ভেঙ্গেছে লঞ্চের রোটেশন প্রথা ॥ কমেছে ভোগান্তি | | ajkerparibartan.com ভেঙ্গেছে লঞ্চের রোটেশন প্রথা ॥ কমেছে ভোগান্তি – ajkerparibartan.com
ভেঙ্গেছে লঞ্চের রোটেশন প্রথা ॥ কমেছে ভোগান্তি

3:39 pm , March 9, 2019

মর্তুজা জুয়েল ॥ নিরবে ভেঙে গেছে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের চলাচলকারী লঞ্চ মালিকদের যাত্রীদের জিম্মি করার রোটেশন প্রথা। মিছিল মিটিং, মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলন ও সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে লঞ্চ মালিকদের তৈরি এ রোটেশন প্রথা ভেঙ্গে যাওয়ায় কমেছে যাত্রীদের ভোগান্তিও। এছাড়াও বেড়েছে লঞ্চের যাত্রী সেবা। কমেছে লঞ্চের কেবিন নিয়ে হয়রানিসহ যাত্রী ভাড়া। নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনৈক্যের কারণে অঘোষিতভাবে ভেঙে গেছে ভোগান্তির এ রোটেশন প্রথা। ফলে এখন প্রতিদিন ঢাকা বরিশাল নৌ রুটে চলাচল করছে ৭ থেকে ৮ টি লঞ্চ । পুর্বে ৩/৪টি লঞ্চ চলাচল করলেও গত দুই মাসের ব্যবধানে লঞ্চ চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৭/৮টিতে পৌছেছে। লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডেকের ভাড়া কমে এসেছে অর্ধেকে আর কেবিনের ভাড়া কমেছে অন্তত ২৫ ভাগ। যাত্রীদের গলার কাঁটা রোটেশন প্রথা ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন আর এ রুটের কোন লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে পারছে না। এতে যাত্রীদের দুর্ঘটনায় পড়ার শংকাও কমেছে। কমেছে এ রুটের অধিকাংশ লঞ্চের কেবিন ভাড়া। বর্তমানে দুই একটি লঞ্চ বাদে অধিকাংশ লঞ্চের কেবিন ভাড়া ১ হাজার ৮’শ থেকে নেমে এসেছে ১ হাজার ৪’শ থেকে ১ হাজার ৬’শ টাকায়। সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং ডেকের ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে কমে এখন ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় নেমে এসেছে। প্রতিদিন ৩/৪টি লঞ্চের পরিবর্তে লঞ্চ চলাচলের সংখ্যা দ্বিগুন হওয়ায় শুক্র ও শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকায় এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বরিশালে যাত্রার এই তিন দিন ছাড়া সপ্তাহের বাকী ৪ দিন লঞ্চের কেবিন মিলছে হরহামেশা। বর্তমানে অধিকাংশ লঞ্চেই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টির বেশি কেবিন ফাঁকা যাচ্ছে। তবে সাপ্তাহিত ছুটি ও সরকারি ছুটিতে কেবিন এর চাহিদা এখনো রয়েছে পূর্বের মতই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সম্প্রতি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনৈক্য। মালিক সমিতির মধ্যে ক্ষমতাধর একাধিক লঞ্চ মালিক থাকায় তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে যে যার খুশিমতো লঞ্চ পরিচালনা করছেন।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন এমভি পারাবত লঞ্চের ঢাকা থেকে দুটি এবং বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে দুটি করে চলাচল করছে। অর্থাৎ পূর্বের রোটেশন প্রথা অনুযায়ী প্রতি মাসে একেকটি লঞ্চের নির্ধারিত ১০ টি ট্রিপের পরিবর্তে এখন একেকটি লঞ্চ সপ্তাহেই ৫/৬ টি করে ট্রিপ পরিচালনা করছে। একইভাবে এমভি টিপু-১,২ ও ৩ লঞ্চ প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল এবং বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। এছাড়া পূর্বের মত এমভি সুন্দরবন ৩টি ,সুরভী , কীর্তনখোলা ও ফারহান এর দুইটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। এর ফলে মূলত প্রতিদিন ১৫/১৬ টি লঞ্চ দুপ্রান্ত থেকে চলাচল করছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে মূলত এমভি পারাবাত লঞ্চ কতৃপক্ষ মালিক সমিতির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারা প্রতিদিন ৪ টি করে লঞ্চ চলাচল করছে। এর কারন হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লঞ্চ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতি পারাবাত-১১ লঞ্চটি ডকইয়ার্ডে মেরামত কাজ চলছিল। ঐ সময়ে মালিক সমিতির পূর্ব নির্ধারিত রোটেশন না মেনে সুন্দরবন লঞ্চ কতৃপক্ষ পারাবাতের ছোট লঞ্চের সঙ্গে তাদের বড় লঞ্চগুলো চলাচল করায়। এরফলে যাত্রী সংকটে পড়ে পারাবাত। এ কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা প্রতিদিন এ রুটে তাদের ৪টি লঞ্চই চলাচল করার সিদ্ধান্ত নয়। এরফলে বিতর্কিত রোটেশন প্রথা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর এমভি টিপু সহ অন্যান্য কোম্পানী রোটেশনের বাইরে একাধিক লঞ্চ চলাচল শুরু করে। সাম্প্রতি এ রুটে নতুন যুক্ত হওয়া এমভি মানামি লঞ্চ রুট পারমিট এবং শিডিউল পাওয়ায় রোটেশন প্রথা বলতে আর কিছু থাকছে না। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সুত্র দাবি করেছে, মালিক সমিতির ঐক্য হলে যে কোন সময় রোটেশন চালু হবে।
এ সকল বিষয়ে পারাবাত লঞ্চের মালিক শহীদুল আলম জানান, আমি যাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য লঞ্চ তৈরি করেছি। অতিরিক্ত লঞ্চ থাকা সত্ত্বেও তা ঘাটে নোঙ্গর করে রেখে কম সংখ্যক লঞ্চ চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করা আমাদের কাজ নয়। এরপরেও সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা লঞ্চ পরিচালনা করেছি। কিন্তু একটি মহল সুযোগ পেলেই তারা স্বেচ্ছাচারিতা করার চেষ্টা করে। অপরদিকে লঞ্চ মালিকদের আরেকটি পক্ষ বলছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিতে হবে। এতে যে যতগুলো খুশি লঞ্চ পরিচালনা করুক তাতে তো আপত্তি নেই। কিন্তু সরকার নির্ধারিত ভাড়া কমিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করা ঠিক না।
এদিকে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে যাত্রীরা। ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান বর্তমানে প্রত্যেক লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না হওয়ায় সকলে খুবই স্বচ্ছন্দে চলাচল করছে। এছাড়া কেবিনের ফাঁকা স্থানে এখন আর যাত্রী বহন হচ্ছে না । ডেকের যাত্রীরাও সুন্দরভাবে লঞ্চে যাতায়াত করছে। বর্তমানে একেকটি লঞ্চে ডেকে ২০০ থেকে ৩০০ যাত্রী চলাচল করছে। লঞ্চের সংখ্য তিন থেকে চারটি হলে একটি লঞ্চে অন্তত প্রতিদিন এক হাজার যাত্রী চলাচল করত। তবে একাধিক ব্যবস্থাপক ও সুপারভাইজার জানান, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে চলছে এতে করে কোন কোম্পানিই লাভ করতে পারবে না । ফলে যে কোন সময়ে পূর্বের ন্যায় রোটেশন প্রথা চালু হবে।
এ সকল বিষয়ে বরিশাল নৌ বন্দরের যুগ্ন পরিচালক এবং নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, রুট পারমিট প্রাপ্ত যে কোন লঞ্চ চলাচল করতে পারবে। এতে কোন বাধা নেই। তবে লঞ্চের সংখ্যা বেশী হওয়ায় এখন কলম্যানরা ডেকে ডেকে কেবিন ও ডেকের যাত্রীদের লঞ্চে তুলছে। কে কার চয়ে কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এ নিয়ে এখন প্রতিযোগীতা চলছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশী ভাড়া নিলে আমরা ব্যবস্থা নেব, কিন্তু কম ভাড়া নিলে কোন অসুবিধা নেই।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT