উপকুলীয় ডেঞ্জার জোনে আজ থেকে নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ ! | | ajkerparibartan.com উপকুলীয় ডেঞ্জার জোনে আজ থেকে নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ ! – ajkerparibartan.com
উপকুলীয় ডেঞ্জার জোনে আজ থেকে নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ !

3:59 pm , March 14, 2019

মর্তুজা জুয়েল \ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দূর্ঘটনা এড়াতে আজ থেকে ডেঞ্জার জোন এলাকায় নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিআইডবিøইটিএ। আজ ১৫ মার্চ থেকে আগামী ১৫ ই অক্টোবর পর্যন্ত ডেঞ্জার জোন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত নৌ পথে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সময়ে সি সার্ভে এবং বে-ক্রুজিং সনদ ব্যতীত সকল নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ডেঞ্জারজোন হিসেবে চিনহিত অনেক এলাকা এখন চরাঞ্চল এবং ডুবোচর। ডেঞ্জারজোন হিসেবে সনাক্ত হওয়ার পরে গত ১৯ বছরে অঅবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঐ সকল অনেক নৌ এলাকা এখন ক‚ষি জমি । অপরদিকে অনেক নৌ এলাকায় ভাঙ্গন তৈরী হয়ে সরু ও শান্ত নদী রুপ নিয়েছে উত্তাল নদীতে। তবে নৌ পথের বর্তমান পরিস্থিতি হালনাগাদ না করেই ডেঞ্জার জোন এলাকা ঘোষনা ও নৌযান চলচলের নিষেধাজ্ঞার সময়সূচী পরিবর্তন করার দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণায়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলের নৌ পথকে শান্ত, সারা বছর অশান্ত, মৌসুমী অশান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণানাঞ্চলের উপক‚লীয় নৌপথ এলাকাকে মৌসুমী অশান্ত নৌপথ হিসেবে চিহিৃত করে নৌযান চলাচলে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে । তবে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনটি জারী হয় ২০০০ সালে । এরআগে দক্ষিনাঞ্চলেল নৌপথ নিয়ে জরিপ করা হলেও এরপর গত ১৯ বছরে এ অঞ্চলের নৌপথ নিয়ে কোন সার্ভে হয়নি। বর্তমানে বরিশালে নদীর সংখ্যা,নৌপথের আয়োতন,প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর নৌ পথের দৈর্ঘ্য এবং প্রকৃত নৌযানের সংখ্যার কোন তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানেন না। বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেখা গেছে, ডেঞ্জার জোন ঘোষিত এলাকায় চলাচল কারী ২৮ টি নৌযানকে পত্র দিয়ে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। বরিশাল নদী বন্দর এর আওতায় চর আলেকজান্ডার- দৌলতখান, চর আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, চর আলেকজান্ডার-আসলামপুর, মনপুরা (হাজিরহাট)- তজুমুদ্দিন, চর জহির উদ্দিন- শশীভূষণ, মজু চৌধুরীর-ইলিশা নৌ রুটকে মৌসুমী অশান্ত নৌপথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার কোস্ট গাডর্, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নৌযান চলাচল না করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআইডবিøউটি এর পক্ষ থেকে মৌসুমী অশান্ত নৌ পথে ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই অক্টোবর সময়ে সি সার্ভে এবং বে-ক্রুজিং সনদ ব্যতীত সকল যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। এজন্য চলাচলকারী ২৮টি নৌযানের চলাচলের সময়সীমা বন্ধ থাকবে।
তবে নৌযান চালক ও মালিকরা বলছেন বর্তমান মৌসুমের সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। মাষ্টার বেল্লাল হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত বিরুপ আবহাওয়া তৈরীর সময় এখনোও হয়নি। ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঐ সকল স্থানে এখন বৃহৎ চরাঞ্চল। কোন কোন স্থানে নদীতে পানি নেই। অপরদিকে যেসব নদী এলাকা ছোট এবং শান্ত ছিল এমন অনেক স্থানে এখন নদী ভেঙ্গে এবং বাক পরিবর্তিত হয়ে ডেঞ্জার জোন তৈরি হয়েছে। গত ১৯ বছরে বরিশাল বিভাগের অন্তত ৩ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ চলাচলের জন্য ঝুকিপূর্ন হয়ে উঠেছে। উপক‚লীয় এলাকাসহ প্রথম শ্রেনীর ১৪শ’ কিলোমিটার নৌ-পথ নাব্যতা হারিয়ে এখন নৌ চলাচলের অনুপযোগী। নাব্যতা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এ অঞ্চলের ২৮টি নৌ-রুট। গুরুত্বপূর্ন এসকল নৌপথে বর্তমানে যাত্রী ও পন্যবাহী নৌযান চলাচলে অধুনিক প্রযুক্তির জিপিএস ও ইকো সাউন্ডার সিস্টেমই নৌযান চলাচলের প্রধান ভরসা ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ হালনাগাদ ভাবে কোন উপকূলীয় নৌপথকে সনাক্ত না করায় দুর্ঘটনা এড়াতে তাদের যে কার্যক্রম তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ন বর্ষা মৌসুম এবং ঝড়ো হাওয়া ছিল। একাধিক লঞ্চ মালিক বলেন বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তিত প্রভাবে এ মুহূর্তে উপকূলীয় এলাকা অশান্ত নয়। অথচ বিআইডবিøউটিএ ল্ঞ্চ মালিকদের সাথে কোন ধরনের কথা না বলেই এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছুদিন পরে কাল বৈশাখী শুরু হওয়ার পূর্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো। আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত দেয়ার দাবী জানান তারা।
বরিশাল নদী বন্দরে ভোলার মনপুরার রামনেওয়াজ বাজারের বাসিন্দা জয়ন্ত দাসের সাথে কথা হয় এ বিষয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে মে মাসে এপ্রিল মাসের শেষ দিকে মেঘনা নদী উত্তাল থাকে এবং নভেম্বর ডিসেম্বর পর্যন্ত ভরা নদী থাকে। এপ্রিলের পূর্বে চর এবং ডুবোচরে নিমজ্জিত থাকে মেঘনার অধিকাংশ এলাকা। এজন্য ডেঞ্জার জোন এলাকা পরিবর্তন করার কথা বলেন তিনি। একই ধরনের কথা বলেন উপক‚লীয় এলাকায় নৌ পথে চলাচলকারী একাধিক বাসিন্দা। এদিকে প্রতি বছর মহা ধুমধামে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হলেও নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নৌপথ সুরক্ষায় কার্যকর তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে কখনোই দেখা যাচ্ছে না। এ বছর ‘প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা, নৌপথে আনে নিরাপত্তা’ শ্লোগান নিয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়। এখানকার নৌ-বন্দর জুড়েও ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে রেখে এ কর্মসূচী পালন করছে। বাস্তবে এ কর্মসূচি পরবর্তীতে নৌপথ সুরক্ষায় বা যাত্রী নিরাপত্তায় তেমন কোনো উপকারে আসে না বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। কয়েক বছর পূর্বে বর্ষা মৌসুমের আগে এপ্রিল মাসে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হত। গত বছর ১৪ জুন থেকে এ সপ্তাহ পালন করা হয়। এ বছর ১ জুন থেকে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হলেও নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তায় আজো তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মনিটরিং ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বেপরোয়া নৌযান চলাচল করছে।
ডেঞ্জার জোনে ছোট আকৃতির ট্রলারে যাত্রী পরিবহর করা হলেও এ বিষয়ে কখনোই কোন পদক্ষেপ নেয়ার কথা শোনা যায়না। কেবলমাত্র একটি চিঠি দিয়ে কতৃপক্ষ দায়সারা হন। অনেক সময় নৌযান মালিকরা তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী নৌযান পরিচালনা করতে থাকেন। মেঘনার ডেঞ্জার জোনে নৌ-যান চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও মালিকরাও তা তোয়াক্কা করেন না। দৌলতখান-আলেকজান্ডার, মনপুরা-হাতিয়া, বেতুয়া-তজুমদ্দিন-ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট, মীর্জাকালু ও হাকিমউদ্দিনসহ বিভিন্ন রুটে চলে অবৈধভাবে একতলা লঞ্চ। এসব রুটে ভরা বর্ষা মৌসুমে সি-ট্রাক চলাচলের কথা থাকলে তা কৌশলে বিকল দেখিয়ে পরিচালনা করা হয় একতলা লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। গত বছরও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরায় যাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে দশজনের প্রাণহানি ঘটে। ইতিপূর্বে বর্ষা মৌসুমে ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’, ‘সন্দীপ’, ‘কুতুবদিয়া’ জাহাজ দক্ষিণাঞ্চলের ডেঞ্জার জোনে পরিচালনা করা হত। গত কয়েক বছর যাবত্ এগুলো দেখা যাচ্ছে না। বে-ক্রসিং জাহাজের পরিবর্তে চলছে ছোট ছোট একতলা লঞ্চ। বিআইডবিøউটিসি এসব রুটে পর্যাপ্ত সি-ট্রাক দিতে ব্যর্থ। কয়েকটি হাতেগোনা সি-ট্রাক থাকলেও ইজারাদার তা বিকল দেখিয়ে ইচ্ছামাফিক ছোট নৌযান পরিচালনা করেন। মানুষ বাধ্য হয়ে অবৈধ নৌযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিআইডবিøউটিএ, বিআইডবিøউটিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না থাকার সুযোগে প্রভাবশালী নৌযান মালিকরা সকল মৌসুমেই যাত্রী জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল টাকা। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। যাত্রীদের ভোগান্তি পাশাপাশি দক্ষ মাষ্টার, সুকানি ও ড্রাইভার ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের নৌপথে দীর্ঘদিন লঞ্চ চলাচল করছে। বিআইডবিøউটিএ’র হিসাবমতে দক্ষিণাঞ্চলে নৌ-রুট ৮৮টি। এর মধ্যে ঢাকার সাথে সরাসরি নৌযান চলাচল করে ৪৩টি রুটে। বাকি অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে চলে এমএল টাইপের একতলা ছোট লঞ্চ। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী অর্ধেক লঞ্চেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাষ্টার-ড্রাইভার নেই। লঞ্চগুলো চালায় খালাসী ও হেলপাররা। এ বিষয়ে বিআইডিবিøইটিএ এর একাধিক কর্মকর্তা বলেন বিষয়টি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর দেখভাল করে। এ বিষয়ে বরিশালে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের দপ্তরে একাধিকবার গিয়েও কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT