সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়েছে কোচিং বানিজ্যে | | ajkerparibartan.com সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়েছে কোচিং বানিজ্যে – ajkerparibartan.com
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়েছে কোচিং বানিজ্যে

1:00 am , February 25, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সুপরিচিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ও বাহিরে অবৈধ কোচিং ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা ভাবে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। সুবিধাজনক সময়ে বিদ্যালয়ে এবং দিনের একাধিক সময়ে নিজেদের বাসভবনে বিশাল আকৃতির সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রতি মাসে লক্ষ টাকা কোচিং বানিজ্য করছে বলে জানায় তারা। অভিভাবকদের নির্দিষ্ট ও বিস্তারিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাগেছে, নগরীর ৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে নগরীর ভাটিখানা রোডের বীণাপানি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকই ব্যাচ করে কোচিং বানিজ্যে লিপ্ত রয়েছে। এরমধ্যে একজন শিক্ষক ও দুইজন শিক্ষিকা। শিক্ষক পার্থ সাহা সপ্তাহে ৩ দিন করে দুইটি ব্যাচ পড়ান। প্রতি ব্যাচে প্রায় ৪০ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের কাছে থেকে তিনি ১ হাজার টাকা করে সম্মানী গ্রহন করেন। একটি ব্যাচ চলে জাহানারা মঞ্জিল স্কুলের সামনে সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ৮টা এবং অন্যটি মমতাজ মজিদুন্নেছা স্কুলে বিকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা।
শিক্ষিকা ফেরদৌসি ভাটিখানা সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পাশের গলিতে নিজ বাসায় ব্যাচ করে পড়ান। ব্যাচে ৩২ জন শিক্ষার্থী থাকে। সপ্তাহে তিন দিন পড়ানোর মাধ্যমে তিনি ১০০০ টাকা গ্রহন করেন। তার ব্যাচের নির্ধারিত সময় হলো বিকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা।
একই ভাবে শিক্ষিকা জোবাইদা ব্যাচে ৪৫ জন করে পলাশপুরের নিজ বাসায় পড়ান। তার সময়ও বিকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা। তিনিও ১ হাজার টাকা করে গ্রহন করেন।
এরপরে আছেন পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দেবলিনা। তিনি হাসপাতাল রোড ঝাউতলা ২য় গলির মধ্যে নিজ বাসায় এই ব্যাচ বানিজ্য করেন। তিনি ব্যাচে ২২ জন করে ছাত্র পড়ান। তিনি সপ্তাহে ৫ দিন পড়িয়ে গ্রহন করেন ১ হাজার টাকা। তিনিও বিকাল ৫ টা থেকে সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত সময় দেন।
হাসপাতাল রোড, ল’কলেজ সংলগ্ন আব্দুল হাকিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তো নিজেই ক্লাস রুমে এক্সট্রা ক্লাস নাম কওে কোচিং করায় বিকাল ৩ থেকে ৫ টা পর্যন্ত।
সিস্টার ডে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রিমকি। তিনি ব্যাচে ৩২ জন ছাত্রছাত্রী পড়ান বগুড়া রোড পেস্কার বাড়ির নিজ বাসায়। তিনিও ১০০০ টাকা করে নেন এবং সকাল ৭ থেকে সাড়ে ৮টা ও বিকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত সময় দেন।
একই ভাবে আছমত মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ বাসায় ব্যাচে ২০ জন করে নিয়ে বিকাল ৫ টা থেকে ৭টা কোচিং ক্লাস সম্পন্ন করেন।
অভিভাবকরা অভিযোগে আরো জানান, এইসব শিক্ষকরা একধরনের তাদের জিম্মি করেই কোচিং বানিজ্য পরিচালনা করে আসছে। তারা বিদ্যালয়ের ইংরেজি ও অংক বিষয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা। তারা শিক্ষক হয়েও বিদ্যারয়ে শিক্ষা দান না করে অভিভাবকদের বাধ্য করেন ব্যাচে পড়ানোর জন্য। যদি কেউ ব্যাচে না পড়ে তাহলে ওই শিক্ষার্থীর পরিক্ষার খাতায় নাম্বার কমিয়ে দেন এমনকি মাঝে মাঝে ফেল করান। পরে তাদের কাছে ওই বিষয়ে প্রাইভেট নামে কোচিং পড়তে বাধ্য করেন। এতে করে যেমন হয়রানি হচ্ছেন অভিভাবকরা তেমনি ক্ষতির শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবকরা আরো বলেন, আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিক্ষার প্রশ্ন করা হতো উপজেলা থেকে। এখন প্রশ্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা করায় তা আরো ঝামেলাপূর্ন হয়ে উঠেছে। যেসব শিক্ষার্থী তাদের কাছে ব্যাচে পড়েন তাদেরকে আগে থেকেই সব জানিয়ে দেয়া হয়। বিশেষ করে ভাটিখানা রোডের বীণাপানি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনসহ প্রশ্নপ্রত্র তৈরির কাজ হয়। যার কারনে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা এই অবৈধ কোচিং বানিজ্যের সাথে বেশি জড়িয়ে পড়েছেন। এর ফলাফল স্বরুপ গত বছরে পিইসি পরিক্ষায় বীণাপানি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জিপিএ ৫ অনেকটা কমে গেছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বীণাপানি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পার্থ সাহা বলেন, তিনি ১৭ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এর মধ্যে তিনি কোন শিক্ষার্থীকে ব্যাচে পড়ান নি। এমনকি তিনি এখনো কোন ব্যাচ করে পড়াচ্ছেন না। যারা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন তারা শুধুমাত্র তাকে হয়রানি করতেই এমন অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে তিনি দাবী করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT