এ বছরে নিজস্ব ভবনে ফিরছে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি | | ajkerparibartan.com এ বছরে নিজস্ব ভবনে ফিরছে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি – ajkerparibartan.com
এ বছরে নিজস্ব ভবনে ফিরছে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি

3:44 pm , March 1, 2019

খান রুবেল ॥ বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি’র নির্মানাধিন বহুলতল ভবন নিয়ে সৃষ্ট সকল জটিলতার অবসান ঘটেছে। জমির মালিকানা নিয়ে যে বিরোধ ছিলো তাও কেটে গেছে। কাঙ্খিত শিল্পকলা একাডেমি ভবন এখন বাস্তবে রূপ নেয়ার অপেক্ষামাত্র। আগামী জুন মাসেই এ অপেক্ষার প্রহর শেষ করবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। তবে তার আগেই শিল্পকলার নতুন অডিটরিয়ামে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান করতে চাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, নগরীর বান্দ রোডস্থ বঙ্গবন্ধু উদ্যানের বিপরীতে জেলা পরিষদের হেলিপ্যাডের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমিতে এক তলা ভবনের শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম চলছিলো। রক্ষনাবেক্ষন এবং পরিচর্যার অভাবে ভবনটি পরিনত হয় জরাজীর্নে। ২০০২ সালে তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় শিল্পকলা একাডেমি ভবনটি ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা করে। ২০০৪ সালে ভবনটি সংস্কার ও আধুনিকায়নে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রনালয়। ২০০৭ সালে ওই টাকায় নির্মাণ কাজ শুরু হলেও জমি নিয়ে বিরোধের কারনে তা বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি ২০০৯ সালে ফেরত চলে যায় বরাদ্দের টাকা। এক পর্যায় বন্ধ হয়ে যায় শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম। ফলে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর শিল্প ও সাহিত্য চর্চায় ব্যাঘাত ঘটে। তবে ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সহিদুল আলম শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে গতি ফেরাতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করেন। বরিশাল অডিটোরিয়ামের তৃতীয় তলার কক্ষ বিনা ভাড়ায় ছেড়ে দেয়া হয় শিল্পকলা একাডেমিকে। নিয়োগ দেয়া হয় ১০ জন প্রশিক্ষক। সকলের প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একাডেমিতে মাত্র দেড় বছরেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাড়ায় প্রায় তিন’শ জনে।
তবে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-সাহিত্যের বিকাশ ঘটাতে বিভাগীয় শহর বরিশালে একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমিক দাবী বহুকাল ধরে। এ দাবী আদায়ে বরিশালের শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্য প্রেমিদের রাজপথে আন্দোলনও করতে হয় বছরের পর বছর। তাদের প্রানের দাবী বাস্তবে রূপ নেয় ২০১৫ সালে। শিল্প সাহিত্যের উন্নয়নে পুরাতন শিল্পকলা একাডেমি ভবন ভেঙে সেখানে এক একর জমিতে চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মানে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহন করে সংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়।
এমনকি ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর ৪৬২ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম, উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চ, আর্ট গ্যালারি, লাইব্রেরী, রেস্ট হাউজ ও অফিস ভবন সহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত শিল্পকলা একাডেমি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গণপূর্ত বিভাগের তদারকিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিলো ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু পুরো দমে কাজ শুরুর আগেই জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের আপত্তিতে থেমে যায় নির্মান কাজ। বরিশাল জেলা কালচারাল কর্মকর্তা হাসানুর রশিদ মাকসুদ বলেন, জেলা পরিষদের অধিগ্রহনকৃত জমিতে হেলিপ্যাড নির্মান না হওয়ায় সেখানে শিল্পকলা একাডিমির কার্যক্রম চলছিলো। পরে ওই জমিতে শিল্পকলা একাডেমি নতুন ভবন নির্মান কাজ শুরু হলে তাতে আপত্তি জানায় জেলা পরিষদ। তাই ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর মন্ত্রনালয় থেকে কাজ বন্ধ করে প্রকল্প বাতিলের চিঠি দেয়।
তিনি বলেন, জমি নিয়ে জটিলতা এড়াতে জেলা পরিষদের অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে এক একর জমি পুন.অধিগ্রহণের আবেদন করা হয়। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর জমি পুন.অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন মামলাও করে। এর পর এক একর জমি শিল্পকলা একাডেমির অনুকূলে পুনঃঅধিগ্রহণের বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য গত ২৭ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। হাসানুর রশিদ মাকসুদ বলেন, শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মানে এখন আর কোন বাধা নেই। কেননা যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারীতে তার নাম জারির কাগজও আমরা পেয়েছি। তার আগে জমির রেজিষ্ট্রেশন ও ভূমি মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনও পেয়েছি। তাই এখন শুধু ভবন নির্মান কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা।
জেলা কালচারাল কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাচ্ছি আসছে ২৬ মার্চ নতুন ভবনে স্বাধীনতা দিবসে শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠান করতে। তাছাড়া এপ্রিল অথবা মে মাসের মধ্যেই নিজস্ব ভবনে শিল্পকলা একাডেমির সকল কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
শিল্পকলা একাডেমি প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইনফিনিটি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল মিয়া বলেন, ১২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আমরা ভবন ও অবকাঠামো নির্মান কাজ পেয়েছি। এ কাজ শেষ করার জন্য এখনো জুন মাস পর্যন্ত সময় আছে। তবে তার আগে মার্চের মধ্যেই আমাদের অংশের কাজ শেষ করতে পারব। তবে বিদ্যুৎ, আলোকসজ্জা ও ফার্নিচারের কাজ আমাদের মধ্যে নয়। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিপন চন্দ্র দাস বলেন, শিল্পকলা একাডেমি নতুন ভবনে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান করতে চাচ্ছে। কিন্তু তা কতটুকু সম্ভব হবে এখনো বলা যাচ্ছে না। কারন ভবন নির্মান ও বিদ্যুৎ এর কাজ শেষ হলেও ফার্নিচার, এলইডি ও সাউন্ড সিস্টেম এর কাজ শেষ করতে সময় লাগবে। কেননা এগুলো ডিপিপিতে না থাকায় নতুন করে টেন্ডার দেয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে জুনের মধ্যে শিল্পকলা একাডেমি’র পূর্ণাঙ্গ ভবন হস্তান্তর সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT