রিফাত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অঘোষিত রেড এলার্ট | | ajkerparibartan.com রিফাত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অঘোষিত রেড এলার্ট – ajkerparibartan.com
রিফাত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অঘোষিত রেড এলার্ট

3:13 pm , June 28, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরগুনার কলেজ ছাত্র রিফাত শরীফের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার পর পরই র‌্যাব ও পুলিশ পুরো বিভাগ জুড়ে গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি তল্লাশী অভিযান করছে। এক প্রকার অঘোষিত রেড এলার্ট চলছে বিভাগ জুড়ে। তারা রিফাতের হত্যাকারীদের ছবি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সন্দেহজনক মনে হলেই থানায় ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমান না হওয়ায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে তাদের। এমনিভাবে এরই মধ্যে রিফাত হত্যায় জড়িত তিন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল নৌ-বন্দরের এমভি মানামি লঞ্চ থেকে সন্দেহজনক ৪ যুবককে থানায় নেয়। সেখানে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই বাছাইয়ে রিফাত হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমানিত না হওয়ায় ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। অপরদিকে, গতকাল শুক্রবার ভোরো আরো সন্দেহজনক ৪ জনকে আটক করে বন্দর থানা পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বরগুনা থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। এ বিষয়ে মহানগরের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, বরগুনার রিফাত হত্যাকান্ডের বিষয়টি এখন দেশ জুড়ে আলোচিত ঘটনা। এই একটি দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। তাই ঘটনার সাথে জড়িত কোন আসামী যাতে বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য মহানগর পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই মহানগরীর প্রতিটি সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেক পোষ্ট ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা বলেন, বিভাগীয় শহর বরিশালে একটি বৃহত্তর নদী বন্দর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। নদী ও সড়ক পথ হয়ে যাতে কেউ পালাতে না পারে সে জন্য পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লঞ্চ ছাড়ার পূর্বে প্রতিটি নৌ বন্দরের প্রতিটি লঞ্চে তল্লাশী করা হচ্ছে। ডেক, কেবিন এমনকি লঞ্চের টয়লেটে পর্যন্ত তল্লাশী করা হচ্ছে। এর পরই পুলিশের নির্দেশে লঞ্চ ছাড়ছে। ঠিক একই ভাবে দুটি বাস টার্মিনালের বাসগুলোতেই তল্লাশী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মানামী লঞ্চ থেকে যে চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ধরে আনা হয় তাদের মধ্যে একজনের হুবহু মিল ছিলো। তাই তার প্রতি সন্দেহ বেশি ছিলো। তার বাড়ি বরগুনার বেতাগিতে। কিন্তু সে ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে প্রমান পেয়েছি।
সে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। ঘটনার দিন বরিশালে ছিলো। এমনকি ঘটনার দিন সকাল ৯টায় প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ছিলো সে। এসব বিষয় প্রমান করে সে ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তাই তাকে তার বোনের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিফাত হত্যায় জড়িত ৩ জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা তিনজনই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। তবে ঘটনার মুল হোতা সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশানরা এখনো গ্রেফতার হয়নি।
তিনি বলেন, তারা যাতে বরিশালের বাইরে বের হতে না পারে সে জন্য বরিশালের ভুরঘাটা, ভোলা, পিরোজপুরের প্রবেশদ্বারে পুলিশের চেক পোষ্ট রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বাস টার্মিনালে পুলিশ চেক করে তার পরেই বাস ছাড়ছে। এছাড়া নদী পথে যাতে পালাতে না পারে সে জন্য নদী পথেও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে তল্লাশী কার্যক্রম জোড়দার করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রই আসামীরা গ্রেফতার হবে।
উল্লেখ, গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালকে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। গুরুতর আহত রিফাতকে প্রথমে বরগুনা সদর ও পরে দুপুর ১টায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর বিকাল সোয়া ৪টায় শেবাচিম হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রপচারের সময় মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়েন রিফাত শরীফ। তাকে কুপিয়ে জখমের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদেও সনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT