নগর ভবনে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে বাক-বিতন্ড ॥ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য | | ajkerparibartan.com নগর ভবনে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে বাক-বিতন্ড ॥ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য – ajkerparibartan.com
নগর ভবনে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে বাক-বিতন্ড ॥ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

7:02 pm , April 23, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (বিসিসি) ঠিকাদারের বিল নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান ও ঠিকাদার শাহিন সিকদারের ভাই মোমেন সিকদারের সাথে বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। প্রকৌশলী আনিসুজ্জামানের অভিযোগ অতিরিক্ত বিল না দেয়ায় মোমেন সিকদার তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। আর শাহিন সিকদারের অভিযোগ ঠিকাদারী কাজ বাবদ ঘুষের ৫ লাখ টাকা না দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিসিসি’র কর্মকর্তাদের ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে আজ মঙ্গলবার মেয়র বরাবর আবেদন করবেন ঠিকাদার শাহিন। আর মোমেন সিকদারের বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার মানববন্ধন করেছে বিসিসি’র কর্মকর্তারা। বিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান জানান, বরিশালে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন সেবক কলোনীর ঠিকাদার হচ্ছেন মোমেন সিকদার। দির্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি তিনি আবার কাজ শুরু করেন। ওই কাজের এখন পর্যন্ত ২০ ভাগও সম্পন্ন হয়নি। এমতাবস্থায় মোমেন সিকদার ১ কোটি টাকা বিল দাবি করেন। কাজের অতিরিক্ত বিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মোমেন আমার সাথে অশোভন আচরন করেন এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। অন্যান্য কর্মকর্তারা মোমেনকে নিবৃত্ত করার চেস্টা করেন। খবর পেয়ে অন্যান্য শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে গেলে ঠিকাদার মোমেন সেখান থেকে সটকে পড়েন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিসিসি’র পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন। বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ওই ঘটনার সময় তিনি নগর ভবনে ছিলেন না। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ঠিকাদার অশালীন আচরন করে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। অপরদিকে বরিশালের বিশিষ্ট ঠিকাদার শাহিন সিকদার অভিযোগ করেন, প্রায় আড়াই বছর পূর্বে নগরীর কাউনিয়ায় সেবক কলোনীর প্যালাসাইটিং ও ঘাটলা নির্মানের জন্য আড়াই কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। ওই কাজের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান। তিনি কাজের স্টিমেট করেন। সেখানে ৩ ফিট প্যালাসাইটিং করার উল্লেখ থাকলেও ঠিকাদার গিয়ে দেখেন ওই পরিমান গাড়া সম্ভব নয়। ভুল স্টিমেট করার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ঠিকাদার বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। স্টিমেটে ত্রুটি থাকায় তাৎক্ষনিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভৎসনা করেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নির্মান কাজ অনেকাংশ সম্পন্ন করার পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারকে জানান পূর্বের স্টিমেট ভুল ছিলো নতুন করে করতে হবে। এনিয়ে ঠিকাদারদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। স্টিমেট কি ঘরে বসে করেন আমার এমন প্রশ্নে চটে যান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান। সেখানে উপস্থিত আমার বড় ভাই মোমেন সিকদারের সাথেও এ নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী চিৎকার করে বলে ওঠেন তাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন মোমেন সিকদার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক হয়েছে কিন্তু গুলি করে মারার হুমকি বিষয়টি সাজানো নাটক। এ ধরনের কোন কথা সেখানে হয়নি। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন অনিসুজ্জামানের কাছে তারা অনেকটা জিম্মি হয়ে আছেন। তিনি ঘরে বসে স্টিমেট করেন। আর এ জন্য সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ ঠিকাদারদের। ঠিকাদার শাহিন সিকদারের অভিযোগ, কিছু দিন পূর্বে আনিসুজ্জামান ঘুষের ৫ লাখ টাকা নিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলেন। শাহিন বিল দেয়ার সময় দেখা করার কথা বলে। এ নিয়ে অনেক দিন থেকেই তার উপরে ক্ষিপ্ত ছিলো নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান। শাহিন সিকদার জানান, আজ বিষয়টি লিখিতভাবে মেয়রকে অবহিত করে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিচার চাইবেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT