যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চে চলছে ডেক ভাড়া বানিজ্য | | ajkerparibartan.com যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চে চলছে ডেক ভাড়া বানিজ্য – ajkerparibartan.com
যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চে চলছে ডেক ভাড়া বানিজ্য

3:11 pm , June 11, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-ঢাকা নৌ পথে লঞ্চের ডেক নিয়ে অবৈধ বানিজ্যে মেতেছে অসাধূ লঞ্চ কর্মকর্তা ও ষ্টাফরা। ঈদকে কেন্দ্র করে কর্মস্থলে  ফেরত যাত্রীদের জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। লঞ্চের কর্মচারী ও কেবিন বয়দের মাধ্যমে প্রতি ঈদ মৌসুমে এ ধরনের বানিজ্য ও  যাত্রী হয়রানি করা হলেও নিরব লঞ্চ মালিক , প্রশাসন ও বন্দর কতৃপক্ষ। প্রতি বছরের মত এবারেও  এ রুটের হাজার হাজার  যাত্রীর ভোগান্তি এখন চরমে পৌছেছে। সরেজমিনে বরিশাল নৌ বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদির ঈদ স্পেশাল ট্রিপের ১৮-২২ টি বৃহৎ লঞ্চ চলাচল করছে । লঞ্চগুলোর সীমিত সংখ্যক কেবিন পূর্বেই আর্থিক অবস্থাশালী ব্যক্তিরা বুকিং করে যাতায়াত করলেও সাধারন যাত্রীরা চলাচল করেন ডেকে। ঈদ ফেরত প্রতিদিন  গড়ে ২০ টি লঞ্চে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করছে। এ সকল যাত্রীরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নদী বন্দরে প্রবেশে পূর্বেই প্রতিটি লঞ্চের ডেক, ছাদ, কেবিনের মধ্যবর্তী স্থানসহ সম্পূর্ন লঞ্চের ফাঁকা স্থানগুলো চাদর ও তোষক বিছিয়ে রাখা হচ্ছে। লঞ্চের অসাধূ কর্মিরা বেলা ১২ টার পরেই এক একজন দড়ি বেধে নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারন করে চাদর ও তোষক বিছিয়ে রাখে। এরপর যাত্রীদের কাছ থেকে চাদর বিছানো স্থান প্রতি একজন যাত্রীর নিকট ৪‘শত টাকা এবং তোষক বিছানো স্থান ৫-৬‘শত টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে  যাত্রীরা  সরকার নির্ধারিত ২৫০ টাকা ভাড়ার দ্বিগুন ভাড়া পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। যাত্রীরা লঞ্চ ষ্টাফদের চাদর বিছানো স্থানে যেতে ইচ্ছুক না হলে তাদেরকে অন্যত্রও বসতে দেয়া হচ্ছেনা । লঞ্চ ষ্টাফদের  সাফ কথা তাহলে দাড়িয়ে যেতে হবে। এর প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের মারধর ও লাঞ্চিত করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে লঞ্চের সুপারভাইজাররা এ অবৈধ ভাড়ার টাকা ভাগ পেয়ে এ কাজে তাদের কর্মচারীদের সহায়তা করেন। প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিন ঘটলেও কোন মালিক তাদের কর্মিদের এ বিষয়ে কোন ধরনের শাস্তি প্রদান করেননি। চলতি সপ্তাহে  যাত্রী হয়রানির অভিযোগে ১ লঞ্চ কর্মিকে ডিবি পুলিশ আটক করে । এর আগে গত বছর বিআইডব্লিইটিএ কতৃপক্ষ ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট ১ লঞ্চ কর্মিকে আটক করলেও এ বছর বন্দর কতৃপক্ষ কিংবা ভ্রাম্যমান আদালতের কোন কার্যক্রম নেই।
বরিশাল নদী বন্দরে একাধিক যাত্রী যানান, স্বাভাবিক সময়ের ১০০ থেকে ১৫০ টাকার ডেক ভাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ২৫০ টাকা করা হয়। এরপর আবার লঞ্চ ষ্টাফরা ২৫০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা করে নিচ্ছে। যাত্রীরা জানান ঈদের সময়ে ৪-৫ হাজার টাকা বোনাস পেলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা যাওয়া করতে গিয়ে যাতায়াত ভাড়ায় বোনাসের সব টাকা সব শেষ হয়ে যায়। এ বিষয়টি দেখার কেউ নেই । এমনকি যাত্রীদের লাঞ্চিত করা হলেও কেউ দেখার নেই বলে তারা অভিযোগ করেন। বরিশাল নৌ বন্দরে বন্দর কর্মকর্তা, পরিদর্শক এবং নৌ পুলিশ থাকলেও তরা এ বিষয়ে একবারেই নিরব ভূমিকা পালন করেন বলেন যাত্রীরা অভিযোগ করেন। লঞ্চ কর্মিরা জানান, ঈদের সময়ে তাদের কোন বোনাস দেয়া হয় না। অনেক কোম্পানী বেতনের অর্ধেক টাকা দিয়েছে । মালিকদের সমর্থন নিয়েই তারা ডেক ভাড়া দিয়ে সে অর্থ উপার্জন করছেন। তবে যাত্রীদের মারধর ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান যাত্রী হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT