বরিশাল-ভোলা সেতুর নির্মান শুরু এ বছরে | | ajkerparibartan.com বরিশাল-ভোলা সেতুর নির্মান শুরু এ বছরে – ajkerparibartan.com
বরিশাল-ভোলা সেতুর নির্মান শুরু এ বছরে

3:45 pm , February 13, 2019

মর্তুজা জুয়েল \ বহুল প্রত্যাশিত বরিশাল-ভোলা সড়ককে সেতু নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে চলতি বছরেই। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯ শত ৮৩ কোটি টাকা। সেতু নির্মানের পুরো অর্থায়ন করবে এক্সিম ব্যাংক। সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ভারত, ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশের চারটি বৃহৎ কোম্পানি সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি সম্ভাব্য স্থানে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করেছে এ তিন প্রতিষ্ঠান। তবে সম্ভাব্য তিনটি স্থানের প্রত্যেকটিতেই বরিশালের সঙ্গে ভোলা জেলার সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। তবে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্থানীয় পর্য়ায়ে সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে লাহারহাট-ভেদুরিয়াা পয়েন্টে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করেছেন। নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে খন্ড খন্ড তিনটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সরাসরি বরিশাল-ভোলা জেলাকে সংযুক্ত করা হবে। পৃথক তিনটি সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬ কিলোমিটার ।
সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে যত দ্রæত ভূমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হবে, ততো তারাতারি সেতু নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা যাবে। সেতু বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, চীনের এক্সিম ব্যাংক সেতু নির্মাণের সকল অর্থায়ন করবে। সে ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সকল জটিলতা নিষ্পত্তির প্রয়োজন। অন্যথায় এ সকল বিদেশী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না। এ জন্য সংশ্লিষ্টরা সেতু নির্মাণের স্থান এবং সংযোগ সড়কের স্থানে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
এদিকে ভোলার ২০ লাখ বাসিন্দা সেতু নির্মাণের খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছে । তাদের প্রত্যাশা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলার উৎপাদিত গ্যাস সম্পদ সরবরাহ করে খুবই অল্প সময়ে ভোলা বাংলাদেশের মধ্যে খুবই উন্নত একটি জেলায় পরিণত হবে । পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে বিভাগীয় শহর বরিশালে আসা যাওয়া করতে পারবে । এছাড়া স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস এর ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে শিল্প জেলা হিসেবে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে ভোলা । এছাড়া ভোলার উৎপাদিত কৃষি ও মৎস্য সম্পদের নতুন বাজার তৈরী হবে। এদিকে বর্তমানে চারদিকে নদী বেষ্টিত ভোলা জেলা বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা হিসেবে এখনো বিদ্যমান রয়েছে । এরফলে ভোলাকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় যুক্ত করতে খুব দ্রæতই সেতু নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে বলে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্থানীয়দের নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে ভোলা জেলার ২০ লাখ বাসিন্দাকে রাজধানী ঢাকাতে যেতে হলে নৌপথে বরিশাল কিংবা নৌপথে ল²ীপুর পৌঁছাতে হয়। এরপর যেতে হয় ঢাকা। এতে করে অতিরিক্ত কয়েক ঘন্টা সময়ক্ষেপন হয়। বর্তমানে বরিশাল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরুত্বের ভোলায় পৌঁছাতে নৌপথে সময় লাগছে প্রায় দুই ঘণ্টা । সড়ক পথে পৌঁছাতে হলে মধ্যবর্তী লাহার হাট -ভেদুরিয়া এলাকায় ট্রলার কিংবা ফেরিতে পার হতে সময় লেগে যায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা। কোন কোন সময় ডুবোচয়,জোয়া-ভাটা, কুয়াাশা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা কিংবা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের ।কোন কোন সময় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অপেক্ষা করতে হয় ৭/৭ ঘণ্টা। এছাড়া আবহাওয়া ভালো থাকলেও সন্ধ্যা ৭ টার পর ভোলা জেলা সমস্ত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ রূপান্তরিত হয়। একমাত্র একমাত্র স্পিডবোড এর মাধ্যমে অতি জরুরী কাজে জেলার বাসিন্দারা বরিশালে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এছাড়া তাদের ভোলার বাহিরে যেতে বিকল্প কোন পথ থাকে না । সেতু নির্মাণের ফলে এসকল অবস্থার স্থায়ী সমাপ্তি ঘটবে এর পাশাপাশি ভোলা থেকে বরিশাল ও থুলনা জেলায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হবে। তবে সেতু নির্মানের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষনিক কোন তথ্য প্রদান করতে পারেনি ভোলা জেলা প্রশাসন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT