শিক্ষাবোর্ডে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি | | ajkerparibartan.com শিক্ষাবোর্ডে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি – ajkerparibartan.com
শিক্ষাবোর্ডে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি

3:37 pm , June 25, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষনার পরপরই বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পন্থী দুই দল কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এরপর উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। শিক্ষাবোর্ড সচিবের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেয়া যায় কিনা সে সম্পর্কে একটি সুপারিশমালা প্রনয়নের জন্য মঙ্গলবার তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষাবোর্ড সচিব প্রফেসর বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত বশিবো/প্রশা/১৮/২০১৯/৬১৩ স্মারকে গঠিত ওই কমিটির আহবায়ক করা হয় বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খানকে। সদস্য করা হয় উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মামুন হোসেনকে। কমিটি ঘোষণার পরপরই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বোর্ড শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিলের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যায় শিক্ষাবোর্ডে আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা যাবার পরপরই শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি বোর্ড শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিএনপি নেতারা। এদের নেতৃত্বে বর্তমান কর্মচারী সংঘ সভাপতি আবু জাফর ছিলেন। এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা আওয়ামীলীগপন্থী কর্মচারীদের ওপর চড়াও হলে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বোর্ড শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিল জানান, আমরা বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের পদোন্নতি দেবার জন্য কমিটি করার বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যাই। তখন বিএনপি জামায়াত কর্মীদের নিয়ে শ্রমিকদল নেতা শহিদুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করে আমাদের ওপর চড়াও হয়। এরপর তারা বোর্ডে আমাদের সংগঠন বিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে। তিনি বলেন, বোর্ডে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন কমিটি রয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কমিটি গঠন করা বিধি বহির্ভুত। আমরা সে বিষয়টিতেই বাঁধা দিতে চেয়েছি। তবে শ্রমিকদল সভাপতি ও বর্তমান সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেছি। কারো ওপর হামলা চালাইনি। অভিযোগ পাওয়া যায়, পদোন্নতির তালিকার শীর্ষে যে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তার মধ্যে ৮ জন বিএনপির। এদের মধ্যে রয়েছেন সেকশন অফিসার সাবেক বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সচিব ও সাবেক বিএনপি পন্থী কর্মচারী সংঘ সভাপতি মো: মিজানুর রহমান, উচ্চমান সহকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘ সাংগঠনিক সম্পাদক এবি এম মিজানুর রহমান, সেকশন অফিসার ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের অর্থ সম্পাদক আহসানুল কবির। এছাড়া পদোন্নতি তালিকায় রয়েছেন বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘ সদস্য ও সেকশন অফিসার সাজিয়া হাসান লুনা, হিসাব সহকারী জাহাঙ্গির আলম, ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার কে এম ফরিদ হোসেন ও সহকারী হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. আ. ছালাম। আর এদের পদোন্নতির জন্য বোর্ড প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে বর্তমান কর্মচারী সংঘ সভাপতি আবু জাফর। আর এতে বাঁধা দেয় কর্মচারী সংঘের অপর নেতা ও শ্রমিকলীগ নেতারা। আর এতেই দুই গ্রুপে হাতাহাতি হয়। এই বিষয়ে বোর্ড সচিব অধ্যাপক বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কমিটি করেছি। তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ইউনুস এর সেল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT