দক্ষিণাঞ্চলকে রেল যোগাযোগের আওতায় নেয়ার কার্যক্রমে ধীরগতি | | ajkerparibartan.com দক্ষিণাঞ্চলকে রেল যোগাযোগের আওতায় নেয়ার কার্যক্রমে ধীরগতি – ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলকে রেল যোগাযোগের আওতায় নেয়ার কার্যক্রমে ধীরগতি

1:00 am , February 25, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চলকে রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ-এর বাস্তবায়ন খুব ধীরলয়ে এগুচ্ছে। ফলে রেললাইন বিহীন দক্ষিণাঞ্চলে ট্রেন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতিফলন কবে বাস্তব রূপ লাভ করবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় সন্দেহ রয়েছে এখনো। বিষয়টি নিয়ে রেলপথ মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগ জোরালো করার তাগিদ দিয়েছেন ওয়কিবহাল মহল। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন চালু করার লক্ষ্য থাকলেও তা ২০২৫ সালের মধ্যেও সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটির জন্য কোন দাতাও সংগ্রহ হয়নি এখনো। তবে চীন সহ কয়েকটি দাতা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের এক্ষেত্রে আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ছাড়াও পিপিপি পদ্ধতিতে বিনিয়োগেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনেক আগে থেকেই সরকার প্রধান ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের পদক্ষেপ এখনো খুব একটা জোরালো নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে প্রকল্পটির বাস্তব কাজ শুরুর আগে এলাইনমেন্ট পর্যায়ে কিছুটা বিলম্ব ঘটলেও তা বাস্তবায়নে সমস্যা হবেনা। বৃটিস যুগ থেকে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইতে প্রশ্ন ছিল, ‘রেল লাইন নেই কোন জেলায়’। উত্তর ছিল ‘বরিশাল জেলায়’ ! যদিও বৃটিস যুগেই ফরিদপুরÑবরিশাল রেল লাইন স্থাপনের লক্ষে ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে জরিপ কার্যক্রম শুরু করে বৃটিসÑভারত সরকার। প্রায় ৫০ বছর পরে জরিপ প্রতিবেদন পেশ করা হলেও ‘নদীÑনালার দেশ দক্ষিণাঞ্চলে রেল লাইনে বিপুল সংখ্যক সেতু ও কালভার্ট নির্মান করতে হবে’ বিধায় প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে দেশ বিভাগের পরে পুরনো জরিপের আলোকে পাকিস্তান সরকার ফরিদপুরÑবরিশাল রেল যোগাযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ভুমি অধিগ্রহনও সম্পন্ন করে। কিন্তু এর পরে সে উদোগেও আর খুব বেশী অগ্রগতি হয়নি।
দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুর-এর উদ্যোগে ফরিদপুর প্রান্ত থেকে রেল লাইন নির্মান কাজ শুরু হয়। ১৯৭৪ সালে ফরিদপুর থেকে তালমা পর্যন্ত লাইন নির্মান ও রেল যোগাযোগ শুরু হয়। ১৯৮২ সালে লাইন স্থাপন ও স্টেশন নির্মান সম্পন্ন করে পুকরিয়া পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার রেল যোগাযোগ চালু করা হয়। লাইন নির্মানের লক্ষে ভাংগা পর্যন্ত মাটির কাজও সম্পন্ন হয় এর আগেই। কিন্তু এরশাদ সরকার ক্ষমতা দখলের পরে ১৯৮৩ সালে ফরিদপুরÑবরিশাল রেল লাইন প্রকল্পটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে অধিগ্রহনকৃত ভুমি অবমূক্ত করারও নির্দেশ দেয়। ফলে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বাইরে থাকার বিষয়টি স্থায়ী রূপ লাভ করে।
কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করায় ফরিদপুর থেকে পুকুরিয়া হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত পুনরায় লাইন স্থাপন এবং ভাঙ্গাতে টার্মিনাল ভবন নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২৬ জানুয়ারী ঐ লাইনটি উদ্বোধনও করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৮-এর অক্টোবরে ভাঙ্গা ÑবরিশালÑপায়রা বন্দরÑকুয়াকাটা রেল লইন নির্মানে বিস্তারিত সমীক্ষা ও নকসা প্রনয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে আগামী মার্চের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাবিত এ রেল লাইন, স্টেশন ও জংশন স্থাপনের সমিক্ষা সহ বিস্তারিত নকশা জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পরমর্শক প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি একটি খসড়া এলাইনমেন্ট রেলপথ বিভাগে জমা দেয়ার পরে তা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রস্তাবিত ঐ রেল পথের বেশ কিছু বাঁক সোজা করে রেলের গতি বৃদ্ধি সহ অপ্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহন পরিহার করে তা অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত এ রেলপথের দৈর্ঘও কিছুটা হ্রাস পাবার সম্ভবনা রয়েছে। ভুমির অপব্যবহারও কমবে বলে আশা করছে ওয়াকিবাহল মহল।
সরকারের এ সিদ্ধান্তনুযায়ী পরমর্শক প্রতিষ্ঠানটি ঐ রেলপথের কয়েকটি স্থানে পুনরায় জরিপ পরিচালনা করে নতুন এলাইনমেন্ট তৈরী করবে বলে জানা গেছে। তবে কতদিনে এ কাজটি শেষ হবে তা বলতে পারেনি পরমর্শক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল মহল। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের পরিপূর্ণ নকশা দাখিল করা নিয়েও সংশয় ব্যক্ত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ মহলটি। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা দাখিল সম্ভব হতে পারে বলে রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র আশা করছে। এরপরে ভুমি অধিগ্রহন সম্পন্ন করতেও ২০২১ সাল পেরিয়ে ২০২২-এর প্রথমার্ধ লেগে যেতে পারে। অপরদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক নিয়োগ সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ২০২২-এর জুন পেরিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও তা বাস্তবায়নে নুন্যতম ৫ বছর প্রয়োজন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে রেলপথ বিভাগ থেকে কেউ কোন মন্তব্য না করলেও ২০২৭-এর জুলাই-এর আগে ফরিদপুর-বরিশালÑপায়রা বন্দর-কুয়াকাটা রেলপথ চালুর খুব একটা সম্ভবনা নেই বলে মনে করছেন ওয়াকিবাহল মহল। তবে ইচ্ছে করলে ভাংগাÑবরিশাল সেকসনের ৯৫ কিলোমিটার রেলপথ ৩ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করে রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব বলে মনে করছেন একাধীক কারিগরি বিশেষজ্ঞ।পরমর্শক প্রতিষ্ঠান ভাংগা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রস্তাবিত সিঙ্গেল লেন ব্রডগেজ রেলপথে মোট ১১টি স্টেশনের প্রস্তাব করছে বলে জানা গেছে। এ রেলপথের জংশন থাকছে ফরিদপুরের ভাঙ্গাতেই। যেখান থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রেলপথ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে একটি লাইন পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় এবং অপর একটি লাইন ভাটিয়াপাড়াÑকালনা-নড়াইল-যশোর হয়ে খুলনা ও বেনাপোল লাইনে সংযুক্ত হবে। প্রস্তাবিত ফরিদপুরÑবরিশাল রেলপথে ভাঙ্গা’র পরে টেকেরহাট, মাদারীপুর, গৌরনদী, বরিশাল বিমান বন্দর, বরিশাল মহানগর, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, আমতলী,পয়রা বিমান বন্দর ও পায়রা বন্দর ছাড়াও কুয়াকাটায়ও স্টেশন নির্মানের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ঐ রেলপথ নির্মানে একশ মিটার প্রশস্থ ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভুমি অধিগ্রহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশে^ সর্বপ্রথম যাত্রীবাহী রেল গাড়ী চালু হয় ইংল্যান্ডে ১৮২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। তার ২৮ বছর পরে ভারত উপমহাদেশে রেললাইন চালু হলেও প্রায় দুশ বছর পরে দক্ষিণাঞ্চলকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুনরায় সমীক্ষা চলছে। ভারত উপমহাদেশে প্রথম রেলপথ চালু হয় মুম্বাই থেকে ২৪ মাইল দুরে থানে’তে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল। আর তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা স্টেশন হয়ে ৫৭.২৫ কিলোমিটার রেল লাইন চালু করে ‘ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে’। এর কিছুদিন পরেই ঐ লাইন কুষ্টিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। ১৮৮৫ সালে ঢাকাÑনারায়নগঞ্জের মধ্যে বানিজ্যিকভাবে ১৪.৯৮ কিলোমিটার রেললাইন চালু হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT