কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের আছড়ে পড়ে ফারহান-৯ অন্ত.সত্ত্বা মা এবং শিশু পুত্র নিহত ॥ আহত ১০ | | ajkerparibartan.com কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের আছড়ে পড়ে ফারহান-৯ অন্ত.সত্ত্বা মা এবং শিশু পুত্র নিহত ॥ আহত ১০ – ajkerparibartan.com
কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের আছড়ে পড়ে ফারহান-৯ অন্ত.সত্ত্বা মা এবং শিশু পুত্র নিহত ॥ আহত ১০

2:23 pm , January 13, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঘন কুয়াশার কারণে মেঘনায় নোঙ্গর করা এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের উপর আছড়ে পড়েছে বেপরোয়া গতির এমভি ফারহান-৯। এতে কীর্তনখোলা লঞ্চের যাত্রী মা-ছেলে নিহত ও ৮-১০ জন আহত হয়েছে। দুমড়ে মুচড়ে গেছে কীর্তনখোলা লঞ্চের মাঝ বরাবর প্রথম ও দ্বিতীয় তলার অংশ বিশেষ। গতকাল সোমবার প্রথম প্রহরে রাত পৌনে ১টার দিকে হিজলা উপজেলাধীন মেঘনা নদীতে চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত এমভি ফারহান-৯ লঞ্চটি পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চের মাষ্টার ও সুকানিকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের যাত্রী বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভান্ডারিকাঠি গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা মাহমুদা খাতুন (২৫) ও তার ছেলে মোমিন খান (৭)। আহতদের মধ্যে নূরজাহান বেগম (২২), আইফুলা বেগম (৬৫) ও হযরত আলী (৭০)’র নাম জানাগেছে। এদের মধ্যে নূরজাহান বেগমকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে এবং বাকিদের চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ নিহত মা ছেলের মৃতদেহের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। জানাগেছে, ‘রোববার রাত ৯টার দিকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে ৭ শতাধীক যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এমভি কীর্তনখোলা-১০। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের হুলারহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এমভি ফারহান-৯ লঞ্চটি। লঞ্চ দুটি বরিশালের হিজলা উপজেলাধীন চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর মাঝের চর এলাকায় পোঁছলে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের তৃতীয় তলার কেবিনের যাত্রী আলমগীর হোসেন জানান, ‘ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিলো। তাই ঝুকি এড়াতে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চটি পাশর্^বর্তী চড়ে নোঙ্গর করে রাখে। হঠাৎ করেই রাত পৌনে ১টার দিকে বিকট শব্দ আর ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে লঞ্চটি। এতে যাত্রীদের মধ্যে ছোট ছুটি শুরু হয়। পরে যাত্রীরা বুঝতে পারেন তাদের লঞ্চের উপর ফারহান-৯ লঞ্চটি আছরে পড়েছে।
যাত্রী সোহরাব সরদার জানান, ‘কুয়াশার মধ্যে ফারহান লঞ্চটি যখন কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চটির দিকে ছুটে আসছিলো তখন কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সংকেত দিয়েছিলো। তারা ঘন্টি
বাজিয়ে, লাইট মেরে এবং মাইকের মাধ্যমে ফারহান লঞ্চ মাষ্টারসহ সংশ্লিষ্টদের সংকেত দেয়া পরেও কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায় বেপরোয়া গতিতে এসেই কীর্তনখোলা-১০ এর উপর আছরে পড়ে ফারহান-৯ লঞ্চটি। এই দুর্ঘটনার জন্য ফারহান-৯ লঞ্চের মাষ্টার এবং চালকই দায়ি বলে অভিযোগ ওই যাত্রীর।
লঞ্চের ডেকের যাত্রী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, ‘ফারহান লঞ্চটি কীর্তনখোলা লঞ্চের মাঝ বরাবর জোরে ধাক্কা দিয়েছে। এসময় সেখানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বাকেরগঞ্জর বাসিন্দা রুবেল। দুর্ঘটনার রুবেল আহত হলেও তার স্ত্রী এবং শিশু সন্তান ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া ৮-১০ জনের মত যাত্রী আহত হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘রুবেল পেশায় একজন গাড়ি চালাক। তিনি ঢাকায় গাড়ি চালান। এ কারনে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করেন। শীতের ছুটিতে ক’দিন আগেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনা কবলিত হন।
এদিকে ঢাকা সদরঘাট নৌ থানার ওসি রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘দুর্ঘটনা কবলিত এমভি কীর্তনখোলা-১০ রোববার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা সদর ঘাটে এসে পৌছায়। তবে রাতে ঘটনার পর পরই নৌ পুলিশের সহযোগিতায় রুবেলসহ বেশ কয়েকজন যাত্রীকে চাঁদপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া সকালে একজনকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত হওয়া ছাড়াও লঞ্চটির নীচতলা এবং দ্বিতীয় তলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারনে লঞ্চের তলায় ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় রাতেই হতাহতদের নিয়ে চাঁদপুর হয়ে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করা হয়। এই ঘটনায় রোববার সকালে লঞ্চের মাষ্টার ঢাকায় নৌ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘কীর্তনখোল-১০ নিরাপদে চলাচলের লক্ষ্যে সকল প্রকার আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করছে। যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনা করেই ঘন কুয়াশার কারনে রাতে মাঝ নদীতে লঞ্চটি নোঙ্গর করে রাখা হয়। কিন্তু ফারহান-৯ লঞ্চটিতে কোন প্রকার আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। এ কারনেই কুয়াশার মধ্যে ছুটে চলা বেপরোয়া গতির ওই লঞ্চটি এমভি কীর্তনখোলা নদীর মাঝ বরাবর এসে আছরে পড়ে।
এদিকে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বাদল জানান, ‘বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এবং পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুর্ঘটনা কবলিত ফারহান লঞ্চটি তাদের জিম্মায় নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফারহান-৯ লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেণী মর্যাদার মাষ্টার আফতাব হোসেন ও সুকানি আব্দুল হামিদকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘অভ্যন্তরীন নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর ৮১ ক ধারা’ অনুযায়ী ফারহান-৯ লঞ্চটি স্থানীয় থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
তাছাড়া দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, কারোর অবহেলা বা প্রতিযোগিতার কোন বিষয় ছিলো কিনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্নয় করবে তদন্ত কমিটি। তারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  




মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT