ডিপথেরিয়ায় স্বপ্ন ভঙ্গ দরিদ্র শান্তার | | ajkerparibartan.com ডিপথেরিয়ায় স্বপ্ন ভঙ্গ দরিদ্র শান্তার – ajkerparibartan.com
ডিপথেরিয়ায় স্বপ্ন ভঙ্গ দরিদ্র শান্তার

3:15 pm , January 18, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক \ মাত্র চার বছর আগেও হাসি-খুশি ও আনন্দে কাটছিলো শান্তার জীবন। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও স্বপ্ন দেখেছিলো উচ্চ শিÿার। তার সব স্বপ্নই আজ অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে। ডিপথেরিয়া রোগ তার সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। রোগাক্রান্ত হয়ে শান্ত আজ শয্যাসায়ী। আচরণ করছেন প্রতিবন্ধির মত। আর রাত হলেই স্বপ্নকে বুকে জড়িয়ে নিরবে কাঁদছে মেয়েটি।
বলছি নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী কেডিসি নামার চর ব¯িÍর হতদরিদ্র দিনমজুর মো. আবু কালাম ফকির ও এলিজা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা শারমিন আক্তার শান্তার কথা। সন্তানের এমন পরিনতি বাবা-মায়ের চোখে-মুখে একে দিয়েছে বিষন্নতার ছাপ। এক দিকে সন্তানের চিকিৎসা, অন্যদিয়ে সংসারের জোয়াল। এক সাথে দুটি সামলাতে গিয়ে নি:শ^ আজ শান্তার পরিবার। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে শান্তার চিকিৎসাও।
শান্তার মা এলিজা বেগম জানান, ‘এক ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে সংসার তাদের। স্বামী মো. আবু কালাম ফকির দিনমজুরের কাজ করেন বিএডিসি’র সারের গোডাউনে। এ থেকে যা উপার্জন তা দিয়ে সংসার চালানোই মুশকিল। তার মধ্যেও উচ্চ শিÿার স্বপ্ন দেখেছিল একমাত্র কন্যা শান্তা। মেয়ের স্বপ্ন পুরনে হতদরিদ্র বাবা তাকে ভর্তি করে দেন স্কুলে। নগরীর বান্দ রোডস্থ ব্যপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ছিলো শান্তা। লেখা-পড়া করে অস্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় সে। গত চার বছর পূর্বে জেএসসি পরীÿায় অংশগ্রহনের কথা ছিলো তার। কিন্তু জেএসসি পরীÿার আগেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শান্তা।
এলিজা বেগম বলেন, ‘শান্ত দিব্যি সুস্থ ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন তার শরীরে জ¦র আসে। পরে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বহিঃর্বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা করাই। চিকিৎসক কয়েকটি পরীÿা নিরীÿা করিয়ে কিছু ওষুধ লিখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু ওই চিকিৎসায় মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতী না হয়ে বরং আরও অবনতী ঘটে। এক পর্যায় শান্তার হাত-পা বেকিয়ে যায় এবং কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবন্ধীদের মতো আচরণ করতে শুরু করে।
এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানায় শান্তার ডিপথেরিয়া হয়েছে। দেশের চিকিৎসায় তার ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই যতদ্রæত সম্ভব তাকে ইন্ডিয়ার মাদ্রাজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক।
এলিজা বলেন, মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা সম্বল ছিলো সবই হারিয়েছি। অনেক কষ্ট করে এক খন্ড জমি কিনেছিলাম। কিন্তু মেয়ের চিকিৎসার জন্য সেটাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন ব¯িÍর এই ঘরটি ছাড়া মাথা গোজার আর কোন জায়গা নেই। সংসারের খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। আর মেয়ের চিকিৎসাও বন্ধ। তাই মানুষের কিছু সাহাজ্য-সহযোগিতাই পারে শান্তার সু-চিকিৎসা ও তার স্বপ্ন ফিরিয়ে দিতে। এজন্য মেয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে তুলতে বৃত্তবানদের কাছে হসযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন শান্তার পরিবার। তাকে সহযোগিতায় অগ্রহীদের ০১৮৪৯-৪৭৪৭১২ অথবা ০১৩০১-২২১৭০৬ নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হল।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT