ডিজাইনের অভাবে সুকান্ত বাবু শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ বন্ধ | | ajkerparibartan.com ডিজাইনের অভাবে সুকান্ত বাবু শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ বন্ধ – ajkerparibartan.com
ডিজাইনের অভাবে সুকান্ত বাবু শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ বন্ধ

3:03 pm , May 6, 2019

পান্থ ॥ ৫ বছরেও অগ্রগতি নেই নগরীর আমানতগঞ্জে নির্মানাধিক ২০০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ সুকান্ত বাবু শিশু হাসপাতালের। ভিত্তি স্থাপণের পর থেকে বছরের পর বছর পার হলেও নির্মাণ কাজের আশানুরূপ ও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে উন্নত চিকিৎসা থেকে বরিশাল অঞ্চলের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে নকশা পরিবর্তন করায় বিলম্বিত হচ্ছে নির্মাণ কাজ। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দাবী করেছে গণপূর্ত বিভাগ এখনও ফাউন্ডেশন ডিজাইন না দেয়ার কারণে কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আবদুল্লাহ সরেজমিনে হাসপাতালের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করে গনপূর্ত বিভাগকে সমস্যার সমাধান করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর নগরীর আমানতগঞ্জে দু’শো শয্যার একটি শিশু হাসপাতালের ভিত্তি স্থাপন করা হয় ২০১৪ সালের ১৮ই আগষ্ট। এরপর কেটে গেছে সাড়ে তিন বছর। কিন্তু হাসপাতাল নির্মাণের আশানুরূপ কোন অগ্রগতি হয়নি। এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে শিশুদের জন্য বেড রয়েছে মাত্র ৩৫টি। সেখানে ভর্তি থাকে দৈনিক সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ শিশু। ফলে উন্নত চিকিৎসা থেকে এ অঞ্চলের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শেবাচিম’র শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এম আর তালুকদার মুজিদ বলেন, ‘আসন না থাকার জন্য শিশুদের কাংক্ষিত সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। এ কারণে বরিশাল শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরী। সকল সমস্যা কাটিয়ে শিশু হাসপাতালের কাজটি শেষ করা উচিৎ বলে তিনি জানিয়েছেন।’ বরিশাল জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানুওয়ারুল ইসলাম অলি বলেছেন, ‘দীর্ঘ বছরের দাবী পর বরিশালে একটি শিশু হাসপাতালের অনুমোদন পায়। কিন্তু নানা কারণে গত ৫ বছরেও এই হাসপাতালের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘শিশু হাসপাতাল ছাড়া এই শিশুদের পুর্নাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব নয়। এই কারণে আমাদের জোড় দাবী অবিলম্বে শিশু হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হোক।’ এদিকে গণপূর্ত বিভাগ বলছে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে নকশা পরিবর্তন করায় বিলম্বিত হয়েছে শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। শিশু হাসপাতাল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি টাকা। এখানে ১০তলা ফাউন্ডেশনে প্রথম করা হবে ৪তলা পর্যন্ত। ২০১৯ সালে হাসপাতালটি সেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার তথা ছিল। শিশুদের জন্য জরুরী বিভাগ ছাড়াও রেডিওলজি, ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি বিভাগ, অপারেশন ব্লক, ওষুধ সরবরাহ বিভাগ, থেরাপি বিভাগ, সাধারণ শিশু ওয়ার্ড, প্রশাসনিক ব্লক ও সম্মেলন কক্ষ থাকবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কেএসবিএল-এসআরআর (জেভি) মেসার্স সাইদুর রহমান রিন্টু সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারী এই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এক মাস পর করা হয় এই পাইল চেস্ট। তবে যে স্থানে হাসপাতাল নির্মান করা হবে সেখানে প্রায় ২ একর জমির উপরে ছিল পুকুর। সেই পুকুর লিজ দেয়ার কারণে ১০ মাস অপেক্ষা করতে হয় তাদের। পরে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে টেস্ট পাইল ড্রাইভ করে লোড টেস্ট রিপোর্ট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডিজাইন বিভাগ ৩ ঢাকা হেড অফিসে পাঠানো হয়। পরবর্তিতে ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী আবার পাইটিং এর নতুন ডিজাইন দেয়া হয়। সেই ডিজাইন মোতাবেক আবার পাইলিং কাজ শুরু করা হয়। তবে অটোমেটিক ডিজেল হ্যামার দ্বারা সেই বছর ১৭ অক্টোবার পাইল ড্রাইভের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু অটোমেটিক ডিজেল হ্যামার দ্বারা পাইলিং করার কারণে আশপাশে কম্পিত হয়। পার্শ্ববতি অনেক ভবনে ফাটল দেখা দেয়। যার কারণে স্থানীয়রা অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি ২৫ অক্টোবার নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি প্রকৌশলী টিম দিয়ে তদন্ত করে। এই টিম নভেম্বর মাসে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর রিপোর্ট পেশ করেন। ওই রিপোর্ট মোতাবেক বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ পুনরায় ঢাকায় ডিজাইন বিভাগে রিপোর্টটি প্রেরণ করে। পরে তারা আবার ঢাকা থেকে সরেজমিন পরির্দশনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম বরিশালে পাঠায়। তারা এসে অটোমেটিক ডিজেল হ্যামার দ্বারা পাইলিং বন্ধ করে হাইড্রোলিক ষ্ট্রাটিক ড্রাইভার দ্বারা পাইল করার নির্দেশ দেন ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ৫টি পাইলের লোড টেস্ট রিপোর্ট চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পুনরায় ঢাকা হেড অফিসে প্রেরণ করে। কিন্তু অদ্য পর্যন্ত পুনাঙ্গ ফাউনডেশন ডিজাইন প্রদান করা হয়নি। যার কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক, সময় ও নানা ধরণের বিপত্তিতে পরে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেছেন, ‘ফাউনডেশন ডিজাইন অভাবে আমরা কাজ করতে পারছি না। প্রতি নিয়ত নির্মান সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো বিপত্তির সৃস্টি হচ্ছে। হাসপাতাল নির্মানের জন্য আনা লাখ লাখ টাকার মালামালও চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকার কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।’ এব্যাপারে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জেরাল্ডা অলিভার গুদা বলেন, ‘কাজটির পাইল ড্রাইভ হয়ে গেছে। লোড টেস্ট হয়ে গেছে। আজ পাইল লে-আউট করার কথা রয়েছে। হয়তো ঢাকা ডিজাইন বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজ সই করলে দু-এক দিনের মধ্যে আমরা ডিজাইন পেয়ে যাবো। সেক্ষেত্রে কাজ শুরু করতে আর সময় লাগবে না।’
প্রসঙ্গত, বরিশালে প্রথমবারের মতো নির্মিত হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালের নামকরণ হবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ শিশু সুকান্ত বাবুর নামে। নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় নির্মিত হচ্ছে এ হাসপাতাল।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT