রেস্টুরেন্ট রিভার ক্যাফে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা পুলিশ | | ajkerparibartan.com রেস্টুরেন্ট রিভার ক্যাফে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা পুলিশ – ajkerparibartan.com
রেস্টুরেন্ট রিভার ক্যাফে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা পুলিশ

1:00 am , February 21, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর সনামধন্য রেস্টুরেন্ট রিভার ক্যাফে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রেস্টুরেন্ট এর পেছনের অংশ ভেঙ্গে ফেলে সম্মুখে দেয়াল নির্মান করে দিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এমন কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রিভার ক্যাফের স্বত্ত্বাধিকারী বাপ্পী রঞ্জন রায়। আদালত অবমাননা করে পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এমনটা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে পুলিশ সুপারের পক্ষে রেস্টুরেন্ট বন্ধের দায়িত্বে থাকা ১০ উপজেলার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ক্ষমতাবলে পুলিশ লাইন্স এর এই সম্পত্তির লিজ বাতিল করে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেছেন তারা। পুলিশ ব্যারাক নির্মানের জন্য স্থানের প্রয়োজনে এই স্থান প্রয়োজন তাই রেস্টুরেন্ট বন্ধ করা হয়েছে যা পুরোপুরি বৈধ বলে তাদের দাবী। এছাড়া রেস্টুরেন্ট মালিক লিজ বাতিলের বিষয়টিকে নিয়ে অতিরঞ্জিত আচরন করায় তার বিরুদ্ধে সব শেষে এই পদেক্ষেপ গ্রহনে বাধ্য হয়েছেন তারা।
দি রিভার ক্যাফের স্বত্বাধিকারী বাপ্পী রঞ্জন রায় জানান, ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ বরিশাল জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে ব্যবসার জন্য পুলিশ লাইন্স সংলগ্নে ভবন ভাড়া নেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভবনটি তার নামেই বলবৎ রাখা হয়। পরে অগ্রিম ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৯ টাকা দেয়াসহ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভবনটি ডেকোরেশন করেন তিনি। অর্থ ব্যয় হওয়ায় চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ৫১৭৭ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে চুক্তিপত্রটি বাতিল করেন। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাপ্পী রঞ্জন রায়কে চুক্তিপত্র বাতিলের নোটিশ দেয়া হয়। এতে বাপ্পী রঞ্জন সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করলে চুক্তিপত্র বাতিলের আদেশটি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন আদালত। ওই আদেশ থাকাবস্থায় গত বছর ৩ নভেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা রিভার ক্যাফে’র পেছনের অংশ জরুরি ভিত্তিতে অপসারণের নির্দেশ দেন। এরপরও অপসারণ না করলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ক্যাফের পেছনের অংশ ভাংচুর, পানি ও বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় বলে জানান বাপ্পি। এই ঘটনায় বাপ্পী রঞ্জন রায় তার ক্যাফে ভাংচুর, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ যাতে বন্ধ করতে না পারে সেই আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা করেন। এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয় ওই রেস্তোরার পানির সংযোগ।সেই মামলা সূত্রে জানাগেছে, ‘ভাড়াটিয়া চুক্তি অনুযায়ী ‘দি রিভার ক্যাফে’র স্বত্ত্বাধিকারী বাপ্পী রঞ্জন রায় গত বছর অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের ভাড়া পরিশোধ করেন। কিন্তু ভাড়া গ্রহণ করলেও জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাকে কোন প্রকার রসিদ প্রদান করেননি। তার মধ্যে বাপ্পী রঞ্জন রায় ডিসেম্বর মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে গেলে তা গ্রহন করেননি পুলিশ সুপার। বরং ভাড়া গ্রহন না করে তাকে উচ্ছেদের পায়তারা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিলো। তাই ভাড়া পরিশোধের জন্য আদালতে দ্বিতীয় দফায় মামলা করেন বাপ্পী রঞ্জন। বাপ্পী রঞ্জন রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো বিষয়টি নিয়ে আদালতে ১ টি মামলা চলমান ছিলো। কিন্তু তার মধ্যেই গত ২ জানুয়ারি রাতে ‘রিভার ক্যাফে’র পেছনের অংশে উপরে থাকা পানির টাংকি ভেঙে ফেলা হয়। তিনি বলেন, ‘১ জানুয়ারী রাত ১২টায় রিভার ক্যাফে বন্ধ করে সবাই চলে যায়। সেই সুযোগে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পানির টাংকি ভেঙে নিচে ফেলে দেয়া হয়। গত ৫ জানুয়ারি ভাড়াটিয়া চুক্তিশর্ত ভঙ্গ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বন্ধের হুমকি ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ এনে ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে বিবাদী করে মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পর ৮ জানুয়ারি জেলা পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন বাপ্পী রঞ্জন রায়। তার অভিযোগ, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার আইনের লোক হয়েও বেআইনি কাজ করছেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত অবমাননারও অভিযোগ করেন বাপ্পী। তিনি পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ জানান।
গতকাল উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি জানান, পুলিশ সুপার পুরোপুরি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এমনটা করেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা ফের তিনি অমান্য করেছেন। ব্যাক্তিগত আক্রোশের জেরে তিনি রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট এর আদেশের তোয়াক্কা না করে। রেস্টুরেন্ট বন্ধের নামে রেস্টুরেন্টের সম্পত্তির ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিভার ক্যাফের স্বত্ত্বাধিকারী বাপ্পী রঞ্জন রায়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম ওই সময় সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কাজের জন্য ক্যাফেটোরিয়ার পিছনের মাত্র ১২ ফুট জমি দরকার। যা দিতে সে বাধ্য। শুধু সেই টুকু ছাড়ার জন্য তাকে বলা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি মামলাসহ যা যা করছেন তা দুঃখজনক। তিনি ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন আমাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী লোককে দিয়ে ফোন করিয়েছেন। এসপি আরো বলেন, আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, ২০১৩ সালে চুক্তিপত্রটি বাড়িয়ে এক লাফে ২০২৮ সাল পর্যন্ত করা হয়। যা অস্বাভাবিক।
এই বক্তব্য ওই সময় দিলেও গতকাল উচ্ছেদের সময় পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন তবে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি। তার পক্ষে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেন জেলা পুলিশের ১০ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এসময় তারা পুলিশ সুপার নামাজে আছেন বলে জানান। তারা বৈধভাবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। পুলিশ লাইন্সের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য স্থান প্রয়োজন তাই রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান তারা। রেস্টুরেন্ট মালিক লিজ নিয়েছিলো তবে তা বাতিল করা হয়েছে। একাধিক বার বলার পরেও রেস্টুরেন্ট মালিক স্থান ছেড়ে না দেয়ায় পুলিশ লাইন্সের পক্ষ হতে বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT