সূর্যের পাশে বলয় নিয়ে দিনভর কৌতূহল-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা | | ajkerparibartan.com সূর্যের পাশে বলয় নিয়ে দিনভর কৌতূহল-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা – ajkerparibartan.com
সূর্যের পাশে বলয় নিয়ে দিনভর কৌতূহল-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

2:22 pm , March 19, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের আকাশে সূর্যকে ঘিরে একটি কালো মেঘাচ্ছন্ন বলয় দেখা গেছে। যা দেখতে অনেকটা রংধনুর মতো ছিলো। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার পর বরিশালের আকাশে দেখা যায় এই বিরল দৃশ্য। অবশ্য প্রায় আধা ঘন্টা পর পৌনে ১ টার দিকে সূর্যের চারপাশের এই বলয় বিলীন হয়ে যায়। এই সময়টুকুর দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেছেন লাখো মানুষ। মুহূর্তে চাউর হয়ে যায় সূর্য ঘিরে বলয় তৈরীর ঘটনাটি। করোনা আতঙ্কের মধ্যে সূর্যের এই বিশেষ বলয় ঘিরে ভীত-তটস্থ হয়ে পড়েন দক্ষিণের মানুষ। বিভিণœ মন্তব্য করতে থাকেন এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে। এ সময় বেশী বেশী সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে দেখা গেছে। তবে এটা বিরল ঘটনা নয়, প্রকৃতিতে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বেলা ১২টার দিকে বরিশালে আকাশে সূর্য ছিলো মাঝ আকাশে। ছিলো প্রখর রোদ। সোয়া ১২টার দিকে ধীরে ধীরে সূর্য ঘিরে একটি গোলাকার বলয় তৈরী হয়। সূর্যকে ঘিরে রেখেছে মেঘাচ্ছন্ন একটি কালো বৃত্ত। দেখতে অনেকটা রংধনুর মতো এই বলয় ঘিরে মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় কৌতূহলের। তারা মুহূর্তের মধ্যে স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছে ছড়িয়ে দেয় এই খবর। মানুষজন আগ্রহ নিয়ে দেখেন সূর্য ঘিরে থাকা গোলাকার বলয়। অনেকে এই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও এবং স্থির চিত্র ধারণ করেন। বিশেষ করে নগরীর সদর রোডের বিবির পুকুরের চারপাশে উৎসুক মানুষ সূর্য ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বলয় দেখেন এবং মুঠোফোনে ক্যামেরাবন্ধি করেন। ভ্যান চালক মো. সজিব হাওলাদার বলেন, এমনিতেই করোনা নিয়ে ভয়ের মধ্যে আছি। তার উপর আবার সূর্য ঘিরে কালো বৃত্ত দেখে ভয়ই লাগছে। এমন দৃশ্য এর আগে দেখেননি বলে তিনি জানান। ব্যবসায়ী মো. নূর হোসেন বলেন, কেয়ামত আসন্ন এটা তার লক্ষণ। মানুষের এখন ঈমানে ফিরে আসা উচিত। পথচারী মো. পারভেজ বলেন, সবাই উপরের দিকে তাকিয়ে কি যেন দেখছিলো। তিনিও আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেন সূর্য ঘিরে সৃষ্টি হওয়া মেঘাচ্ছন্ন বৃত্ত।
শিক্ষার্থী মল্লিকা চক্রবর্তী বলেন, দেখে মনে হচ্ছে এটা রেইন লেয়ার। অন্য কিছু নয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম বলেন, এটা বিরল কোনো ঘটনা নয়। মাঝে মধ্যেই হয়ে থাকে। তিনি বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সূর্যের আলোকরশ্মি ভূ-পৃষ্ঠে আসে। ওটা সূর্যের নিচ দিয়ে একটি মেঘের খন্ড। অন্যান্য সময় মেঘের খন্ড বিভিন্ন আকারের হলেও এবার দেখা গেছে গোলাকার মেঘ খন্ড। মেঘের ক্লাস্টার ভেদ করে সূর্যের আলোকরশ্মি ভূ-পৃষ্ঠে আসায় এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। মেঘের খন্ডগুলো বিন্যাসের কারণে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে একটা শেফ দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পর আবার এই দৃশ্য পরিবর্তন হয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা ঃ ইংরেজিতে এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘সোলার হোলো’। স্বচ্ছ বরফের মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করলে বায়ুমন্ডলে এমন বলয় তৈরি হয়। চাঁদের চারপাশে বলয়ের সৃষ্টি হলেই বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। কারণ, একটি ঝড়ের আগে অনেক উচ্চ আলোক মেঘ সৃষ্টি হয়। যখন আমরা সূর্য বা চাঁদের চারপাশে সে বর্ণবলয় দেখি তখন খুবই পাতলা রঙিন মেঘগুলো আমাদের মাথার ২০ হাজার ফুট ওপরে জমা হতে থাকে। এ মেঘগুলোতে থাকে অতি ক্ষুদ্র বরফ ক্রিস্টাল বা স্ফটিক। আর এই বর্ণবলয়ের সৃষ্টি হয় সেসব বরফ স্ফটিকের প্রতিসরণ ও প্রতিফলন উভয়ের মাধ্যমেই। চাঁদের আলো স্ফটিকের ভেতর প্রবেশ করে এবং ঠিক ২২ ডিগ্রি কোণে প্রতিসরিত হয়। স্ফটিকগুলো ঠিক সেভাবেই সজ্জিত ও বিন্যাস্ত হয় ঠিক সেভাবেই, যেভাবে আমরা আমাদের চোখের সাপেক্ষে বর্ণবলয়টা দেখি। আর মূলত এ কারণেই চাঁদ বা সূর্যের চারপাশে এই বর্ণবলয় সৃষ্টি হয়। এই বর্ণবলয়েরর ব্যাস হয় ২২ ডিগ্রী। বর্ণবলয়ের কারণ জেনে মনে হতে পারে এটা খুবই দুর্লভ একটা ঘটনা। আসলে তা নয়। বরং ২২ ডিগ্রি সৌর বর্ণবলয় বছরে প্রায় একশ’ বার দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ রংধনুর চেয়েও বেশি দেখা যায় ২২ ডিগ্রির এই সৌর বর্ণবলয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT