১৯ নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় কাউন্সিলর হচ্ছেন আ'লীগ প্রার্থী গাজী লিটু ! | | ajkerparibartan.com ১৯ নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় কাউন্সিলর হচ্ছেন আ’লীগ প্রার্থী গাজী লিটু ! – ajkerparibartan.com
১৯ নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় কাউন্সিলর হচ্ছেন আ’লীগ প্রার্থী গাজী লিটু !

6:54 pm , June 27, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী সংকট দেখা দিয়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডটিতে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চারজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও তারা কেউ তা দাখিল করেননি। এমনকি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা তিনজনরই নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিষয়টি অনিশ্চিত। আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে কোন চমক না এলে ওয়ার্ডটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বর্তমান কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু। সরেজমিনে জানাগেছে, বিশাল আয়তন নিয়ে গঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে মুসলমান ভোটারদের পাশাপাশি হিন্দু ভোটার সংখ্যাও অনেক। তাই হিন্দু ও মুসলমান উভয় ভোটারদের উপর নির্ভর করতে হয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের। অবশ্য ওয়ার্ডটিতে সব মিলিয়ে বিএনপি’র ভোট এখনো বেশি বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের। তবে ভোটারদের নিয়ে তেমন ভাবনায় নেই বর্তমান কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু। কেননা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

ওয়ার্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইতিপূর্বে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নঈমুল হোসেন লিটু’র বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেন তিন ব্যক্তি। যারা সবাই নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এরা হলেন- আওয়ামী পন্থি নেতা শফিউর রহমান জামাল ও মো. জহিরুল সুনাম এবং জাতীয় পার্টি’র সমর্থক হানিফ চৌধুরী। এদের মধ্যে শফিউর রহমান জামাল ও জহিরুল সুনাম দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। স্থানীয় ভোটাদের পীড়া-পীড়িতেই কাউন্সিলর পদে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন শফিউর রহমান জামাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সমর্থন না পাওয়ায় নির্বাচন থেকে পিছু হটছেন শফিউর রহমান জামাল।

তিনি বলেন, ওয়ার্ডের ভোটারদের চাপের মুখে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলাম। কিন্তু আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। দল থেকে বর্তমান কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটুকে সমর্থন দিয়েছে। যে কারনে এখন মনোনয়পত্র জমা না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

অপরদিকে একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মো. জহিরুল সুনাম। তিনিও জানিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা সে বিষয়টি আজকের মধ্যেই নির্ধারন হবে বলে জানিয়েছেন। আর তিনি মনোনয়নপত্র জমা না দিলে অপর প্রার্থী শফিউর রহমান জামালও মনোনয়ন জমা দিবেন না বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

এছাড়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক পার্টি ১৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহনের ইচ্ছা আমার রয়েছে। সে জন্যই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। কিন্তু কালো টাকার কাছে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে। কেননা নির্বাচন করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা আমার কাছে নেই। অর্থনৈতিক সহায়তা পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। অবশ্য জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হানিফ চৌধুরী। সে জন্যই অপেক্ষা করছেন। আর্থিক সহায়তা পেলে আজ বৃহস্পতিবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন জমা দিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভোটারদের কাছ থেকে জানাগেছে, ১৯নং ওয়ার্ডটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মডেল উত্তর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম হাওলাদার ও কমিউনিস্ট পার্টি জেলা কমিটির সদস্য বিমল মুখার্জীকে দলীয়ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই দুই প্রার্থীকে আগে ভাগেই ম্যানেজ করে ফেলায় তারা কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসছেন না বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাই ভোটের হিসাব-নিকাশে শেষ পর্যন্ত ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু’র বিপক্ষে কোন প্রার্থীই মাঠে থাকবে না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাছাড়া জাতীয় পার্টির শ্রমিক নেতা হানিফ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জামানত হারাতে পারেন বলে মন্তব্য ভোটারদের।

নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী গাজী নঈমুল হোসেন লিটু’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখান। দলীয় নির্দেশনার অজুহাত তুলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে পরবর্তীতে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। তবে তার বক্তব্য জানতে রাতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
: SYSTEM DEVELOPMENT :
SPIDYSOFT IT GROUP