চিকিৎসক সংকটে মামলায় জট | | ajkerparibartan.com চিকিৎসক সংকটে মামলায় জট – ajkerparibartan.com
চিকিৎসক সংকটে মামলায় জট

1:00 am , February 25, 2020

সাঈদ পান্থ ॥ শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সংকটের কারণে অপমৃত্যু ও হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার মামলায় জট লেগে যাচ্ছে। ৮ জনের মধ্যে মাত্র একজন কর্মরত থাকায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে শুরু করে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা ও ময়না তদন্তের কার্যক্রম, সবই করে থাকেন এই একজন চিকিৎসকই। ফলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত তো হচ্ছেই, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতেও বিলম্ব হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৯ জেলার ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শেবামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক, দু’জন সহকারী অধ্যাপক, তিন জন লেকচারার ও একজন মেডিক্যাল অফিসারসহ ৮ জনের পদ রয়েছে। তবে এর অনুকূলে বর্তমানে ফরেনসিক বিভাগে রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। জানা গেছে, এই একজন চিকিৎসকই কলেজের এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার কাজ করছেন। যদিও মাঝে-মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অন্য বিভাগের শিক্ষকরা তাকে সহয়তা করেন। তবে শিক্ষার্থীদের সার্বিক ভবিষ্যত ওই একজন চিকিৎসকের ওপরই নির্ভর করছে। এর বাইরে এ বিভাগে আদালত থেকে পাঠানো বিভিন্ন ধর্ষণ মামলায় ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ছেলে-মেয়েদের বয়স নির্ধারণ, অপমৃত্যু ও হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার ময়না তদন্তে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে। ফলে একজন চিকিৎসকের পক্ষে একসঙ্গে এতগুলো কাজ আলাদাভাবে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রায়ই বিভিন্ন কাজে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়।
অন্যদিকে এই একজন চিকিৎসক যদি ছুটিতে যান, তাহলে পড়তে হয় আরও বিড়ম্বনায়। যদিও ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে এ বিভাগটিতে। শেবাচিম হাসপাতালের শিক্ষক ও চিকিৎসকরা বলছেন, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসকদের বাইরে প্র্যাকটিসের কোনো সুযোগ থাকে না। এরপর আবার এই বিভাগটির দায়িত্বরতদের ওপর সামাজিক চাপও থাকে। নিরাপত্তাজনিত একটি বিষয়ও থাকে। এর মধ্যে আবার সাক্ষী দিতে আদালতেও যেতে হয়। যা কিনা অবসরের পরও কয়েক বছর করতে হয়। কিন্তু সেই হিসেবে আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। ‘তাই সার্বিক দিক বিবেচেনা করেই হয়তো এ বিষয়ে পড়াশোনা করে কেউ আসতে চাচ্ছেন না। আবার মেডিক্যালে বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নেই যে তাকে গ্রেড মার্ক পেয়ে নির্ধারিত সাবজেক্টেই পড়তে হবে। তাই এটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিষয়।’ চিকিৎসকদের মতে, যদি কর্মরত চিকিৎসকদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নন প্র্যাকটিস সম্মানী দেওয়া হয় এবং চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো (৬৫ বছর) হয়, তাহলে ফরেনসিক মেডিসিনসহ বেসিক সাবজেক্টগুলোতে শিক্ষার্থী ও চিকিৎকদের আগ্রহ বাড়বে। এতে করে এখনকার মতো সবাই ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টের দিকে ঝুঁকবে না। এদিকে গত জানুয়ারী মাসে যখন কোন চিকিৎসকই ছিলেন না, তখন অন্য বিভাগের চিকিৎসক দিয়ে কাজ করা হতো। বরিশাল মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, একজন শিক্ষক থাকার কারণে ফরেনসিক মেডিসিনের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান অর্জন করাটা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু শেবামেক হাসপাতালেই নয়, গোটা দেশেই ফরেনসিক মেডিসিন বিষয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষক সংকট থাকছেই। গোটা দেশে ৩৪-৩৫টি মেডিক্যাল কলেজ থাকলেও অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র চারজন। পারিপার্শ্বিক কারণসহ সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় সিনিয়রদের যেমন আগ্রহ ছিল না এই বিষয়ে পড়াশোনা করার, আর এখন বাস্তবতা দেখে আমরাও আগ্রহ হারাচ্ছি।
নতুন যোগদানকৃত ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, সারা দেশেই বেসিক বিষয়গুলোতে একই অবস্থা বিরাজ করছে। যদিও মন্ত্রনালয়ে এই বিষয়ের পাঠগ্রহন ও চাকুরীতে নানা সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে সবাই। বরিশাল মেডিকেলে সংকট রয়েছে। তারপরও ম্যানেজ করে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রবীন আইনজীবী মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, বরিশাল একটি বিভাগীয় শহর। কিন্তু তারপরও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে কোন চিকিৎসক ছিল না। যদিও এখন একজন চিকিৎসক আনা হয়েছে। তাও পর্যাপ্ত নয়। এই বিভাগকে যত বেশি সমৃদ্ধ করা যাবে তত বেশি অপরাধ দমন ও অপরাধিকে চিহ্নিত করতে সহজ হবে। তাই এই বিভাগে আরো সমৃদ্ধ করা দরকার বলে তিনি জানান। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, এই বিভাগটি কলেজ নিয়ন্ত্রন করে। তবে এই বিভাগে আরো গতিশীল করা দরকার। এ ব্যাপারে বরিশাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এসএম সরোয়ার বলেন, ‘এই বিভাগের অবস্থা বরাবরই খারাপ। চিকিৎসক পাওয়া যায় না। সম্প্রতি ফরিদপুর থেকে একজন আনা হয়েছে। এর আগে তো কোন চিকিৎসকই ছিল না।’

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT