রোজার শুরুতেই তীব্র তাপদাহ নগরীর বর্ধিত এলাকায় পানির হাহাকার | | ajkerparibartan.com রোজার শুরুতেই তীব্র তাপদাহ নগরীর বর্ধিত এলাকায় পানির হাহাকার – ajkerparibartan.com
রোজার শুরুতেই তীব্র তাপদাহ নগরীর বর্ধিত এলাকায় পানির হাহাকার

3:20 pm , May 8, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রোজার শুরুতেই বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বাতাসে জলীয় বাস্পের উপস্থিতি না থাকায় আগামী এক সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এমন দুঃসহ অবস্থায় বরিশাল নগরীতে তীব্র পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছেন না সিটি কর্পোরেশন। অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছেনা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীদিনগুলোতে নগরীতে জনদুর্ভোগ চরম রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) পানি শাখার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে পাঁচ কোটি ৮০ লাখ লিটার। এর বিপরীতে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে এক কোটি ৮০ লাখ লিটার। ফলে নগরীর প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ বিসিসি’র সরবরাহ করা পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানি নিয়ে দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বাপেক্ষা করুণ অবস্থার মধ্যে পরেছেন নগরীর বর্ধিত ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দারা। বর্ধিত এলাকায় না আছে কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ লাইন, আবার গভীর নলকূপেও দিনের অধিকাংশ সময় পানি উঠছেনা। ফলে তীব্র গরমে বর্ধিত এলাকার কয়েক লাখ বাসিন্দারা চরম পানি সঙ্কটে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্ধিত এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান জানান, তাদের এলাকায় কর্পোরেশনের সরবরাহ পানির লাইন নেই। আবার গভীর নলকূপগুলোতেও পর্যাপ্ত পানি উঠছেনা। একারণে ওয়ার্ডের সব বাসিন্দারাই চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি সড়কের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় সরবরাহ লাইন নেই। গভীর নলকূপের পানি না পাওয়ায় ছয় সদস্যর পরিবারের সবাই মহাঅশান্তিতে আছেন। বিসিসির পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওমর ফারুক জানান, প্রতিদিন পাঁচ কোটি ৮০ লাখ লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে কর্পোরেশন থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে এক কোটি ৮০ লাখ লিটার পানি। এরমধ্যে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে সরবরাহ হয় এক কোটি লিটার। বাকি পানি ৩৪টি পাম্পের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সস্প্রতি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাম্পগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী পানি উঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরও বলেন, গ্রীস্ম মৌসুমের আগে প্রতিদিন একটি পাম্প থেকে ১৫ হাজার গ্যালন পানি উত্তোলন করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন নয় থেকে ১০ হাজারের বেশি গ্যালন পানি উঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। কয়েক বছর আগে নগরীর মধ্যাংশে ৫০ থেকে ৬০ ফুট নিচে পাম্প স্থাপন করা হলেই পানির স্তর পাওয়া যেত। বর্তমানে পানি পেতে হলে ৯০০ থেকে এক হাজার ফুট গভীর নলকূপ বসাতে হচ্ছে। পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্ষা শুরু হলে এ সংকট থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত দত্ত বলেন, নগরীতে ১০ হাজারের বেশি গভীর নলকূপ রয়েছে। বিসিসি থেকে চাহিদার অর্ধেক পানি সরবরাহ না হওয়ায় অর্ধেক নগরবাসী গভীর নলকূপের অপর নির্ভরশীল। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ নলকূপে সাবমার্সিবেল স্থাপন করে পানি তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে পানি সঙ্কট আরও তীব্র হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT