বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা-ড্রেজার ধ্বংস | | ajkerparibartan.com বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা-ড্রেজার ধ্বংস – ajkerparibartan.com
বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা-ড্রেজার ধ্বংস

3:23 pm , January 18, 2020

বানারীপাড়া প্রতিবেদক \ অবশেষে বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার বেলা ১১টায় নদীর খেজুর বাড়ি এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ আব্দুলøাহ সাদীদের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বালু উত্তোলনকারী সাইফুল ইসলাম শামিম নামের এক ব্যক্তিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এসময় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে আর বালু উত্তোলন করবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়ায় ড্রেজার মেশিনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে ওই ড্রেজার মেশিনটি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার। তিনি ড্রেজারটি ভাড়ায় দিয়েছিলেন। এটি ছেড়ে দেওয়া হলেও বাইশারী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার সন্ধ্যা নদীর চরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা অপর একটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত হাইকোর্ট ( উচ্চ আদালত) সন্ধ্যা ও এর শাখা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা না মেনে বেশ কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে রাত-দিন একাকার করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়।সন্ধ্যা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে উপজেলার বি¯Íীর্ণ এলাকা ।বসতভিটা,শিÿা ও ধর্মী প্রতিষ্ঠান,ফসলী জমি, রা¯Íা-ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। হুমকির মুখে পড়ে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ইলুহার বিহারীলাল একাডেমি স্কুলসহ বহু ধর্মীয়, সামাজিক ও শিÿা প্রতিষ্ঠান।নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙনের সৃষ্টি হলে ইলুহার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য পরিমল হালদার বালুমহাল ইজারা দেয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট দাখিল করেন। রিট ও আবেদনকারীর পÿে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ দেয়ায় প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকে বালুমহাল ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া।এভাবে বালুমহাল ইজারা দেয়া বন্ধ থাকার পর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বালুমহাল ইজারাবিরোধী লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন পরিমল। অভিযোগ রয়েছে যে প্রভাবশালী মহলের চাপেই নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। যদিও এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি পরিমল।তার সরে যাওয়ার পর বালুমহাল ইজারা দেয়ার ÿেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর হলে তড়িঘড়ি ইজারার প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন। ওই ইজারার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে এলাকার মানুষ। গত বছরের আগস্ট মাসে ভাঙনপ্রবণ ৮টি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলনের জন্য টেন্ডার আহŸান করা হলে এর প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় বিÿোভ সমাবেশ মিছিল ও মানববন্ধন করে বিভিন্ন শিÿা প্রতিষ্ঠানের শিÿার্থী সহ সর্ব¯Íরের মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম নদী ভাঙন রোধে জনস্বার্থে বালু মহাল ইজারা না দেওয়ার জন্য সংশিøষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার দেন। কিন্তু তা অমান্য করে টেন্ডার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে জেলা প্রশাসন।এমন পরিস্থিতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার জন্য হাইকোর্টে পৃথক ৩টি রিট করেন বানারীপাড়ার ইলুহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, বানাড়ীপাড়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শরীফউদ্দীন আহম্দ কিসুল ও ইলুহার ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপক চন্দ্র হালদার।শুনানি শেষে শহিদুল ও শরীফউদ্দীনের রিটের পরিপ্রেÿিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া দীপক চন্দ্র হালদারের রিট শুনানি শেষে বালুমহাল এলাকায় ইনজাংশন দেন দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এসব রিট ও ইনজাংশন জারির পরিপ্রেÿিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত হলে নড়েচড়ে বসে ৬টি বালুমহাল ইজারা পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা ঠিকাদার তথা প্রভাবশালী পÿ।রিট ও ইনজাংশনের বিরুদ্ধে আপিল করে তারা। আপিলে হাইকোর্টের দেয়া রায় ৮ সপ্তাহের জন্যে স্থগিত করে বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে শুনানির নির্দেশ দেন আদালত। ৮ সপ্তাহের এই স্থগিতাদেশের সুযোগে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাকি কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয় জেলা প্রশাসন।
এদিকে রিট আবেদন দাখিল করা দীপক চন্দ্র হালদার, শহিদুল ইসলাম ও শরীফউদ্দীন আহম্দ কিসলু পূর্ণ বেঞ্চের শরণাপন্ন হলে সেখানে সবক’টি রিট আবেদন ও আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের নভেম্বর মাসে আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন আদালত। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া অবৈধ হওয়ার পাশাপাশি বালুমহাল ইজারা দেয়ার বিষয়টিও বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু এত কিছুর পরও অব্যাহত থাকে বালু উত্তোলন। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে দিন-রাত একটানা উত্তোলন করা হয় বালু। সেইসঙ্গে ১৮-২০টি বলগেটে এসব বালু পরিবহন করা হয় বিভিন্ন এলাকায়।কেবল ইজারা পাওয়া এলাকাই নয়, জেলা প্রশাসন থেকে টেন্ডার হওয়া ৬টি পয়েন্টের বাইরেও যখন যেখানে খুশি সন্ধ্যা নদীর সেখান থেকেই রাত-দিন বালু ওঠায় ঠিকাদাররা। ফলে নদী তীরবর্তী উজিরপুর ও বানারীপাড়ার বিশাল এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। এদিকে বালু উত্তোলন বন্ধ করায় নদী তীরবর্তী বাসীর মাঝে স্ব¯িÍ ফিরে এসেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT