ছাত্রদলের তৃনমুলের কর্মী সম্মেলন নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার শংকা | | ajkerparibartan.com ছাত্রদলের তৃনমুলের কর্মী সম্মেলন নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার শংকা – ajkerparibartan.com
ছাত্রদলের তৃনমুলের কর্মী সম্মেলন নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার শংকা

1:30 am , February 15, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে সারা দেশে তৃনমুল ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষে ৬ ইউনিটে বিভক্ত হয়ে সারাদেশে কর্মী সম্মেলন করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এর পরিক্রমায় গতকাল নগরীতে এসেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১নং সহ-সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকির, যুগ্ম-সম্পাদক শ্যামল মালুক সহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বরিশাল ইউনিটের প্রধান জাকিরুল ইসলাম জাকির গতকাল শুক্রবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন করেছেন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার ১০ উপজেলার তৃনমূল ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছে সফররত ছাত্রদল নেতারা। তবে এই সফরকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের বিদ্রোহী নেতাদের মাঝে। তাদের দাবী পূর্বের কমিটির পদবীদার এবং বর্তমানে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া স্থানীয় নেতা হওয়া সত্বেও সাংগঠনিক এই সফরের বিষয়ে তাদেরকে কোন ভাবেই জানানো হয়নি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সফররত নেতাদের বক্তব্য অনেকটাই স্পষ্ট। তারা বলছে বর্তমানে যারা নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ যে কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত তাদের সাথে আলোচনা করে নেয়া হবে। আর এ নিয়ে তৃনমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে করা সম্মেলনে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। এ বিষয়ে জানা গেছে, ঘোষিত কমিটির সেরা পদ প্রত্যাশী নেতারা বঞ্চিত হলেও তাদের বলয় ভেঙ্গে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বর্তমান জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এই কারনে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ৬ ভাগে বিভক্ত হয়ে পালন করা হয়েছে। তৃনমুল নেতা কর্মিদের এক করার এ সম্মেলন আরো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হওয়ার শংকায় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সূত্রমতে ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বরিশাল জেলা ও মহানগর এর ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করে। এই কমিটিতে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি করা হয় রেজাউল করিম রনি, এবং সম্পাদক করা হয় মো. হুমায়ুন কবিরকে। এছাড়া ওই কমিটিতে জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি করা হয় তরিকুল ইসলাম তরিক, যুগ্ম- সাধারন সম্পাদক হয় মাসুদ হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় এনামুল হাসানকে। অপরদিকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে মাহাফুজুল আলম ও কামরুল হাসানকে। এছাড়া জেষ্ঠ্য সহ সভাপতি হয় তারেক আল ইমরান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক করা হয়েছে তৌফিকুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় সোহেল রাঢ়িকে। তবে সোহেল রাঢ়ি ওই পদ প্রত্যাখান করে ছিলেন। কারন সে জেলা ছাত্রদলের মূল পদের দাবীদার ছিলেন। এই কমিটি ঘোষনার পরে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। বিদ্রোহী হয়ে ঘোষিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষনা করে। ঝাড়–মিছিল করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির বিরুদ্ধে। এ সময় বেশ কয়েকদিন বঞ্চিতরা পার্টি অফিস দখল নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। অস্ত্র সহ আটক হয় একাধিক ছাত্রদল নেতা। নিজেদের ত্যাগী নেতা দাবী করে তখন থেকেই পদবঞ্চীত নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়ে একাধিক গ্রুপে। যা এখনো বিদ্যমান। ওই সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদের দাবীদার ছিলেন জেলা ছাত্রদলের পূর্বের কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন। তিনিও কমিটির গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের একজন বিদ্রোহী নেতা হিসেবে রয়েছেন। তারা জানায় বরিশাল ছাত্রদলের একটি বড় অংশ তারা নিয়ন্ত্রন করে। যে অংশে রয়েছে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের পরিক্ষিত অনেক তৃনমুল নেতৃবৃন্দ। যারা দলের দূরদিনে রাজপতে পরিক্ষিত। ছাত্রদলের তৃনমূলকে সু-সংগঠিত করার জন্যই যদি এই সাংগঠনিক সফর হয় তবে কেন তাদের এই সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। তাদের বাদ দিয়ে কখনোই বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল পূর্নাঙ্গ না। তারাও পদ-পদবী ছাড়াই নিজেদের মত করে দলের প্রতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পৃথক পৃথক ভাবেও হলেও তারা প্রতিটি কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বলেন, বিগত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি বরিশালে ৬টি পৃথক পৃথক ভাগে ছাত্রদল নেতারাই পালন করেছে। এতে করে প্রমান হয় বরিশালে জেলা ছাত্রদলের একটি বড় অংশ বর্তমানে বিদ্রোহী ছাত্রদল নেতা হিসেবে রয়েছেন। যারা দলের প্রতি শতভাগ নিষ্ঠাবান। তাই তাদের ছাড়া এই সাংগঠনিক সফর তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারবেনা।
এ বিষয়ে সাংগঠনিক সফরে বরিশালে আসা ছাত্রদল ইউনিটের প্রধান জাকিরুল ইসলাম জাকির এর সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, বর্তমানে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে যে ৫ নেতা রয়েছেন তাদের সাথে আলোচনা করে এই অঞ্চলের সকল কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং সামনেও হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী সম্মেলন করেছেন এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী থেকে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় পর্যায়ক্রমে কর্মী সম্মেলন করা হবে। বর্তমানে যারা পদবীদার জেলা ছাত্রদল নেতা তাদের সাথে আলাপ করা হবে বিদ্রোহী ছাত্রনেতাদের বিষয়ে। তারা যদি চায়, তবে বিদ্রোহী নেতাদের নিয়ে সভা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় এই ছাত্রদল নেতা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT