তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ | | ajkerparibartan.com তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ – ajkerparibartan.com
তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

1:00 am , February 15, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর দলিল লেখক হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করায় এসব হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদিপক্ষ। উল্টো মামলা উত্তোলনের জন্য আসামিরা বাদিকে হুমকি অব্যাহত রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন ওইসব পরিবারের সদস্যরা।
সূত্রমতে, সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগ?রের রাজধর গ্রামে ২০১৯ সা?লের ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয় বরিশাল আদালত পাড়ার দলিল লেখক রেজাউল করিম রিয়াজকে। নিহতের স্ত্রী আমেনা আক্তার লিজা তার পরকিয়া প্রেমিক মাসুম হোসেনের সহায়তায় দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রিয়াজকে খাইয়ে দেয়। এরপর রিয়াজ অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে তারা দু’জনসহ ইদ্রিস হোসেন হাবিব নামের অপর এক সহযোগিকে সাথে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজকে ধারালো ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরেরদিন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সন্দেহজনকভাবে নিহত রিয়াজের স্ত্রী লিজাকে আটক করে আদালতে সোর্পদ করে। পরে ১৬৪ ধারায় লিজা আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে। জবানবন্দীতে নিজে এবং মাসুম ও ইদ্রিস মিলে রিয়াজকে হত্যার বিষয়টি বিচারকের কাছে স্বীক রোক্তি প্রদান করে।
হত্যা মামলা সূত্রে আরও জানা গেছে, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বশির প্রায় চার মাস তদন্তের দ্বায়িত্বে থাকলেও হত্যার মূল আসামি মাসুম ও ইদ্রিসকে গ্রেফতার করতে পারেননি। পাশপাশি আসামিদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ ওঠে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরপর তাকে সরিয়ে পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় এসআই ফিরোজ আল মামুনকে। তিনিও ইতোমধ্যে প্রায় নয় মাস অতিবাহিত করলেও মুল ঘাতক মাসুমকে গ্রেফতার করতে পারেননি। পুলিশের এমন ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মোঃ ম?নিরুল ইসলাম রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেননি। এরপর বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তাও একই পন্থায় আসামিদের গ্রেফতার করছেনা। মামলার বাদি অভিযোগ করেন, সস্প্রতি সময়ে আমেনা আক্তার লিজা জামিনে বের হয়েছে। প্রধান আসামি মাসুম গ্রেফতার না হওয়ায় মামলাটির কোন অগ্রগতি হচ্ছেনা। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, মামলা করেছি ভাইকে ফেরত পাবার জন্য নয়, ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচারের জন্য। কিন্তু এখন দেখছি উল্টো মামলা কেন দায়ের করেছি সেজন্য আসামি মাসুমের ভাই মনির ও তার ছেলে সাগরসহ তাদের সহযোগিরা আমাকেসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, আসামি মাসুম একজন পেশাদার খুনি। এ ঘটনার আগেও সে হত্যা মামলার আসামি ছিলো। ঘাতক মাসুম লঞ্চে চাকরি করার সুবাধে বিভিন্ন লোকের সাথে তার সখ্যতা হয়। তারই সূত্রধরে অপরাধ জগতে তার পদার্পন ঘটে। মাসুমের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা বরিশাল, ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে দিনের পর দিন তার (মাসুম) সাথে দেখা করলেও শুধুমাত্র তদন্তকারী কর্মকর্তার চোখে মাসুম পলাতক। এমনকি চরমোনাই এলাকায়ও মধ্যরাতে মাসুমকে দেখলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে খুঁজে পাচ্ছেনা।
পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, দলিল লেখক রিয়াজ হত্যাকান্ডের বাদীর যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার ব্যাপারে কোন ধরনের অভিযোগ থাকে তাহলে লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি আমলে নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT