই মানববন্ধন করেছিলাম।
তিনি বলেন, রিফাত শরীফের উপর হামলার দিন সকালে আমি ঘুম থেকে জেগে দেখি ওই ম্যাজেসটি। আমি বুঝিনি যে ৯টায় কলেজে থাকতে হবে। আমি ভেবেছিলাম ওই মানববন্ধনের বিষয়ে কিছু একটা। পরে আমি একটি লাইক দিয়ে বের হয়ে যাই। পরে কি হয়েছে তা আমি দেখিনি। রিফাতের উপর যখন হামলা হয় তখন আমি কলেজে ছিলাম না। আমি আমার ভাইবা পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে যাই এবং সকাল সাড়ে ১১ নাগাদ সেখান থেকে ফিরে আসি।
এদিকে রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনার সাথে জড়িত থাকা সাগর পুলিশের চাকরিতে চুড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তার চাকরি হচ্ছে না। আইনের বিধান অনুযায়ী কোন সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে ফৌজধারী আইনে মামলা থাকলে বিচার কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকবেন। তবে কারোর বিরুদ্ধে ফৌজধারী মামলা থাকলে সে সরকারি চাকুরি পাবে না। সে হিসেবে সাগরও পুলিশের চাকুরী পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT